দিনের প্রথম ম্যাচে আরব আমিরাতকে হারিয়ে বি গ্রুপ থেকে সুপার টেনে ওঠার লড়াইটা আগেই জমিয়ে তুলেছিল জিম্বাবুয়ে। আয়ারল্যান্ডের সমান পয়েন্ট নিয়েও নেট রান রেটে তাদের চেয়ে খানিকটা এগিয়ে থেকে সুপার টেনে উত্তরণের লড়াইয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে ছিল তারাই। কোন মতে জিতলেই চলবে, হারলেও থাকছে সম্ভাবনা; এমন একটি সমীকরণ সামনে নিয়ে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে খেলতে নামা আইরিশদেরও প্রায় সমান সম্ভাবনাই ছিল পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করার।
কিন্তু ঐ যে ক্রিকেটের গৌরবময় অনিশ্চয়তা! মাত্র ১৩.৫ বলে আইরিশদের গড়া রান পাহাড় টপকে রান রেটের বিচারে শেষ পর্যন্ত এই গ্রুপ থেকে সুপার টেনে উঠলো আলোচনার প্রায় বাইরে থাকা নেদারল্যান্ডস।
প্রথম ম্যাচে আইরিশদের কাছে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে লড়াইয়ে হারানো জিম্বাবুয়ের সামনে গতকাল সিলেট স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষ ছিল আরব আমিরাত। সুপার টেনের আশা বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে বল হাতে দারুণ সূচনা এনে দেন দুই উদ্বোধনী বোলার প্রসপার উতসেয়া এবং টেন্ডাই চাতারা। তাদের দুজনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাওয়ার প্লের ওভারগুলোতে মাত্র ৩১ রান তুলতেই আমিরাত হারায় দুটি উইকেট। এরপর শন উইলিয়ামস ও সিকান্দার রাজা আক্রমণে আসলে আরো বিপদে পড়ে যায় তারা। এই দুই স্পিনার নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিতে থাকলে নির্ধারিত ওভার শেষে আমিরাতের ইনিংস থেকে যায় ১১৬ রানে। স্বপ্নীল পাতিলের কাছ থেকে আসে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩০ রান। অন্যদিকে উইলিয়ামস তিনটি ও রাজা দুটি উইকেট নেন।
রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ভাল হয়নি জিম্বাবুয়েরও। এক পর্যায়ে ৩৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে ফেলা ব্রেন্ডন টেইলরের দল শেষ পর্যন্ত পথে ফেরে এলটন চিগুম্বুরার ব্যাটে। এই অলরাউন্ডারের ২১ বলে অপরাজিত ৫৩ রানের এক ইনিংসে শেষ পর্যন্ত পাঁচ উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ জেতে জিম্বাবুয়ে। একই সঙ্গে নিশ্চিত হয়, কোন ম্যাচ না জিতেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে আরব আমিরাতকে।
মাত্র ১৩.৪ ওভারে লক্ষ্য ছুঁয়ে নেট রান রেটে আইরিশদের খানিকটা পেছনে ফেলে জিম্বাবুয়ে। শেষ ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের দারুণ পারফরম্যান্সে ১৮৯ রানের বিশাল স্কোরও গড়ে আয়ারল্যান্ড। লক্ষ্য ছিল যেকোন ব্যবধানে নেদারল্যান্ডকে হারানো। আর ১৪.২ ওভারের মধ্যে নেদারল্যান্ড জিততে না পারলে উঠে যেত জিম্বাবুয়ে।
কিন্তু স্টিফেন মাইবার্গ-টম কুপারদের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৩.৫ ওভারে সেই রান টপকে যায় ডাচরা। ফলে জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ডের সমান দুই ম্যাচ জিতলেও +১.১০৯ নেট রান রেট নিয়ে আপাত শক্তিশালী দুই প্রতিপক্ষকে টপকে সুপার টেনে নাম লেখায় তারাই।
