ভেজাল পানির ব্যবসা

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৮
মিনারেল ওয়াটারের নামে টাকা দিয়ে দূষিত পানি কিনে পান করছেন নগরবাসী! আর বিশুদ্ধ পানি পান করতে গিয়ে শরীরে ঢুকাচ্ছেন নানা রোগ-জীবাণু। আর এই দূষিত পানি বাজারজাত করছে একশ্রেণির অসাধু পানি ব্যবসায়ী। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মোবাইল কোর্ট এমন তিনটি মিনারেল ওয়াটার উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দূষিত পানি ভর্তি বিপুলসংখ্যক জার জব্দ করে। মালিকসহ ১৫ জনকে জেল-জরিমানা করে। র্যাব-২ এর পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে কারওয়ান বাজার রেলস্টেশনের কাছে ওই তিনটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অস্বাস্থ্যকর, দুর্গন্ধযুক্ত ও পোকা-মাকড়ে ভর্তি পরিবেশে কারখানায় ওয়াসার পানি বোতল ও জারে ভর্তি করতে দেখে কোর্ট। পরে জব্দ করা জারের পানি পরীক্ষা করে দেখা যায়, পানিতে প্রচুর পরিমাণে রোগ-জীবাণু রয়েছে। দূষিত পানি বিক্রির দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক খন্দকার একে আজাদকে মোবাইল কোর্ট ২ বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ৩মাসের কারাদণ্ড দেয়। অপর ১৪ জনের প্রত্যেককে ৭ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে ১৫দিনের কারাদণ্ড প্রদান করে। এরা হলেন কামাল হোসেন, জুয়েল হাওলাদার, মানিক, মো. জসিম, মো. মনির হোসেন, তকবীর, রফিকুল ইসলাম, জামালউদ্দিন, মো. হানিফ, ইছা হাওলাদার, স্বপন ফরাজী, বোরহান উদ্দিন, মীর চন্দ্র দাস ও মোর্শেদ আলম। অভিযুক্তরা মোবাইল কোর্টকে জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে বোতল ও জার ভর্তি করে এই দূষিত পানি রাজধানীর সর্বত্র হোটেল, রেস্তোরাঁ, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে আসছে। স্বাস্থ্যসম্মত মিনারেল ওয়াটার বাজারজাত করে টিকে থাকা সম্ভব নয় বলে তারা এ কাজ করছে। তারা জানায়, রাজধানীর অলি-গলি, পাড়া-মহল্লা ও বস্তি এলাকায় অসংখ্য চায়ের দোকানে তারা এই দূষিত পানি সরবরাহ করে। এছাড়া ফেরি করে ফুটপাত ও বাসে একই পানি বিক্রি করা হয়। ফুটপাতের দোকানে অনেকেই এক টাকা কিম্বা দুই টাকা মূল্যে জারের পানি কিনে খান। যানবাহনের যাত্রীরাও ১০টাকায় বোতলজাত এই পানি কিনতে দ্বিধা করেন না। তারা জানায়, কোন পুঁজি ছাড়াই দূষিত পানি বিক্রি করে সহজেই কোটিপতি হওয়া যায়। এই পানি বোতল কিম্বা জারে ভরে বিক্রি করলে তেমন খরচ হয় না। প্রতিটি জার বিক্রি করা হয় ২০-৩০ টাকায়। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মিনারেল ওয়াটার বাজারজাত করলে প্রতি জার পানির মূল্য পড়ে ৬০-৭০ টাকা। এর পর মুনাফার কথা চিন্তা করতে হয়। তবে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এলাকার সন্ত্রাসীরা এ দূষিত পানি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে বলে তারা অভিযোগ করে। মহাখালী পাবলিক হেলথ ইন্সটিটিউটের খাদ্য পরীক্ষাগার, আইসিডিডিআরবি, সায়েন্স ল্যাবরেটরী ও বিএসটিআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষাগারে যোগাযোগ করে জানা যায়, বাজারে সরবরাহকৃত বোতলজাত পানির ৯৮ ভাগই দূষিত। এটা পরীক্ষায় প্রমাণিত। মহাখালী আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ বিভাগের পরিচালক ডা. এস এম ফারুক বলেন, দূষিত পানি সেবনে ডায়রিয়া এখন মৌসুমি রোগ নয়, সারা বছর ধরেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব থাকে। এছাড়া এ পানি সেবনে কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বে একই মোবাইল কোর্ট রাজধানীতে এ ধরনের দূষিত পানির দেড়শতাধিক কারখানায় অভিযান চালিয়ে জড়িতদের জেল-জরিমানা করেছিলো।