নির্বাচনে সহিংসতা

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৪, ২১:৫৩
সহিংসতা, খুনাখুনি, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পালটাধাওয়ার মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে শনিবার শেষ হয়েছে তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন। ওইদিন ৮১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের কথা থাকলেও বিভিন্ন অভিযোগ এবং সহিংসতার ঘটনায় তিনটি উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত রেখেছে কমিশন। প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতা কম থাকলেও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে সহিংসতা লক্ষ করা গেছে এবং তৃতীয় ধাপে তা আরও বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার ধারণা— এর জের ধরে শেষ দুটি ধাপের নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত রাখতে কমিশন বারবার ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা দিলেও তারা তা কার্যকর করতে পারছে না। অনেক এলাকার প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করে কোনো সমাধান পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। আমরা আশা করবো, নির্বাচন কমিশন সহিংসতা বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। যে কোনোভাবেই হোক নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত করতে হবে। তা না হলে এই নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়ে যাবে। রোববারের বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতার খবর প্রচারিত হয়েছে। তৃতীয় ধাপের এ নির্বাচনে অতীতের অরাজকতা আবার নতুনভাবে ফিরে এসেছে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। বেশকিছু উপজেলায় কেন্দ্র দখলের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাড়ি দখলের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসবের প্রতিবাদে কিছু প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করে এলাকায় হরতালের মতো কর্মসূচিও পালন করেছেন। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। উপজেলা নির্বাচন ঘিরে চলছে উত্সবের পরিবেশ। কেবল উপজেলার ভোটার কিংবা প্রার্থীরাই নন, দেশের সবক’টি দল তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান জানতে উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে। এই নির্বাচনের ফলাফল তাদের আগামী দিনের জনপ্রিয়তার আভাস দেবে। আর তাই এ নির্বাচন নির্দলীয় হলেও দেশের সব দল কেন্দ্রীয়ভাবেই সারা দেশের নির্বাচন মনিটরিং করছে। উপজেলার মতো একটি বড় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিশাল জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকে। এলাকার জনগণ অনেকটা উত্সব আর আনন্দের মধ্য দিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। শুরুটা ভালো হলেও দিন যত গড়াচ্ছে নির্বাচন ততই সহিংস হয়ে উঠছে। অনেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেও কোনো সুবিচার পাননি বলে যে অভিযোগ এসেছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা মনে করি, এ ধরনের অভিযোগ যদি সত্য হয় তাহলে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আমরা আশা করি, বাকি দুটি ধাপের নির্বাচনের ব্যাপারে কমিশন এখনই সচেতন হবে এবং নির্বাচনে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করতে সক্রিয় হবে। কিশোরগঞ্জ