ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ বলেছেন, বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান প্রতিবেশী দেশ। ভারতকে বাংলাদেশ সরকারের সহায়তার জন্য আমরা খুবই কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থন রয়েছে। দেশটিতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমরা খুশি। বন্ধুপ্রতীম ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র হওয়ায় বাংলাদেশের সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত সফররত পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে সালমান খুরশিদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
একইদিন শহীদুল হক ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গতকাল সকালে সুজাতা সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, পানি সম্পদ, জ্বালানি, তিস্তার পানি বণ্টন ও পানির স্তর কমে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। শহীদুল হক জানান, আসন্ন নির্বাচনের পর ভারতে সরকারের পরিবর্তন হলেও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হবে না। কূটনৈতিকসূত্র জানায়, খাতভিত্তিক বাধা ও অস্বস্তি দূর করতে যুগ্মসচিব পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। এসব বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো তুলে ধরা সম্ভব হবে। এ প্রস্তাবে বাংলাদেশ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
সীমান্তে হতাহতের ঘটনা কমিয়ে আনতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আরো বেশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে উভয়পক্ষ জোর দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির উপায় খুঁজে বের করার বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিবদ্বয় আলোচনা করেছেন। তিস্তায় পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে জয়েন্ট রিভার কমিশন ও বিশেষজ্ঞদের শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গের গজলদোবা এলাকা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া দুই পররাষ্ট্র সচিবের মধ্যে ভিসা উদারীকরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সফরের তৃতীয় দিনে আজ শহীদুল হক ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব ও বিদ্যুত্ সচিবের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
