অনেক বাধা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্জন অসাধারণ

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৪, ২৩:১৬
নিম্ন রাজস্ব আদায়, মাথাপিছু জমির স্বল্পতা, সুশাসনের ঘাটতি, কম উত্পাদনশীলতা ও শিল্পায়নে অনেক বাধা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্জন অসাধারণ। এর মূল কারণ হলো- এদেশের এক বিশাল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তৈরি পোশাক শিল্প এবং বিদেশে কর্মরত জনগোষ্ঠীর প্রেরিত রেমিট্যান্স। গতকাল শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা : দক্ষিণ এশিয়ার অভিজ্ঞতা’ বিষয়ে লোক বক্তৃতায় অর্থনীতিবিদরা এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টারের (আইজিসি) কর্মকাণ্ডের দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা উপলক্ষে আইজিসি এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স স্টাডিজ (আইজিএস) ও ব্র্যাক ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিডিআই) যৌথভাবে এ বক্তৃতার আয়োজন করে। বক্তৃতা করেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স এন্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের (এলএসই) অধ্যাপক রবিন বারজেস, সহযোগী অধ্যাপক ড. জোনাথন লিপও। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘ উন্নয়ন-নীতি বিষয়ক কমিটির সদস্য, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দক্ষিণ এশিয়া শাখার সাবেক মহাপরিচালক ও আইজিএস-বিডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান। অধ্যাপক রবিন বারজেস বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতির দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নতির জন্য দুইটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত এ অঞ্চলের হতদরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, দ্বিতীয়ত শিল্প খাতের উন্নয়ন, যার মাধ্যমে বিপুল জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। তবে বিগত সময়ের তুলনায় পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। কয়েক দশক আগেও মনে করা হতো- উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের পরামর্শগুলো অনেক কার্যকর; কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক ধারণার উন্নতি করেছে। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম, ব্র্যাকের হত-দরিদ্র্যদের নিয়ে কর্মসূচিগুলোকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশের অর্থনীতির দ্বিতীয় ধাপের উন্নয়নের জন্য তিনি গ্রামীণ অর্থনীতির কাঠামো পরিবর্তনের সুপারিশ করেন। এছাড়া সরকারি আমলাতন্ত্রের দক্ষতা বৃদ্ধি, শিল্প উন্নয়ন, নগরায়ন এবং শিল্প স্থাপনের বাধাগুলো অপসারণের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ড. জোনাথন লিপও তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্জন অসাধারণ। দারিদ্র্য হ্রাস, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। অর্থনীতির এ পর্যায় থেকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত এবং টেকসই হতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন ধারণা, নতুন উদ্যোগ তৈরির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অনেক বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগিয়েছে। এজন্য ক্ষুদ্র শিল্প, রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাক খাতের অবদান রয়েছে। দেশের দ্বিতীয় ধাপের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনশক্তি এবং উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন সময়ে এডহক ভিত্তিতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যা টেকসই নয়। টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে যে ধরনের নীতিমালা করা প্রয়োজন তার জন্য গবেষণা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।