আশাবাদী, তবে শঙ্কামুক্ত নন মাশরাফি

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৮
যেমনটা আগেই জানা গিয়েছিল, তেমনই গতকাল আইসিসির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে, চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আর খেলতে পারছেন না পেসার রুবেল হোসেন। তার বদলে দলে পেস বোলিং অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমানকে নেয়ার অনুমতিও দিয়েছে আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটি। রুবেলের ব্যাপারটি নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও এখনও সুতোর ওপর ঝুলে আছে মাশরাফির বিশ্বকাপ খেলা, না খেলা। সুখবর হলো, গতকাল ফতুল্লায় দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন মাশরাফি; বলও করেছেন তিনি। তবে তখনও পর্যন্ত দলের ফিজিওথেরাপিস্ট বিভব সিং নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি মাশরাফির খেলা বা না খেলা সম্পর্কে। হংকংয়ের বিপক্ষে রুবেল হোসেন বল হাতে নেয়ার আগেই শিকার হন দুর্ঘটনার। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আব্দুর রাজ্জাকের করা শেষ ডেলিভারিতে শর্ট থার্ডম্যানে কঠিন ক্যাচ দিয়েছিলেন ইরফান। সামনে লম্বা লাফ দিয়ে সেই ক্যাচের লাইনে গেলেও বল হাতে নিতে পারেননি রুবেল। মাঝখান থেকে বোলিং হাত, ডান হাতেরই আঙুলে বড় সড় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। সেদিন তো আর বল করতেই পারেননি। এরপর খারাপ খবরটা আসে যে, রুবেলের আঙুলে চিড় দেখা গেছে। আর ভেতরের কিছু সূত্র বলছে, এই ইনজুরিতে কমপক্ষে দু’সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে রুবেলকে। এদিকে দুই হাঁটুতে সাতটা অপারেশন হয়ে যাওয়া মাশরাফির সর্বশেষ সমস্যা ছিল গোড়ালিতে। তারপর আবার হাঁটুর ফুলে ওঠা নিয়ে ভুগছিলেন। ফলে ইদানিং তাকে প্রতি ম্যাচের আগেই অসহনীয় যন্ত্রণার এক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তবে বর্তমানের সমস্যা এসবের কোনোটাই নয়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বুকের হাড়ে ব্যথা পেয়েছিলেন। সে ব্যথা শুরুতে খুব না ভোগালেও নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বেড়ে যায়। পরে চট্টগ্রামেরই একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করে দেখা যায়, পাঁজরে কোনো চিড় নেই। পরে ঢাকাতে এনে পরীক্ষা করেও মাশরাফির পাঁজরে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তবে গতকাল আবার অন্য একটি সূত্র দাবি করলো, মাশরাফির ব্যথার কারণ হলো, এই চোটে ফুসফুসে পানি জমেছে তার। গতকাল বিভব এটুকু জানালেন যে, মাশরাফির এখন পর্যন্ত অবস্থা আশাবাদী হওয়ার মতো। এই আশাবাদের একটা কারণ মাশরাফির ইতিহাস বলেই দাবি করছেন এই ফিজিও, ‘এই মুহূর্তে তো অবস্থা ভালোই; তেমন ব্যথা নেই। এই মাত্রই তো বল করলো। তবে এখনই মন্তব্য করার সুযোগ নেই। আসলে আমরা এমন একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে কথা বলছি, যে গত ১৪ বছর ধরে ব্যথা নিয়েই অসামান্য ক্রিকেট খেলে যাচ্ছে। ফলে এটা কখনো কখনো সহজ কাজ যে, ওর ওপর অনেক বেশি বিশ্বাস করা যায়। আবার কঠিনও বটে। কারণ, তার শরীরে অজস্র ইনজুরি আছে।’ তবে একই সঙ্গে সতর্কতার ও আশঙ্কার ব্যাপারগুলোও পরিষ্কার করে দিলেন ফিজিও, ‘আজ সে ওয়ার্মআপ করেছে, ফিল্ডিং করেছে, বোলিংও করেছে। তবে আমাদের এখনও কিছু বিষয় দেখতে হবে। আজকে সে পাঁচ ওভার বল করেছে। এখনই আসলে দেখার বিষয়, কী হয়। এখন কয়েক ঘণ্টা পরই বোঝা যাবে, ওর শরীর কি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। যদি ঘণ্টা দুয়েক পরে ব্যথা বেড়ে যায়, তাহলে একটা ব্যাপার; নইলে আলাদা। আসলে আগামীকাল সকালে তাকে দেখলে বোঝা যাবে ২৫ তারিখের বা ২৮ তারিখের ম্যাচে সে থাকতে পারবে কি না। আবার এশিয়া কাপের সময় যে ইনজুরিটা ছিল, পুরানো ইনজুরিগুলো; সেগুলোও দেখতে হচ্ছে। ফলে অনেক কিছুই বিবেচনায় নিতে হবে।’