আদালতে থাই পার্লামেন্ট নির্বাচন বাতিল ঘোষণা

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৮
থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচন বাতিল করে দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি গভীর রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়ল। ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার মুখে আয়োজিত নির্বাচন বিরোধী দল বর্জন করেছিল। তারপরেও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে নির্বাচন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা। কিন্তু সেই নির্বাচন বাতিল হওয়ায় চরম সংকটে পড়ে গেলেন তিনি। থাই সংবিধান মেনে সারাদেশে একই দিনে নির্বাচন না হওয়ায় এটি বৈধতা হারিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আদালত। খবর এএফপির। সাংবিধানিক আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, সমগ্র দেশে একই দিনে ওই পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় থাইল্যান্ডের সংবিধানের ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। আদালতের মুখপাত্র গতকাল শুক্রবার জানান, বিচারকদের মধ্যে ৬ জন রায়ের পক্ষে এবং ৩ জন বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। আদালতের রায়ের পর নতুন নির্বাচন কিভাবে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। ইংলাক সিনাওয়াত্রার পুয়া থাই পার্টির একজন মুখপাত্র আদালতের রায়কে ‘দুঃখজনক” অভিহিত করে বলেন, নির্বাচন বাতিলের এ রায় ‘খারাপ নজির স্থাপন করবে’। প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা গত পাঁচ মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা রাজধানী ব্যাংককের সরকারি দফতরসমূহ বন্ধ এবং মাঝে মাঝে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়গুলো অবরোধ করে চলেছে। ইংলাক সিনাওয়াত্রার পতনের দাবিতে এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে তারা এ আন্দোলন করছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ২৩ জন নিহত ও শত শত ব্যক্তি আহত হয়েছে। ভোটগ্রহণের দিন সহিংসতার কারণে ফেব্রুয়ারির দুটি পৃথক তারিখে নির্বাচন আয়োজন করেছিল থাই নির্বাচন কমিশন। কিন্তু থাই সংবিধান অনুযায়ী একই দিনে সারা দেশে ভোটগ্রহণ বাধ্যতামূলক।