দৃশ্যটি মমতায় ভরা। একজন পরম যত্নে ধরে আছেন এক সন্তানসম্ভবা মাকে। দেখেই এক ধরনের ভালোলাগা কাজ করে। মায়া হয়। শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছে হয়। যাদের কথা বলছি, তাদের দু’জন যাত্রী। অন্যজন হেলপার। বিআরটিসি মহিলা বাসের হেলপার। এমন হেলপার আছে পাঁচ-ছয়জন। কারো চাকরি স্থায়ী হয়েছে। অনেকের এখনও অস্থায়ী। কথা হয়েছে কয়েকজনের সঙ্গে। জানা গেল কত স্বপ্নের কথা। এই পেশায় আসার কথা। ছোট ছোট গল্প আছে তাদের। নিজেদের গল্প। আহারে কতো স্বপ্ন যে বুনে এই মেয়েরা।
সাহানাজ বেগম নামের এক হেলপার বলেন, ভাইরে কাজ করি পেটের দায়ে। তবে ভালো লাগে যখন মানুষের সেবা করতে পারি। এই সবমিলিয়ে ভালো আছি ভাই। তিনি বলেন, আমরা অনেক মেয়েই হেলপার হিসেবে আছি। কাজ করি টাকা পাই। সংসার নিয়ে সুখেই আছি।
হনুফা বেগম নামের এক মেয়ে বলেন, প্রথমে আমার মায় বলছিল- মেয়েমানুষ হয়ে ছেলেদের কাজ করবি কেমনে? আমিও ভয়ে ভয়ে ছিলাম, পারুমতো! এখন মনে হয় কোন কাজই কঠিন না। সব কাজই করতে পারবো। বর্তমানে তিনটি রুটে বিআরটিসির ৪টি বাস চলে। সেবা গ্রহীতাদের দাবি-অফিস শুরু ও শেষের দিক বিবেচনা করে দুটি সময় গাড়ি থাকা এবং গাড়ির সংখ্যা বাড়ানো। ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ বলছেন, তাদের পর্যাপ্ত বাস নেই। ফলে অনেক রুটে সার্ভিস দেয়া এবং গাড়ির সংখ্যা বাড়ানো এখনই সম্ভব নয়। তবে যে রুটে বন্ধ হয়ে গেছে সে রুট অল্প সময়ের মধ্যে চালু করা হবে। নারী নেত্রীরা বলছেন, নারীর অধিকার বাস্তবায়নে নিরাপদ যাতায়াত জরুরি। আর নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, লাভের আসায় নয় বরং নারীর অগ্রযাত্রায় নাগরিক এই সেবা দেয়া সরকারের দায়িত্ব। নারীকে সাবলম্বী করতে সমাজে, সংসারে অর্থনৈতিক ভূমিকা রাখতে সরকারের পরিবহন সুবিধা তাদের চাহিদা মোতাবেক পরিকল্পনা ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা উচিত।
তালতলা, বাসাবো, খিলগাঁও, মুগদা, মতিঝিল, দিলকুশা, প্রেসক্লাব, দৈনিক বাংলা হয়ে জিরো পয়েন্টে এসে থামে দুটি বিআরটিসির মহিলা বাস। দুটি বাস হওয়ায় যাত্রীদের চাপ কিছুটা কম হলেও একবারে নেই বলা যায় না। বাসের ড্রাইভার সুক্কুর আলী ও হেলপার লিপি বেগম বলেন, তারা শুরু থেকে এই বাসে কাজ করছেন। নারীদের সহযোগিতা করার কাজও তাদের অনুপ্রাণিত করে। তাদের সেবার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন যাত্রী সাহানা চৌধুরী। তিনি গতবছর ভাঙ্গা পা নিয়ে অফিস করার সময় তাদের আন্তরিক সহযোগিতা পান বলে জানান।
