জীবনের সাফল্য ব্যর্থতা নাকি পুরোপুরিই আপেক্ষিক একটা ব্যাপার। নিজের জীবনকে সফল বলবেন নাকি ব্যর্থ সেটা নির্ধারন করার ক্ষমতা নাকি কেবল ঐ ব্যক্তিরই আছে। তবে কারো জন্ম যদি হয় এমন এক ঘরে যার পিতা তার পিতৃত্বকে অস্বীকার করেছেন। এরপর মায়ের চিকিত্সার খরচ চালাতে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই তাকে নামতে হয়েছে অভিনয়ে। ভাষা, বয়স আর পারিপার্শ্বিকতার চাপ পায়ে ঠেলে সেখানে প্রতিষ্ঠা অর্জনের পর এক সময় পেয়েছেন বলিউডের সর্বকালের অন্যতম সেরা অভিনেত্রীর সম্মানও। পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার, জাতির অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারসহ একজন মানুষের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব এমন সবকিছু। এতকিছুর পরে একজন মানুষকে ‘মানুষ’ হিসাবে সফল তো বলাই যাচ্ছে। হ্যা পাঠক, বলা হচ্ছে হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল নায়িকা ভানুরেখা জানেসানের কথা, সাধারন্যে রেখা নামেই যিনি বেশী পরিচিত।
১৯৫৪ সালে চেন্নাইয়ে তামিল বাবা আর তেলেগু মায়ের ঘরে জন্ম নেয়া রেখাকে জীবনধারনের তাগিদে সিনেমায় নেমে পড়তে হয় অল্প বয়সেই। শিশুশিল্পী হিসাবে তেলেগু ছবি রাঙ্গুলা রাত্নামে অভিনয় করার পর নায়িকা হিসাবে প্রথমবারের মতো সুযোগ পান কানাড়া ছবি অপারেশন জ্যাকপট নালি সিআইডি ৯৯৯ ছবিতে। যদিও সেই সময় পর্যন্ত পিতা-মাতার পরিচয়টা গোপনই রেখেছিলেন রেখা। তবে সত্তর দশকের শুরুতে সিনেমার জন্য বলিউডে চলে আসার পর আর লুকিয়ে রাখা যায়নি সেটা। পরে এক সাক্ষাত্কারে রেখা এসবকিছুই স্বীকার করেন রেখা। তিনি জানান, রেখার জন্মের সময় পিতৃত্ব অস্বীকার করার কারনেই পরবর্তীতে তামিল ছবির বিখ্যাত নায়ক পিতা জেমিনি জানেসানের কথা অস্বীকার করেছিলেন তিনি। তবে অসাধারন অভিনয়শৈলী আর অসাধারন শারীরিক সৌন্দর্য পিতৃপরিচয়হীনতা রেখার অভিনয় জীবনের সাফল্যের পথে বাঁধা হয়ে দাড়ায়নি। দো আনজানে, খুবসুরাত, সিলসিলা আর উমরাওজানের মতো ব্লকবাস্টার একের পর এক উপহার দিয়ে হিন্দী সিনেমার ইতিহাসে নিজের নামকে চিরস্থায়ী করে তোলেন এই অভিনেত্রী।
অমিতাভ বচ্চনের সাথে দারুন দর্শক সফল পর্দা জুটির মতো পর্দার বাইরেও তাদের সম্পর্ক ঝড় তোলে বিশ্বব্যাপী হিন্দী সিনেমার দর্শকদের মনে। যদিও শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়ায়নি সেটি। তবে এসব কিছু বাদ দিয়ে দর্শক মনে একেঁছেন সেই চিরসবুজ রেখাকেই। আর অভিনয় প্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, পদ্মশ্রিসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন রেখা।
