বাংলাদেশ দল হংকংয়ের বিপক্ষে হারলেও সুপার টেনে আসাটা নিশ্চিত অন্তত করেছেন সাকিব আল হাসানই। যদিও হার নিয়ে তার দুঃখ আছে। কিন্তু সাকিব বলছেন, এটাই ক্রিকেট। আর সুপার টেন শুরু করার আগে এই কষ্টটা পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার কথাই গতকাল বললেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
হংকংয়ের বিপক্ষে হারের অনুভূতিটা কেমন আসলে?
বুঝতে পারছি যে, বড় বড় দলকে আমরা যখন হারাই, তখন ওদের কেমন লাগে। আমাদেরও আসলে ওরকম লাগছে। অবশ্যই এরকম ম্যাচ, এসব দলের বিপক্ষে ম্যাচ আমাদের হারা উচিত না। তবে আমরা সবসময়ের মতো জয়ের জন্যই খেলেছিলাম। আসলে দু’-একটা ম্যাচ এরকম হতে পারে। এটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এসব ম্যাচে আসলে বোঝা কঠিন যে, কারা কী করবে। তাই এরকম যে হতে পারে না, তা নয়।
এই হার কী প্রমাণ করে যে, আমাদের উন্নতিটা ঠিকমতো হচ্ছে না?
উন্নতি তো হচ্ছেই। উন্নতি না হলে আমরা এতোগুলো ম্যাচও জিততাম না, বিশ্বকাপও এখানে আসতো না এবং আপনাদেরও এই আগ্রহ থাকতো না। তবে উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কিছু খারাপ ঘটনাও ঘটছে। এটাও বুঝতে হবে যে, একবারে আমরা উন্নতি করে চূড়ায় উঠে যেতে পারবো না। আপনি একবারে সাত-আট তলায় উঠতে পারবেন না। একটু উঠবেন, একটু থামবেন; এভাবে এগোতে হবে। ফলে এই যে হার নিয়ে এতো কথা হচ্ছে, এটাও আসলে উন্নতিরই অংশ। আমরা চলার পথে নিয়মিত জিতবো, মাঝে মাঝে দু’-একটা হার আসবে; এটাই কিন্তু স্বাভাবিক। হ্যাঁ, আমরা চেষ্টা করি সব ম্যাচ জেতার। সেটা হয়ে ওঠে না।
এই ধরনের হারে তো গতিটা একটা ধাক্কা খায়...
হ্যাঁ, হারলে মোমেন্টামটা নষ্ট হয়ে যায়।
এই যে হংকংয়ের বিপক্ষে হারে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। এটাকে কীভাবে দেখছেন?
আমি বিশ্বকাপ শুরুর আগেও বলেছি, প্রত্যাশার চেয়ে সমর্থন বেশি দরকার। ভালো করলে আনন্দ করেন, খারাপ করলে সমালোচনা করেন; এটা ঠিক আছে। তবে সমালোচনাটা গঠনমূলক হলে আমাদেরও উপকার হয়।
সুপার টেনে খেলাটা কতোটা কঠিন হবে?
খুব কঠিন। চারটা বিশ্বসেরা দলের বিপক্ষে খেলা। তবে ক্রিকেটের দিক থেকে আমরা অনেক ভালো ক্রিকেটের মুখোমুখি হবো, তাতে সন্দেহ নেই। বড় বড় দলগুলোর বিপক্ষে আমরা ভালোটা খেলতে পারলে অবশ্যই জেতা সম্ভব।
এই দলগুলোর কাছে আমরা ঠিক কোথায় পিছিয়ে থাকি?
দেখুন, এইসব দলের কাছে বিকল্প অপশন, কার্যকর অপশন অনেক বেশি। অনেক পেস ভেরিয়েশন আছে, অনেক ধরনের স্পিনার আছে। ফলে তাদের বিপক্ষে ভালো খেললে আমাদের শতভাগ দিয়ে খেলতে হবে। একই সঙ্গে ওরা যদি ওদের বেস্টে না থাকে ওইদিন তবেই আমাদের জেতার সম্ভাবনা থাকে।
হংকংয়ের বিপক্ষে ওই হার কী সুপার টেনে মনোবলে প্রভাব ফেলবে?
মনোবলের দিক থেকে খুব খারাপ কিছু হয়েছে, তা নয়। আমরা হারটার কথা ভুলে গিয়ে যদি ভাবি, তাহলে আমাদের লক্ষ্য ছিল সুপার টেনে আসা, সেটা হয়েছে। ওখান থেকে কোনো পয়েন্ট আসছে না, তাই আমরা কাগজে কলমে কিছু হারাইনি। এখন ওই অপ্রীতিকর বিষয় যতোটা আমরা ভুলে থাকতে পারবো, আমাদের সামনের খেলার জন্য ততোই ভালো হবে।
আসলে ম্যাচটা আমরা ঠিক কেন হারলাম বলে মনে হয়?
ব্যাটিং। ব্যাটিংটা তো একদমই ভালো হয়নি। আমাদের ৮৬ রান ছিল ১০ ওভারে। ফলে আমাদের ১৬০ রান হওয়া উচিত ছিল। তা না হলে অন্তত ১৫০ রান হওয়া উচিত ছিল। ২৬-২৭ রানে শেষ উইকেটগুলো হারিয়ে ফেলাটা মোটেও ভালো কথা না। তবে আশার কথা হল, সবাই পরিশ্রম করছি। যারা গত ম্যাচে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি, তারাও চেষ্টা করছে ভালোভাবে ফিরে আসার।
সুপার টেনে আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জটা কী হবে?
আমাদের চ্যালেঞ্জ হল, আমাদের সেরাটা খেলা। তারপর অপেক্ষা করা। সেটাই আগে করতে হবে—নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। এটা বারবার বলছি কেন, বড় দলগুলোর এক-দু’ জন খেলোয়াড় থাকে, যারা ম্যাচ বের করে নিতে পারে; আমাদের সেরকম নেই। ফলে আমাদের পুরো টিমটাকে বেস্ট এফোর্ট দিতে হবে। এই জায়গাটায় আমাদের জন্য অনেক কঠিন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে আশাবাদী?
ওয়েস্ট ইন্ডিজ আনপ্রেডিক্টেবল; এটাই সবচেয়ে ভালো ব্যাপার। ওরা সেরাটা খেললে আমরা তো শেষ। সেটা যেন না হয়।
