ভুল জায়গায় অবতরণ!

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৪, ২২:০৯
মালয়েশিয়ার হারিয়ে যাওয়া বিমান নিয়ে পুরো পৃথিবীতে হুলস্থুল পড়ে গেছে। এতগুলো যাত্রী নিয়ে কোথায় উধাও হয়ে গেল এত বড় বিমানটা? এ রহস্যের কোন কুলকিনারা বের করতে পারছে না কেউ। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও বিমানটির সন্ধান দিতে পারছে না বিশ্ব মোড়লেরা। প্রথম প্রথম বিমানটি দুর্ঘটনায় সাগরে ধ্বংস হয়ে যাবার কথা বলা হলেও এখন অনেকে পাইলটদের আত্মহত্যার থিওরি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ বলছেন পাইলটরা বা অন্য কেউ বিমানটি হাইজ্যাক করে জনমানবহীন কোন দ্বীপে অবতরণ করেছে। এখন প্রশ্ন হলো রানওয়ে ছাড়া এতবড় বিমান নিরাপদে অবতরণ করানো কী সম্ভব? কি জানি? সম্ভব হলেও হতে পারে। তবে বেশ কিছু বিমানের রানওয়ে ছাড়াই মোটামুটি নিরাপদে অবতরণের রেকর্ড রয়েছে। এমন কয়েকটি বিমানের আজব অবতরণ কাহিনী তুলে ধরা হলো— নিউইয়র্কের রাস্তায় জরুরি অবতরণ এ বছরেরই জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের রাস্তায় জরুরি অবতরণে বাধ্য হয় একটি বিমান। ঐ প্রাইভেট বিমানটিতে দুই বান্ধবীকে নিয়ে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন এক ধনাঢ্য ব্যক্তি। স্ট্যাচু অব লিবার্টির আশেপাশে চক্কর দিয়ে কানেকটিকাটে ফেরার পথে যান্ত্রিক গোলযোগে পড়ে বিমানটি। পাইলট বাধ্য হন নিউইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তাতেই বিমানটি অবতরণ করাতে। ভাগ্য ভালো কোন দুর্ঘটনা ছাড়াই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হন তিনি। সামান্য কেটে ছিঁড়ে যাওয়া ছাড়া মোটামুটি অক্ষতই ছিলেন পাইলট ও তার দুই বান্ধবী। অন্য বিমানের মাথার উপর অবতরণ! ২০০৮ সালে টেক্সাসে ঘটেছিল এই অদ্ভুত কাণ্ড। প্রতিবেশী দুই বন্ধু পাশাপাশি প্লেন চালাতে চালাতে রেডিওতে কথা বলছিলেন পরস্পরের সাথে। তাদের বন্ধুত্বের গাঢ়ত্ব যেন স্পর্শ করে প্লেন দুটিকেও। রানওয়েতে অবতরণের সময় প্লেন দুটি পরস্পরের একেবারে কাছাকাছি চলে আসে এবং পাইলটদের ভুল বুঝাবুঝির কারণে একটি প্লেন অপরটির উপর অবতরণ করে বসে। দুই বন্ধু মনে করেছিল তারা পাশাপাশি অবতরণ করছে। অবাক ব্যাপার, চলন্ত প্লেনের উপর অপর প্লেনটি এসে পড়লেও দুটোই মোটামুটি অক্ষত অবস্থায় অবতরণ করতে সক্ষম হয়। দুই বন্ধুর প্রাণও রক্ষা পায়। অকল্যান্ডের সাগরতীরে অবতরণ এ বছরের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানগুলোতে যান্ত্রিক গোলযোগ যেন লেগেই আছে। জানুয়ারি মাসে অকল্যান্ডের সাগর পাড়ের বালুকা বেলায় হঠাত্ এসে পড়লো এক বিমান। যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য পাইলট বিমানটি সেখানে অবতরণে বাধ্য হন। বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পাইলট ও অপর দুই আরোহী প্রাণে বেঁচে যান। তেমন চোটও পাননি তারা। কিন্তু ক্ষতি একটা হয়ে যায়। সে সময় সেখানে চলছিল বালুর প্রাসাদ নির্মাণ প্রতিযোগিতা। অংশ নিয়েছিল শ’ পাঁচেক প্রতিযোগী। বেরসিক বিমান এসে তাদের সমস্ত বালুর প্রাসাদ ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়ে যায়। আলাস্কার রাস্তায় অবতরণ এটাও এ বছরের জানুয়ারির ঘটনা। যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য আলাস্কার রাস্তায় জরুরি অবতরণে বাধ্য হয় একটি বিমান। গাড়িবহর, রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট, গাছপালা পাশ কাটিয়ে পাইলট বিমানটি কোনমতে অবতরণ করতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় পাইলট ও বিমানে থাকা তার দুই প্রশিক্ষকের কারোরই তেমন চোট লাগেনি। ছাত্রকে তারা ভালোই প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন বোঝা যাচ্ছে। উইলো পার্কের পুরনো রেস ট্র্যাকে অবতরণ এটাও এ বছরের জানুয়ারির ঘটনা। মাটি থেকে ২০০০ ফুট উপরে প্রপেলার খসে পড়ে একটি বিমানের। প্রপেলার ছাড়াই বিমানটিকে টেক্সাসের উইলো পার্কের পরিত্যক্ত একটি কার রেসিং ট্র্যাকে অবতরণ করাতে সক্ষম হন এর বুড়ো পাইলট জ্যাক বার্নেট (৭৯)। ছোটখাটো চোট ছাড়া প্রায় অক্ষতই ছিলেন এই লড়াকু বুড়ো।