চট্টগ্রামে আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনার জট খুলতে শুরু করেছে। গ্রেফতার হওয়া চার আসামির স্বীকারোক্তি এবং আদালতে প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি অনুযায়ী পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে, ছিনতাইয়ের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানায়, লাভের টাকার ভাগ দেয়ার কথা বলে ও নারীসঙ্গের লোভ দেখিয়ে দুই বন্ধুকে বাসা থেকে ডেকে নেয়া হয়। এরপর তাদেরকে মাদক খাইয়ে অচেতন করে খুন করার পর লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র ইত্তেফাককে জানান, গ্রেফতারকৃতরা পুলিশকে বলেছে- নগরীর ষোলশহর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আবুল বশরের নির্দেশে তারা কামরুল ও ফোরকানকে হত্যা করে। পুলিশ আবুল বশরের জড়িত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আবুল বশরকেও আটক করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, চট্টগ্রামে দুই বন্ধুকে নির্মমভাবে খুনের ঘটনায় খাগড়াছড়ি জেলা থেকে গ্রেফতারকৃত ৩ আসামির প্রত্যেককে ৩ দিনের জন্য রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার মহানগর হাকিম সৈয়দ মাশফিক আহমেদ এ আদেশ দেন। রিমান্ডে নেয়া আসামিরা হলেন- বাচা মিয়া, শাহ আলম ও সাহেদ। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী শাহ আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা গতকাল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ গতকাল ইত্তেফাককে এসব তথ্য জানান।
এর আগে গত মঙ্গলবার জোড়া খুনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জাহাঙ্গীরকে নগরীর পলিটেকনিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জাহাঙ্গীরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গত বুধবার ভোরে খাগড়াছড়ির মারিশ্যা এলাকার একটি বাড়ি থেকে বাচা মিয়া, শাহ আলম ও সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর ষোলশহর মোড় এলাকায় একটি খালি প্লটের সেপটিক ট্যাংক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কামরুল ও ফোরকানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
