মাথা উঁচু করে বিদায়

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৪, ২২:০৮
‘আমরা যখন খেলি জয়ের জন্যই খেলি’- প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এসে যখন এমনটা বলেছিলেন তখনও কণ্ঠটা ছিল বলিষ্ঠ। কিন্তু উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা পায়নি সেই কথা। কিন্তু প্রথম পর্ব যখন শেষ হল তখন ঠিকই সেই কথার মর্ম উদ্ধার করা গেল। বাংলাদেশের সমান দুই ম্যাচ জিতেও খেলা হল না সুপার টেন। তাতে কি? একটা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় মানেই তো আর শেষ নয়। সুন্দর আগামীর স্বপ্নতো দেখা হয়ে গেছে নেপালের। এবার সামনে সেই স্বপ্ন পূরণের চ্যালেঞ্জ। নেপালের অধিনায়ক পরশ খাড়কারও মানছেন তেমনটাই, ‘আসল যাত্রাটা মাত্র শুরু হল।’ শুধু নেপাল নয়, মাথা উঁচু করে বিদায় নিয়েছে আরেক নবাগত দল হংকংও। প্রস্তুতি ম্যাচের দুটিতেই জিতে বড় কোন অঘটনের আভাস আগেই দিয়ে রেখেছিল দলটি। কিন্তু সেই ঝড়টা আসতে একটু দেরিই হয়ে গেল। কিন্তু যখন সেই উত্তাল ঝড় আসলো তাতে উড়ে গেল সাংবাদিক। সেই আক্রমণ এতোটাই ভয়াবহ হল যে, প্রথম দুটি ম্যাচে সহজ জয় পেয়েও সুপার টেনে ওঠা নিয়ে অনেক হিসাব নিকাশ করতে হল বাংলাদেশকে। ম্যাচের আগেই বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের ঘোষণা দিয়ে রাখা হংকং অধিনায়কের ম্যাচ শেষে তাই আকর্ণবিস্তৃত হাসি। মুখে বললেন, ‘আমরা এখন আনন্দে ভাসছি। এতো দর্শকের সামনে স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারানো সত্যিই দারুণ এক ব্যাপার। আইসিসির প্রতিটি সহযোগী দেশেরই এমন স্বপ্ন থাকে। আমার দল যেভাবে পারফরম করেছে তাতে আমি সত্যিই গর্বিত।’ দুদলের কোন দলেরই ক্রিকেট খেলার ইতিহাসটা আজকের নয়। নেপাল ক্রিকেট খেলছে সেই নব্বইয়ের দশক থেকে। আর হংকং তো একবার পাকিস্তানের মাটিতে এশিয়া কাপও খেলে ফেলেছে। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলাটাই অন্যরকম এক অনুভূতি দল দুটির জন্য। পরশ খাড়কা বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা বিশ্বকাপের মঞ্চে সুযোগ পেয়েছি। তাই এটাই আমাদের জন্য বড় একটা অর্জন। তার উপর দুটি জয়ও পেয়েছি আমরা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আমরা বলে রেখেছিলাম আমরা এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যই এসেছি। আশা করি আমাদের এই দুটি জয় আমাদের ক্রিকেটকে অনেক সামনে এগিয়ে নেবে।’ এখান থেকেই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখছেন নেপালের অধিনায়ক, ‘আসল কথা হল, আমাদের যাত্রাটা মাত্র শুরু হল। ঘরে ফিরে আমাদের আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। পরিশ্রমের মধ্যে দিয়েই আমাদের ফলাফল বের করে নিয়ে আসতে হবে।’