১৪ মে, ২০১০, সেন্ট লুসিয়া। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। পাকিস্তানের ৬ উইকেটে করা ১৯১ রানের জবাবে খাদের কিনারা থেকে অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তুলে প্রায় অসম্ভব এক জয় এনে দিলেন মাইক হাসি।
চার বছর বাদে গতকাল আবারও সেই একই দৃশ্য। এবারও টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান এক উইকেট কম হারিয়ে করলো ১৯১ রান; কিন্তু এবার আর মাইক হাসি হয়ে উঠতে পারলেন না কেউ। ফলাফল- ১৬ রানে হেরে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেন পর্ব শুরু করলো অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তান সেন্ট লুসিয়ার প্রতিশোধ নিলো ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
পাকিস্তানের জয়ের এই দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছে ভারত।
আগে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় স্পিনারদের সামনে একেবারেই আটকা পড়ে গিয়েছিলো গেইল-স্যামুয়েলসের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রবীন্দ্র জাদেজার শেষ ওভারে ২১ রান তোলার পরও শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি ক্যারিবিয়রা।
জবাব দিতে নেমে বিরাট কোহলির ৫৪ এবং রোহিত শর্মার অপরাজিত ৬২ রানে ভর করে ২ বল থাকতে জয় তুলে নেয় ভারত। শেষ দিকে টানা ১৪ বলে বাউন্ডারি না হওয়ায় একটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল; সে উত্তেজনা শেষ করে জয় তুলে নেয় ভারতীয়রা।
এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে ১৯২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে জুলফিকার বাবরের করা প্রথম ওভারটা বাদ দিলে দুর্দান্ত শুরুই করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দুই উইকেটে আট রান থেকে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ম্যাক্সওয়েল আর অ্যারন ফিঞ্চ। আর এতোটাই বিধ্বংসী হয়ে উঠেছিল এই দুইজনের ব্যাট যে, মাত্র ৬৪ বলে আসলো ১১৮ রান। এর সুবাদে টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের জুটিটা আরেকটু হলে পেয়েই গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
কলম্বোতে ২০১২ সালে ওপেনিংয়ে নেমে ডেভিড ওয়ার্নার ও শেন ওয়াটসন মিলে যোগ করেছিলেন ১৩৩ রান। তারপরও তৃতীয় উইকেট জুটিতে এটা হয়ে থাকলো অস্ট্রেলিয়ার সেরা জুটি। ম্যাক্সওয়েল ৩৩ বলে ৭৪ ও ফিঞ্চ ৫৪ বলে ৬৫ রান করেন।
এই অবস্থা থেকে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় অবধারিতই ধরা হয়; কিন্তু সেটা হতে দিলেন না শহীদ আফ্রিদি, সাঈদ আজমল, উমর গুলরা। ওই দুই ব্যাটসম্যান বাদে আর কেউই পৌঁছাতে পারলেন না দুই অংকের ঘরে। শেষ ৫১ বলে আসলো মাত্র ৪৯ রান, সাথে শেষ আটটি উইকেট পড়লো। এর মধ্য দিয়ে সুপার টেনের দ্বিতীয় ম্যাচে এসে প্রথম জয় পেল পাকিস্তান।
এর আগে ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানেরও ভাল যায়নি শুরুর কয়েকটি ওভার। ২৫ রানের মধ্যে ওপেনার আহমেদ শেহজাদ ও অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ সাজঘরে ফিরেন। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে আসে ৩৬ রান। এরপরও যে ইনিংস শেষে পাঁচ উইকেটে দলটি ১৯১ রান তুলতে পারলো সেটা কেবল আকমল ভাইদের জন্যই। তৃতীয় উইকেট জুটিতে এই দুইজন করেন ৯৬ রান। বল খেলেছেন মাত্র ৫১টি। উমর আকমল ৯৪ ও কামরান আকমল ৩১ রান করেন। শেষের দিকে শহীদ আফ্রিদি ১১ বলে ২০ রানের ঝড়ো এক ইনিংস খেলেন।
অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ডাররা তিনটা ক্যাচ মিস না করলে অবশ্য ম্যাচের ফলাফলটা লেখা হতে পারতো অন্যভাবে!
এদিকে সিলেটে পাকিস্তানের মেয়েদের ৪৪ রানে হারিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েরা।
