ঢাকায় বাংলা একাডেমির আয়োজনে মাসব্যাপী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের বইমেলায় ২৮ দিনে বিক্রি হয়েছে ১৬ কোটি টাকার বই অর্থাত্ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৭ লাখ ১৪ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে। অর্ধকোটি টাকার বেশি। মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর সংখ্যা দিয়ে এই প্রতিদিনের বিক্রিকে ভাগ দিলে গড়ে একজন প্রকাশক প্রায় ১১-১২ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছেন। প্রতিদিনের বিক্রিকে যদি মাসের ২৮ দিন দিয়ে গুণ করা যায় তবে প্রকাশক প্রতি বিক্রির পরিমাণ মাসে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রায়।
অন্যদিকে ১৬ কোটি মানুষের ১৬ কোটি টাকার বই অর্থাত্ জনপ্রতি বছরে ১ টাকার বই বিক্রি হয়েছে ‘শৈবাল দীঘিরে বলে উচ্চ করি শির/ লিখে রেখো এক ফোঁটা দিলাম শিশির’- এর অনুরূপ নয় কি? আর মেলায় নতুন বই বেরিয়েছে প্রায় তিন হাজার। বইমেলাকে টাকার অংকে যারা মেলাবেন মেলান। আমরা একে মেলাতে আগ্রহী প্রাণের মূল্যে। বইমেলা যদি প্রাণের উত্সবই হয়, তবে শুধু বই কেনা এবং বেচার হিসাবে নয়, বইমেলাকে মেলাতে হবে সংস্কৃতির হিসাবেও। বইমেলা আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি ও বইয়ের জগেক কতটা সমৃদ্ধ করলো হিসাব করা প্রয়োজন সেটারই। আমরা যেন সারা বছর বই পড়ি এবং বই কিনি, বই উপহার দিয়ে বইকে জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রাখি, সেই চেতনা ছড়িয়ে দিতে সারা বছর দেশের শহর ও গ্রামে স্থানীয় আয়োজনে বইমেলা করার সরকারি উদ্যোগ চাই। বছরে ১ টাকা নয় অন্তত ৩৬৫ টাকা বই যেন বিক্রি হয় জনপ্রতি। তাহলে জাতির প্রাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে বইমেলা- সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যাবে জাতি।
নূরনবী অন্তু, বাংলাবাজার, ভোলা
