অবিশ্বাস্য!

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৪, ২২:০৯
১৪.২ ওভারে ১৯০ রান! ক্রিরেটের দুর্বলতম দলের বিপক্ষে সবলতম দলটিকেও যদি এই লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয় তবুও তাদের বুক কাপবে সন্দেহ নেই। আর সেই তুলনায় নেদারল্যান্ডস তো কোন ছাড়! স্টিফেন মাইবার্গ-টম কুপারদের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং তাণ্ডবে ওভার প্রতি ১৫.৪ রান তুলে মাত্র চার উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্যমাত্র ছুঁয়ে সুপার টেনের দশম সদস্য হিসাবে নিজেদের নাম নিশ্চিত করলো ডাচরা। আর এই রান উত্সবের দিনে তারা গড়েছে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছয়, টি-টোয়েনিতে দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধশতক, আর পাওয়ার প্লেতে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ডও। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা আয়ারল্যান্ডের ওপেনার পল স্টার্লিং ওপেনিংয়ে নেমে যেই ঝড়টা শুরু করেছিলেন তার স্বার্থক পরিসমাপ্তি ঘটান অ্যান্ড্র পয়েন্টার-কেভিন ও’ব্রায়েনরা। তাদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে আইরিশরা নির্ধারিত ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে জমা করে ১৮৯ রানের বিশাল সংগ্রহ। জিম্বাবুয়ে-আরব আমিরাতকে হারিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা আইরিশদের এই ম্যাচ থেকে দরকার ছিল একটি মাত্র পয়েন্টই। আর ১৮৯ রানের বিশাল সংগ্রহের পর নিশ্চিতভাবেই পূর্ণ পয়েন্টের স্বপ্নই দেখছিল তারা। তবে সেই স্বপ্নকে দু:স্বপ্নতে পরিণত করতে খুব বেশি সময় নেননি ডাচ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসে প্রথম বলেই পল স্টার্লিংকে চার মেরে শুরুটা করেন পিটার বোরেন। এরপর দ্বিতীয় ওভারে আসে চারটি ছয়! যার মধ্যে তিনটিই মাইবার্গের। সময় গড়ানোর সাথে সাথে বাড়তে থাকে দু’জনের তাণ্ডবও। প্রথম পঞ্চাশ ছুঁতে তারা সময় নেন ৩.১ ওভার! আর দ্বিতীয় পঞ্চাশে যখন ডাচরা পা রাখে তখন পেরিয়েছে মাত্র ৬.৬ ওভার। পাওয়ারপ্লের ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসাবে বোরেন যখন বিদায় নেন ততক্ষণে হয়ে গেছে পাওয়ার প্লেতে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ডও। ছয় ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে রান ওঠে ৯১! মাত্র ১৭ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে এর আগেই অবশ্য যুবরাজ সিংয়ের পর দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন মাইবার্গ। দলীয় ৯৮ রানের মাইবার্গের বিদায়ে কিছুটা স্বস্তি ফেরে আইরিশ শিবিরে। তবে তার স্থায়ীত্ব ছিল সামান্যই। কেন তাকে আইসিসির অ্যাসোসিয়েট দেশগুলোর মধ্যে সেরা ব্যাটসম্যান বলা হয় তা প্রমাণ করতেই যেন মাঠে নামেন টম কুপার। মাইবার্গ যেখানে শেষ করেছিলেন ঠিক সেখান থেকেই শুরু করেন কুপার। ১৫ বলের এক টর্নেডোতে আইরিশ রান পাহাড়কে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে কুপার্স করেন ৪৫! এরপর বাকি পথটুকু নিরাপদেই পাড়ি দেন ওয়েসলি বারেসি-বেন কুপাররা। দল যখন জয়ের বন্দরে তরী ভেড়ায় তখন ছয়টি উইকেটের পাশাপাশি ডাচদের অবশিষ্ট ছিল তিনটি বলও! টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কা ম্যাচ ছক্কা সাল ভেন্যু নেদারল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড ৩০ ২০১৪ সিলেট নিউজিল্যান্ড-ভারত ২৪ ২০০৯ ক্রাইস্টচার্চ অস্ট্রেলিয়া-ভারত ২৪ ২০১০ ব্রিজটাউন দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড ২৩ ২০০৯ সেঞ্চুরিয়ন নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড ২৩ ২০১৩ অকল্যান্ড টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি খেলোয়াড় দেশ বল প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল যুবরাজ সিং ভারত ১২ ইংল্যান্ড ডারবান ২০০৭ স্টিফেন মাইবার্গ নেদারল্যান্ডস ১৭ আয়ারল্যান্ড সিলেট ২০১৪ পল স্টার্লিং আয়ারল্যান্ড ১৭ আফগানিস্তান দুবাই ২০১২ ডেভিড ওয়ার্নার অস্ট্রেলিয়া ১৮ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিডনি ২০১০ ডেভিড ওয়ার্নার অস্ট্রেলিয়া ১৯ দক্ষিণ আফ্রিকা মেলবোর্ন ২০০৯