পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথম নারী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন মনি চাকমা। রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনজন পুরুষ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। মনি চাকমার এই সাফল্যকে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী নারীদের ক্ষমতায়নে একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন আদিবাসী নারী নেত্রীরা। বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়নের মৃত প্রেমেন্দু চাকমা ও কৃপাদেবী চাকমার সন্তান মনি চাকমার এ পর্যায়ে উঠে আসা সহজ ছিল না। দীর্ঘ সংগ্রাম আর জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ফসল তার চেয়ারম্যান পদে আসীন হওয়া। রাজনীতি এবং উন্নয়নকর্মী হিসেবে মনি চাকমা সুপরিচিত। তিনি সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির দীর্ঘদিনের সক্রিয় কর্মী। এছাড়া বিভিন্ন নারী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মনি চাকমা। ২০০৩ সালে ‘সোসাইটি ফর ইন্ডিজেনাস উইমেন্স প্রোগ্রেস’ (সুইপ) নামে নিজে একটি সংগঠন করে নারীর ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের নারী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য গঠিত ‘চিটাগং হিলট্র্যাকস উইমেন্স নেটওয়ার্ক অর্গানাইজেশনস ফাউন্ডেশনের’ (সিএইচডবিউএনএফ) রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন মনি চাকমা। তিনি ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেন। বরকল উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সেবার অল্প কিছু ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তাতে দমে না গিয়ে তিনি তার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুইপের মাধ্যমে বরকলের দারিদ্র্যপীড়িত দুর্গম অঞ্চলে শুরু করেন নারী ও শিশুবান্ধব কার্যক্রমসহ নানা উন্নয়ন কার্যক্রম। এ কাজের মাধ্যমে তিনি নানা বয়সী নারী-পুরুষ ও পাহাড়ি-বাঙালি সবার বিশ্বাস অর্জন করেন। তাই এবার চেয়ারম্যান পদে তাকে নিজেদের প্রার্থী করতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হয়নি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকেও। মনি চাকমা বলেন, আমার এ অর্জন পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীসহ সব নারী সমাজের অর্জন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাব।
