‘নিজে কর্ম করে নিজে খাই, শান্তিতে আছি’

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৬
বড়দের নিয়ে ব্যস্ত সবাই। সরকারের নীতিও তাদের জন্য। বাজেটে তাদের কি ধরনের সুবিধা দেয়া হবে তা নিয়েও চলে দেনদরবার। গ্যাস সংকট সমাধান, জমিদান, সুদ কমান প্রভৃতি দাবি ও সুবিধা নিয়ে বড় উদ্যোক্তারা চলছেন। আর প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের খবর কেউ রাখে না। হয়তো প্রান্তিক পর্যায়ের এই মানুষগুলোকে উদ্যোক্তা বলতে রাজি হবেন না অনেকেই। কিন্তু আসল বাণিজ্য তারাই করেন। কষ্ট করে সামান্য পুঁজি যুগিয়ে তাদের পথচলা। ঢাকায় একটি টং দোকানেও দেখা যাবে মালিকের সঙ্গে সাহায্যকারীও রয়েছে। তাতে দুই পরিবারের ভরণপোষণ হচ্ছে। অথচ এরা সরকারের খাতাবদ্ধ নয় কিংবা সরকারকে এদের নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। এরকম লাখো উদ্যোগের ছড়াছড়ি আছে বাংলাদেশে। ঢাকাসহ সারাদেশের জেলাশহরগুলোতে এসব কিছু খাতে রাতদিন কাজ হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পখাতের এইসব খাতের হিসাব জিডিপিতেও অন্তর্ভুক্ত হয় না। যদিও হাটেঘাটে সহজেই চোখে পড়ে এসব ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও উত্পাদিত পণ্য। বাঁশ ও বেতের নানা রকম দৃষ্টিনন্দন আসবাবপত্র, মৃিশল্প, ছোটছোট ওয়ার্কশপ, ক্ষুদ্র বুটিক হাউস, সেলাই ঘর, মাছ চাষ প্রকল্প প্রভৃতি খাতে নিয়োজিত শ্রমিকরা দিনভর কাজ করছেন। মজুরিও পাচ্ছেন তারা। ছোট খাটো খাবার দোকানগুলোতেও রয়েছে মানুষের ভিড়। আপাত ক্ষুদ্র উদ্যোগ মনে হলেও এগুলো সবসময়েই সচল থাকছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতও সরকারের সহায়তা পেয়ে থাকে। সরকারি সংজ্ঞামতেও কুটির শিল্পে পড়ে না, এমন ক্ষুদ্র উদ্যোগ বিশেষ করে যেসব শিল্পে জ্বালানি হিসাবে গ্যাস বিদ্যুতের ব্যবহার সীমিত কিংবা ব্যবহার নেই, সেসব শিল্পখাত বলতে গেলে অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে। দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ এসব খাতে আয় করে স্বকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। আবার কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছে। বড় প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিও বেশি। ব্যাংক ঋণ, জামানত প্রভৃতি নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকও ঝুঁকিতে থাকে। কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোগে এসব ঝুটঝামেলা থাকে না। ৩৫ বছর বয়সী মিজানের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়ায়। শাহবাগে লেবুর শরবত বিক্রি করেন। আগে রিকশা চালাতেন। স্ত্রী, এক ছেলে আর এক মেয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকে। রাজধানীতে ফুটপাথেই ঘুমান তিনি। তীব্র তাপদাহে নগরীর অনেক জায়গায় বরফমিশ্রিত এমন লেবুর শরবতেরর আয়োজন চোখে পড়ে। পুুঁজি বলতে পানি, বরফ, চিনি, কয়েকটি গ্লাস, বিট লবন, পানির জার আর ভ্যানের উচ্চতার একটি ছোট মাচা। গরমে হাঁসফাস করতে থাকা নগরবাসী দেদারসে এই শরবত পান করে তৃষ্ণা নিবারণ করছেন। মিজান জানালেন, প্রতিদিন সব মিলিয়ে দুই হাজার টাকা খরচ বাদ দিয়ে ৩ থেকে ৪শ’ টাকা আয় থাকে। এতেই খুশি। বললেন, ‘পেটের তাগিদে দোকান করি। নিজে কর্ম করে নিজে খাই। শান্তিতে আছি।’