রাজনীতিকদের ভাগ্য তরুণদের হাতে!

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৪, ২২:০৭
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল গণতান্ত্রিক দেশ ভারত। তাইতো দেশটির সাধারণ নির্বাচনকে অনেকেই গণতন্ত্রের উত্সব বলে থাকে। নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১২ মে পর্যন্ত নয় ধাপে লোকসভার ৫৪৩ আসনে ভোট গ্রহণ হবে। ইতিমধ্যে জোর প্রচারণা শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। কেউ পৃথকভাবে আবার কেউ জোটবদ্ধ হয়ে ভোট চাইছে জনতার কাছে। নির্বাচন কমিশনও জোর প্রচারণা চালাচ্ছে ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য। ভারতের এবারের নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ৮১ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এসব ভোটারের মধ্যে প্রায় ১০ কোটিই হলো নতুন ভোটার। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন ও তরুণ ভোটাররাই এবারের নির্বাচনের প্রাণ। সরকার গঠনে তাদের ভূমিকা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এবারের নির্বাচনে নতুন ভোটার মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। আর তরুণ ভোটাররা তো রয়েছেই। নির্বাচন কমিশন ও বিশ্লেষকদের ধারণা, এবার অন্য ভোটারের চেয়ে নতুন ভোটারদের উপস্থিতিই বেশি থাকবে। ২০০৯ সালের নির্বাচনে ৭১ কোটি ৭০ লাখ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছিলো ৪১ কোটি ৭০ লাখ। যা মোট ভোটারের প্রায় ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে ৮১ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের মধ্যে ধারণা করা হচ্ছে ৫৭ কোটি ১২ লাখ ভোটার ভোট দেবে। এ সংখ্যা সত্যি হলে ভোটের হার ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এবার তরুণ ও নতুন ভোটারের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে এই তরুণদেরই টার্গেট করেছে নির্বাচন কমিশন। তাদের কেন্দ্রে আনতে নানা প্রচারণা শুরু করেছে। সহকারী চিফ ইলেকট্ররাল অফিসার অমিতজ্যোতি ভট্টাচার্য জানান, নতুন ভোটারদের টানতে একজনকে রাজ্য আইকন বানানো হয়েছে। যদিও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে জাতীয় আইকন করা হয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামকে। ২০০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার উপস্থিতি ছিলো ৮১ শতাংশের উপরে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ছিলো প্রায় সাড়ে ৮৪ শতাংশ। তবে আশা করা হচ্ছে, এবার ভোটারের হার আরো বাড়বে। তার মতে, পশ্চিমবঙ্গে এবার ২০ লাখ নতুন ভোটার হয়েছে যাদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তারাই এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে, তরুণ ভোটারদের সঙ্গে মিলে এই নতুন ভোটাররা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় সারা ভারতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০০৯ ও ২০১১ সালে যে সব কেন্দ্রে কম ভোট পড়েছিলো সে সব কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি বাড়াতে পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া নতুন ভোটার বৃদ্ধির পর ইভিএম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিরও চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভলপিং সোসাইটিই এর পরিচালক সঞ্জয় কুমার বলেন, অতীতের নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তরুণ ভোটার উপস্থিতি কম ছিলো। ১৯৯৬ সাল থেকে দেখা গেছে, তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি অন্য ভোটারদের চেয়ে ৫ থেকে ৬ শতাংশ কম। তবে এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, দিল্লির বিধানসভার নির্বাচনে আম আদমি পার্টির যে উত্থান তার পেছনে তরুণ ভোটারদের পছন্দই বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। এতে বোঝা যায়, তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বেড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৯ সালের নির্বাচনে লোকসভার ১৫০ আসনে ২০ শতাংশের চেয়ে কম ভোট পেয়ে এমপিরা নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও সারা দেশে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছিলো। গতবার উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও মহারাষ্ট্রে ২০ শতাংশের চেয়ে কম ভোট পেয়ে ১২৫ জন এমপি নির্বাচিত হন। বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী এবার বারানসি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার উদ্দেশ্য হলো এ নির্বাচনের মাধ্যমে উত্তর প্রদেশ ও বিহারের তিন-চতুর্থাংশ আসনের নির্বাচনকে প্রভাবিত করা। বিশেষ করে ভোটারদের মনোযোগ ছিনিয়ে নেয়া। যদিও আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ব্যাপক নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। সতর্ক করে দিয়েছে যে, আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সেই দলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যার মধ্যে পড়ে ভোটারদের প্রভাবিত করতে নানা রকম উপহার দেয়া, লোভ দেখানো ইত্যাদি।