শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত সেগুলো হলো- কোম্পানির মৌল ভিত্তি, ইপিএস, পিই রেশিও, ডিভিডেন্ড ইয়েল্ড, মুনাফা দেয়ার প্রবণতা, রিজার্ভ ও সঞ্চিতি, সংশ্লিষ্ট খাতের সম্ভাবনা ও আশঙ্কা, এনএভি, শেয়ারের তারল্য (ফ্লোটিং), ঝুঁকির উপাদান (রিস্ক ফ্যাক্টর), কোম্পানির ঋণ এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। এসব টার্মের অর্থ সহজভাবে তুলে ধরে উপস্থাপিত প্রতিবেদনের শেষ পর্ব থাকছে আজ।
ঝুঁকির উপাদান (রিস্ক ফ্যাক্টর): একটি কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ওই কোম্পানির ঝুঁকির উপাদানগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। ঝুঁকির উপদানের মধ্যে রয়েছে বিনিময় হার ঝুঁকি, শিল্পের ঝুঁকি, প্রযুক্তি সংক্রান্ত ঝুঁকি, রাজনৈতিক ঝুঁকি, দেশীয় কিংবা বৈশ্বিক নীতির পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এবং কাজ বন্ধ থাকার পূর্বতন ইতিহাস। বিনিময় হার ঝুঁকি হলো- যদি কোনো কোম্পানি আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকে তবে ওই কোম্পানির এ ঝুঁকি থাকতে পারে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী যদি মনে করেন সামনে বিনিময় হার বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে। আর এজন্য কোম্পানির আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তবে ওই কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করাই ভালো। শিল্পের ঝুঁকি বলতে বুঝায়, কোনো কোম্পানির উত্পাদিত পণ্যের চাহিদাজনিত, কাঁচামালের সরবরাহ এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাজনিত ঝুঁকি। শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভাবতে হবে যে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে নীতির পরিবর্তন হলে কোম্পানির উপর ঝুঁকি বাড়বে কিনা। এছাড়া ওই কোম্পানির কার্যক্রম কখনো বন্ধ ছিল কিনা, সেটি কেন এবং সামনে এ ধরনের কোনো আশঙ্কা রয়েছে কিনা তাও বিনিয়োগের পূর্বে ভাবতে হবে।
কোম্পানির ঋণ: কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ওই কোম্পানির ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে ভাবতে হবে। কোম্পানিতে ঋণ থাকতেই পারে। তবে তার পরিমাণ কতো তা বিবেচনা করতে হবে। দেখতে হবে ওই কোম্পানির সম্পদের তুলনায় ঋণের পরিমাণ কেমন। যদি বেশি হয় তবে তা ইতিবাচক নয়। এছাড়া ওই কোম্পানির ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেনের তুলনায় ঋণ কেমন সেটিও ভাবতে হবে। কারণ যদি ঋণের পরিমাণ বেশি হয় তবে সে কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদে ভালো করা কঠিন।
কোম্পানির ক্যাটাগরি: কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ওই কোম্পানির ক্যাটাগরি কি তা দেখতে হয়। বর্তমানে ৫টি ক্যাটাগরি রয়েছে। এ, বি, জি, এন এবং জেড ক্যাটাগরি। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ‘এ’ ক্যাটাগরি। তবে ক্ষেত্রবিশেষে জেড ক্যাটাগরির শেয়ারও ভালো হতে পারে। ‘এ’ ক্যাটাগরি বলতে বুঝায় যে কোম্পানিগুলো প্রতিবছর ঠিকভাবে এজিএম (বার্ষিক সাধারণ সভা) করে এবং অন্তত ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়। ‘বি’ ক্যাটাগরি হলো ওই কোম্পানিগুলো যারা প্রতিবছর এজিএম করে। কিন্তু ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ প্রদান করে। আর যে কোম্পানিগুলো উত্পাদন শুরু করার আগেই পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে সে কোম্পানিগুলো ‘জি’ ক্যাটাগরিতে থাকে। যে কোম্পানিগুলো উত্পাদন শুরু করার পর বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করে সেগুলো প্রথমে ‘এন’ ক্যাটাগরিতে থাকে। পরবর্তীতে লভ্যাংশ ও এজিএম করার উপর নির্ভর করে ক্যাটাগরি পরিবর্তন হয়। আর ‘জেড’ ক্যাটাগরি হলো যে কোম্পানিগুলো সঠিকভাবে এজিএম করতে ব্যর্থ হয় কিংবা লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয় কিংবা ছয় মাস বা তার চেয়ে বেশি সময় উত্পাদন বন্ধ থাকে।
শেয়ারে বিনিয়োগের সময় কোম্পানির ক্যাটাগরি বিবেচনা করতে হয়। কারণ ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ার তুলনামূলক ভালো। তবে ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ার বা ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারও ভালো হতে পারে। যদি কোনো কোম্পানি পুঞ্জিভূত লোকসান কমাতে লভ্যাংশ কম দেয় কিংবা সঞ্চিতি বাড়াতে লভ্যাংশ কম দেয় বা না দেয়। এসব ক্ষেত্রে ওই কোম্পানি ‘বি’ ক্যাটাগরি বা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকলেও তাতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
ডিএস-৩০: ডিএস-৩০ হচ্ছে- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ৩০টি কোম্পানির দর ওঠানামা নিয়ে করা একটি সূচক। এ ত্রিশটি কোম্পানি ডিএসইর সবচেয়ে বেশি ফ্লোটিং কোম্পানি। কোনোভাবেই এটা ভাবা যাবে না যে এ কোম্পানিগুলোই ডিএসইর শ্রেষ্ঠ ত্রিশ কোম্পানি। উপরন্তু এ কোম্পানিগুলো হলো সবচেয়ে বেশি তরল ও বড় মূলধনের কোম্পানি। মূলধনের আকার ও ফ্লোটিংয়ের উপর ভিত্তি করেই এ সূচক করা হয়।
সার্কিট ব্রেকার: সার্কিট ব্রেকার হলো কোনো কোম্পানির শেয়ার দর যেন একদিনে ১০ শতাংশের চেয়ে বেশি বাড়তে বা কমতে না পারে এজন্য একটি ব্রেকার। এটি ডিএসই থেকে করা হয়। যদি কোনোদিন কোনো কোম্পানির শেয়ার দর ১০ শতাংশের বেশি বাড়তে বা কমে যেতে থাকে তবে সার্কিট ব্রেকারের কারণে ওই কোম্পানির লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।
