হংকংয়ের কাছে পরাজয় সতর্ক বার্তা

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৪, ২২:০৮
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচ হারলেও তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারিয়ে চমক দেখাতে চেয়েছিল হংকং। সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নবীনতম এই দেশটির। এই আসরে অংশ নেয়ার আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলারও অভিজ্ঞতা ছিল না দলটির। সেই হংকংয়ের প্রথম শিকার হলো বাংলাদেশ। পক্ষান্তরে নেপাল ও আফগানিস্তানকে হারানোর পর দ্বিতীয় রাউন্ড অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশের। হংকংয়ের কাছে হারলেও রানরেটে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় শেষ পর্যন্ত সুপার টেনে ঠাঁই করে নিয়েছে মুশফিকুর রহিমের দল। সুপার টেনকে সামনে রেখে এই ম্যাচ তাই বাংলাদেশের জন্য সতর্ক বার্তা নিয়েই আসলো। নবীন হংকংয়ের কাছে লজ্জাজনক হারের পুরো দেশ হতাশায় ডুবে গেলেও বাংলাদেশের অধিনায়ক মনে করেন, এই পরাজয়ে দলের জন্য একদিকে ভালোই হয়েছে। দল এখন আরো বেশি সতর্ক হয়ে যাবে বলে তার ধারণা, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যে কোনো দল যে কাউকেই হারাতে পারে। হংকং আমাদেরকে, নেপাল আফগানিস্তানকে হারিয়েছে। আরো অনেক দলই এভাবে হেরেছে। তাই আমরাও বড় দলগুলোর বিপক্ষে জিততে পারি। অবশ্যই যে কোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা আমাদের আছে।’ পরাজয়কে দলের জন্য সতর্ক সংকেত উল্লেখ করে মুশফিক বলেন, এটা আমাদের জন্য অবশ্যই সতর্কবার্তা। তিনটা ম্যাচ জিতলে হয়তো এভাবে চিন্তা করতাম না। পরের চারটি বিগ ম্যাচ। আগের দু’ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পাইনি। তবে এতো বাজে ব্যাটিং হবে ভাবিনি। আজকের দিনটা বুঝতে পারছিলাম না, কী হলো। এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসের চেয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের সময় ডিউ বেশি পড়ে। তাই ১৪০ রান হলেও হতো। সাকিব ও আমার পর আর পার্টনারশিপ হয়নি। দ্রুত উইকেট পড়ে যায়। শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। মূলত টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে। তামিম মারতে গিয়ে আউট হয়েছে। সাকিব ভাল স্কোর করছিল। তাকে বিজয় ছাড়া কেউ সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেনি। আমিও সাকিবকে নিয়ে চেষ্টা করছিলাম। সাকিব ভালো শট নিলেও সেখানে ফিল্ডার থাকায় সেটা হয়নি। আমিও বাজে শট খেলে আউট হয়ে গেছি। এটা খুবই হতাশার। তবে টি-টোয়েন্টিতে এটা হতে পারে।’ শেষের দিকে ব্যাটসম্যান নাসিরের দায়বদ্ধতার অভাব ছিল কিনা জানতে চাওয়া হলে মুশফিক বলেন, ‘আসলে দায়িত্ব না নিয়ে খেলার বিষয় নয়। দায়বদ্ধতার অভাব ছিল না। তবে তিনি উইকেটে সেট হওয়ার জন্য একটু সময় নেন। রাজ্জাক ভাই থাকলে তাকে একটু সময় নিতে পারতেন।’ ফর্মে নেই ফরহাদ রেজাও। ব্যাটিং কিংবা বোলিং কোনোটাতেই তার পারফরমেন্স ভালো নয়। শ্রীলংকার বিপক্ষে হোম সিরিজ ও এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভালো কিছুই করতে পারছেন না তিনি। তারপরও তার প্রতি কেন আস্থা রাখা হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে মুশফিক বলেন, ‘তাকে দলে নেয়া হয়, অতিরিক্ত একজন পেস বোলার ও ব্যাটসম্যান হিসেবে। ফরহাদ ভাই চেষ্টা করছেন। তবে হচ্ছে না। তারপরও এই বিশ্বকাপে আগের দুই ম্যাচের উইনিং টিম কম্বিনেশন ভাঙতে চাইনি আমরা।’