সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে অভিযোগ তদন্তের উদ্দেশ্যে ন্যায়পালের উদ্ভব। প্রশাসনিক সকল ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে জনগণের অধিকার রক্ষায় ন্যায়পাল কাজ করে থাকে। যে কোনো ব্যক্তির অভিযোগ বা সংবাদপত্রের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে বা স্বেচ্ছায় প্রশাসনের যে কোনো বিভাগের কার্যক্রম জনগণের অধিকার রক্ষাকারী হিসেবে তদন্ত করতে পারবে। নির্বাহী কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ও লালফিতার দৌরাত্ম্য হ্রাসে ন্যায়পালের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কারণ ন্যায়পাল শুধুমাত্র সংসদের কাছে দায়বদ্ধ একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আমাদের সংবিধান প্রণেতাগণও ন্যায়পালের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন বলেই ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে ন্যায়পালের বিধান রাখা হয়। বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৭ নম্বর অনুচ্ছেদে সংসদে আইন পাস করে ন্যায়পাল ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিধান আছে। কিন্তু কোনো সরকারই এর বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেয়নি। ১৯৮০ সালে ন্যায়পাল আইন পাস করা হলেও পরবর্তী সময়ে সেটা আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন এ ধরনের কাজ করলেও তা দুর্নীতি দমনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাছাড়া ন্যায়পালের কাজ দুর্নীতি দমনের তুলনায় অধিক কার্যকরী ব্যবস্থা। ন্যায়পাল শুধু প্রশাসনিক দুর্নীতি নিয়ে নয় বরং প্রশাসনের সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যবস্থা নেয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ ধারণাকে বিভিন্ন নামে গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের এ দেশে যেখানে প্রতি মুহূর্তে প্রশাসনে নানা অনিয়ম ঘটছে, তা রোধকল্পে জনগণের অধিকার রক্ষাকারী এ সংবিধান প্রদত্ত বিধান কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না?
ঢাকা
