আগের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আর দুই দেশের মধ্যে ঘন ঘন হয় না। ফলে এখন দর্শকদের ভারত-পাকিস্তান লড়াই দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হয় বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক টুর্নামেন্টের জন্য। সেরকমই এই ঢাকাতেই নয় মাস পর এমাসেরই শুরুতে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। এবার আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হল না। ১৮ দিন পরই আবার সেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই মুখোমুখি ক্রিকেটের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী; এবারের মঞ্চ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
এই ক’ দিনের ব্যবধানে ফলাফলটা অবশ্য বদলে গেল। এশিয়া কাপের সেই ম্যাচে ভারতকে টানটান ম্যাচে হারিয়েছিল পাকিস্তান। আর গতকাল সব ধরনের বিশ্বকাপে নিজেদের রেকর্ড অক্ষুণ্ন রেখে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটের সহজ এক জয় তুলে নিলো ভারত। পাকিস্তানের আগে ব্যাট করে করা ১৩০ রান ভারত টপকে যায় ৯ বল হাতে রেখে।
১৩১ রানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে কখনোই বেগ পেতে হয়নি ভারতকে। উদ্বোধনী জুটিতেই শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা ৫৬ রান যোগ করে দলকে এগিয়ে দেন। শর্মা ২৪ ও ধাওয়ান ৩০ রান করে ফেরেন। পাকিস্তানের প্রধান ভরসা সাইদ আজমল শর্মাকে আউট করলেও সেভাবে ঝলসে উঠতে পারেননি। অবশ্য এই দুই জনের পরপরই ১ রান করা যুবরাজ সিংকে আউট করে ম্যাচে একটু উত্তেজনা এনেছিলেন ভাট্টি।
সে উত্তেজনা শেষ করে দেয় বিরাট কোহলি ও সুরেশ রায়নার ৬৬ রানের জুটি। কোহলি ৩২ বলে ৩৬ এবং রায়না ২৮ বলে ৩৫ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন।
এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটাও হয়েছিল রানআউট দিয়ে, শেষও রানআউটে। এর মাঝে বাকি ব্যাটসম্যানরা খুব বড় কিছু করতে পারলেন তা নয়। মূলত অমিত মিশ্র, রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দন অশ্বিন; তিন স্পিনারের ১২ ওভার প্রায় চুপচাপই থাকলেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। এর ফলেই রানটা আকাশ ছুঁতে পারলো না।
শুরুতেই কামরান আকমলকে হারানোর পর আরেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদ অবশ্য ১৭ বলে ২২ রানের ইনিংস খেলে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু অন্য প্রান্তে ১৫ রানে আউট হয়ে যাওয়া অধিনায়ক হাফিজ সেভাবে তাল মেলাতে পারেনি। আর এই দুইজনকে ফিরিয়ে দেন মিশ্র ও জাদেজা। এরপর উমর আকমল এসে ৩৩ রানের ইনিংস খেললেও তিনি ব্যয় করে ফেলেন ৩০টি বল।
পাকিস্তানের রানটা হয়তো আরও কম হতো, যদি শেষ দুই ওভারে ২৬ রান তুলে না ফেলতে পারতেন শোয়েব মাকসুদরা। শেষ পর্যন্ত শেষ বলে রানআউট হলেও ১১ বলে ২টি চার ও ১টি ছয়ে ২১ রান করে মাকসুদই যা এগিয়ে দিতে পেরেছেন পাকিস্তানকে।
