পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র চা বাগান

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৪, ১৯:১১
এ মুহূর্তে ভারতে উত্পাদিত মোট চায়ের ৩৬ শতাংশ আসে ছোট চা বাগানগুলো থেকে। ভারতের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছোট চা বাগান বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর এবং দার্জিলিং জেলায় প্রায় চল্লিশ হাজার ছোট চা বাগান রয়েছে। ১ লাখ ৫০ হাজার একর জমিতে উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চাষীরা চায়ের আবাদ করেন বিশাল ভারতে রয়েছে বিশাল বিশাল চায়ের বাগান। একেকটা চা বাগানের পরিসর দেখলে রীতিমতো ভিমরি খাওয়ার উপক্রম হয়। এগুলো এখনো চা উত্পাদনের মূল উত্স। কিন্তু এ অবস্থাটা বেশিদিন থাকবে বলে মনে হয় না। উত্পাদনের বিচারে বড় চা বাগানগুলোর জায়গাটা দখল করে নেবে ক্ষুদ্র চা বাগানগুলো। এ মুহূর্তে ভারতে উত্পাদিত মোট চায়ের ৩৬ শতাংশ আসে ছোট চা বাগানগুলো থেকে। ভারতের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছোট চা বাগান বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর এবং দার্জিলিং জেলায় প্রায় চল্লিশ হাজার ছোট চা বাগান রয়েছে। ১ লাখ ৫০ হাজার একর জমিতে উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চাষীরা চায়ের আবাদ করেন। ছোট চা বাগানের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল উত্তরবঙ্গের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। সংখ্যার প্রশ্নে উত্তরবঙ্গে ক্ষুদ্র চা চাষীদের সংখ্যাটা নেহায়েত কম নয়। সমস্যার ভারে ছোট চা বাগানগুলো জর্জরিত। প্রধান সমস্যা হল— কাঁচা চা পাতার ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না ক্ষুদ্র চা চাষীরা। বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র চা চাষীদের সমস্যা মিটাতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে উদ্যোগের দাবি উঠেছে এরইমধ্যে। আর এ দাবিটি উত্থাপিত হয় সম্প্রতি জলপাইগুড়িতে অনুষ্ঠিত কনফেডারেশ অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স এসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সম্মেলনে। এতে এসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় গোপাল চক্রবর্তী তাদের দাবিগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরেন। আসাম, তামিলনাড়ু, ত্রিপুরা, কেরালা, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, হিমাচল প্রদেশ, মিজোরাম ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে ক্ষুদ্র চাষীদের শতাধিক প্রতিনিধি এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা ও নেপাল থেকেও ক্ষুদ্র চা চাষীদের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। কাঁচা চা পাতার জন্য ক্ষুদ্র চা চাষীদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার সমস্যাটা দীর্ঘদিনের। কাঁচা চা পাতার উপযুক্ত মূল্যের নিশ্চয়তা পাওয়ার দাবিতে তারা সোচ্চার রয়েছে অনেকদিন ধরে। কিন্তু কোনো ফল আসছে না। লাভ তো দূরের কথা, ইদানীং লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। গতবছর উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলোয় প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতা উত্পাদনের খরচ পড়েছিল ১৪ ভারতীয় রুপি। কিন্তু ক্ষুদ্র চা চাষীদেরকে এই কাঁচা চা পাতা বিক্রি করতে হয়েছিল গড়ে ১১ রুপি কেজি দরে। উত্তরবঙ্গে প্রতিবছর কাঁচা চা পাতা উত্পন্ন হয় ৬০ কোটি কেজি। এই কাঁচা চা পাতা থেকে উত্পন্ন হয় ১২ কোটি কেজি চা। ভারতের চা পর্ষদের কাছে ক্ষুদ্র চা চাষীদের সমস্যার বিষয়ে সংগঠনগতভাবে সবিস্তারে জানিয়েছে কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স এসোসিয়েশন। তবে সমস্যা নিরসনে একেবারেই যে কিছু করা হচ্ছে না, এমন নয়। চা পর্ষদ ইতিমধ্যেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে চা চাষীদের পরিকাঠামোগত সুযোগ দিতে শুরু করেছে। ক্ষুদ্র চা চাষীদের স্বার্থে চা পর্ষদ আর্থিক সহায়তা দিয়ে উত্তরবঙ্গেই তিনটি চা ফ্যাক্টরি গড়ে তুলেছে। এগুলো পানবাড়ি, ভোটপট্টি ও বেড়ু বাড়িতে। সেইসঙ্গে চা পর্ষদ ছোট পরিসরে ফ্যাক্টরি তৈরির জন্য মোট খরচের ৪০ শতাংশ অনুদান ঘোষণা করেছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এছাড়া উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। লক্ষ্য— উন্নতমানের চা উত্পন্ন করা এবং রপ্তানি বাড়ানো। এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ভারতে ক্ষুদ্র চা চাষীদের ভবিষ্যত্ সম্ভাবনাময়। ২০১৩ সালে সেদেশে ১১৮০ মিলিয়ন কেজি চা উত্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের ছোট চা বাগানগুলোতে কাঁচা চা উত্পন্ন হয়েছে ৪২৫ মিলিয়ন কেজি। দেশের উত্পাদিত মোট চায়ের ৩৬ শতাংশ উত্পাদন হচ্ছে ক্ষুদ্র চা বাগানগুলোতে। ভারতে মোট ক্ষুদ্র চা চাষীর সংখ্যা ২১ লাখ। উত্পাদনের বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০ সাল নাগাদ ভারতের উত্পাদিত চায়ের ৫০ শতাংশ আসবে ছোট চা বাগানগুলো থেকেই। উত্তরবঙ্গে বর্তমানে বটলিফ চা কারখানা রয়েছে ১১০টি। তবে ক্ষুদ্র চা চাষীদের স্বার্থে আরো বটলিফ চা কারখানা দরকার। ভারতের ভাল চায়ের চাহিদা আন্তর্জাজিক বাজারে এখন পর্যন্ত প্রচুর। গুণগতমানসম্পন্ন ভারতীয় চা কিনতে মুখিয়ে থাকে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা। বিশেষ করে রাশিয়া, মিশর ও ইরানের লোকজন ভারতের চা বলতে পাগল। ভাল চা উত্পাদন করতে পারলে রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বৃহত্ চা বাগানগুলোর পাশাপাশি ছোট চা বাগানগুলোও জায়গা করে নেবে। সেজন্য প্রয়োজন সরকারি সহযোগিতা। আর সবার আগে যে জিনিসটির দরকার, তা হল— কাঁচা চা পাতার ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা। এ নিশ্চয়তা পেলে আরো লোকজন ক্ষুদ্র পরিসরে চা চাষে উত্সাহিত হবে। —দ্য হিন্দু অনুসরণে