বড় ব্যবধানে এগিয়ে আওয়ামী লীগ

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৪, ২৩:৩৪
চতুর্থ ধাপের উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বেশি উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন। এবার বিএনপি-জামায়াত জোটকে টপকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে তারা। যদিও বিএনপি সমর্থিত অনেক প্রার্থী ভোট চলাকালেই বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। ৯১ উপজেলার মধ্যে ৩টি উপজেলার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ৮৮টি উপজেলার ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতানীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৫৪ জন, বিএনপি সমর্থিত ২৫ জন, জামায়াত সমর্থিত ৫ জন এবং অন্যান্য ৪ জন বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহীরাও বিজয়ী হন। আর কক্সবাজারের কুতুৃবদিয়ার ২টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত আছে। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এটিম নুরুল বাসার চৌধুরী আড়াই হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন। পটুয়াখালীর দুমকীতে ৫টি কেন্দ্র স্থগিত থাকার কারণে ফলাফল ঘোষণা বন্ধ আছে। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ৯টি কেন্দ্রের ফল স্থগিত থাকায় ফলাফল বন্ধ আছে। এই দু’টি উপজেলায় অবশ্য এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। এ নিয়ে চার ধাপে ঘোষিত ৩৭৯টির ফলাফলের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ১৭৩টি, বিএনপি ১৪৯টি, জামায়াত ৩২টি এবং অন্যান্য ২৩টি। নির্বাচন কমিশন এই ধাপে ৯৩টির তফসিল ঘোষণা করলেও আদালতের নির্দেশে ২টির নির্বাচন স্থগিত আছে। আওয়ামী লীগের বিজয়ী ৫৪ জন চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ীরা হলেন, ১. ফেনীর ফুলগাজীতে একরামুল হক ইকরাম ২. সোনাগাজীতে জেডএম কামরুল আনাম, ৩. কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে এডভোকেট আব্দুস শহীদ ভুইয়া ৪. ইটনায় চৌধুরী কামরুল হাসান ৫. কটিয়াদিতে আব্দুল ওয়াহহাব আইনুদ্দিন ৬. ভোলার মনপুরায় শেলিনা আক্তার চৌধুরী ৭. তজুমুদ্দিনে অহিদ উল্ল্যাহ জসিম ৮. দৌলতখানে মনজুরুল খান ৯. পিরোজপুর সদরে মজিবুর রহমান খালেক ১০. পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া আশরাফুর রহমান ১১. পাবনার ঈশ্বরদীতে মোখলেছুর রহমান মিন্টু ১২. পাবনার ফরিদপুরে খলিলুর রহমান সরকার ১৩. ঝালকাঠি সদরে সুলতান হোসেন খান ১৪. কাঠালিয়াতে মো. ফারুক সিকদার ১৫. নলছিটিতে ইউনুছ লস্কর ১৬. রাজাপুরে মনিরুজ্জামান মনি ১৭. সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ফিরোজ আহমেদ স্বপন ১৮.খুলনার বাটিয়াঘাটায় আশরাফুল আলম খান ১৯. তেরখাদায় সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু ২০. রুপসায় কামাল উদ্দিন ২১. ফুলতলা এস এম আকরাম ২২. দাকোপে শেখ আবুল হোসেন ২৩. দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে ফরহাদ হাসান চৌধুরী ঈগলু ২৪. সিলেট সদরে আশফাক আহমেদ ২৫. চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আবু মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ ২৬. কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ফিরোজ আল মামুন ২৭. টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে মাজহারুল ইসলাম ঠান্ডু, ২৮. মধুপুরে সারোয়ার আলম খান ২৯. ভুয়াপুরে এডভোকেট আবদুল আলিম ৩০. চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আতাউল হক ৩১. রাউজানে এহসানুল হায়দার চৌধুরী ৩২. রাঙ্গুনিয়ায় মো. আলী শাহ ৩৩. আনোয়ারায় তৌহিদুল হক ৩৪. ফটিছড়িতে তৌহিদুল আলম ৩৫. পটুয়াখালী সদরে তারিকুজ্জামান মনি ৩৬. পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আবু বকর সিদ্দিক (বিদ্রোহী) ৩৭. গলাচিপায় শামসুজ্জামান লিটন ৩৮. বাউফলে ইঞ্জিনিয়ার মজিবর রহমান ৩৯. মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলে রনদীপ কুমার দে ৪০. কমলগঞ্জে রফিকুর রহমান ৪১. যশোর সদরে শাহীন চাকলাদার ৪২. কেশবপুরে আমীর হোসেন ৪৩. বাগেরহাট চিতলমারী মুজিবর রহমান শামীম ৪৪. মোল্লাহাটে মোহাম্মদ শাহীনুল আলম ছানা ৪৫. কুমিল্লার মেঘনায় মো. আবদুস সালাম ৪৬. বরিশালের বানারীপাড়ায় গোলাম ফারুক ৪৭. উজিরপুরে হাফিজুর রহমান ইকবাল ৪৮. আগৈলঝড়ায় গোলাম মোর্তজা খান ৪৯. হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে আলমগীর চৌধুরী ৫০. লাখাই মুশফিউল আলম আজাদ (বিদ্রোহী) ৫১. আজমিরীগঞ্জ মো. আতর আলী (বিদ্রোহী), ৫২. ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মনিরুজ্জামান সরকার ৫৩. ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ফারুক আহমেদ ৫৪. রাজশাহীর বাগমারায় জাকিরুল ইসলাম সান্টু। স্থগিত উপজেলা হলো-সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও শেরপুর সদর। বিএনপির বিজয়ী ২৫ জন বিএনপির বিজয়ীরা হলেন, ১. ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডে মো. আবদুল মজিদ ২. বরগুনার বেতাগীতে মো. শাহজাহান কবির ৩. নেত্রকোনার মদনে এমএ হারেছ ৪. ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ইঞ্জিনিয়ার মোসলেহউদ্দিন ৫. টাঙ্গাইলের নাগরপুরে আব্দুস সামাদ দুলাল ৬. দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে অধ্যক্ষ মো. খুরশীদ আলম মতি ৭. সিলেটের কানাইঘাটে আশিক চৌধুরী ৮. কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মো. গিয়াসউদ্দিন (সংস্কারপন্থী) ৯. সুনামগঞ্জের শাল্লায় গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার ১০. ধর্মপাশায় মোতালিব খান ১১. সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে আব্দুলাহ আল মামুন ১২. চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী ১৩. শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে একে এম মোখলেছুর রহমান রিপন ১৪. নাটোরের বড়াইগ্রামে একরামুল আলম ১৫. মৌলভীবাজার সদরে মিজানুর রহমান মিজান, ১৬. ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জে জিয়াউল ইসলাম মিয়া ১৭. কক্সবাজারের রামুতে আহমেদুল হক চৌধুরী ১৮. বগুড়ার গাবতলী মোরশেদ মিল্টন ১৯. ঢাকার ধামরাইয়ে তমিজ উদ্দীন ২০. নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আব্দুর রহিম ২১. নড়াইল সদর মনিরুজ্জামান ২২. রাজশাহীর পুটিয়ায় আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা (বিদ্রোহী) ২৩. তানোরে ইমরান আলী মোল্লা ২৪. গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হেলালউদ্দিন ২৫. কুমিল্লার বরুড়ায় আবদুল খালেক চৌধুরী। জামায়াতের বিজয়ী ৫ জন জামায়াতের বিজয়ী হলেন,১. জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে মোস্তাফিজুর রহমান, ২. পিরোজপুরের জিয়ানগরে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী ৩. চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মো. জসিমউদ্দিন ৪. বাঁশখালী জহিরুল ইসলাম ৫. বান্দরবানের নাইক্ষংছড়িতে তোফাইল আহম্মদ। অন্যান্য বিজয়ী ৪ জন অন্যান্যর মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন ১. পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় জাতীয় পার্টি-জেপি সমর্থিত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জ্বল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ২. কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে জাতীয় পার্টি-জাপার কামালউদ্দিন ৩. রাঙামাটির জুড়াছড়িতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত উদয় জয় চাকমা ৪. হবিগঞ্জ সদরে সৈয়দ আহমদুল হক (স্বতন্ত্র)। এর আগে তিনধাপে অনুষ্ঠিত ২৯১টি উপজেলায় আওয়ামী লীগ ১২১টি চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করে। বিএনপি পেয়েছিল ১২৪টি চেয়ারম্যানের পদ। জামায়াতে ইসলামী ২৭টি চেয়ারম্যান পদ পায়। অন্যান্যরা পায় ১৯টি। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পরে ও অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ৯৮টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩৫টি, বিএনপি পেয়েছিল ৪৪টি, জামায়াত ইসলামী ১২টি এবং অন্যান্যরা ৮টি। দ্বিতীয় ধাপের গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ও পরবর্তী স্থগিত কেন্দ্রসহ অনুষ্ঠিত ১১৫টি উপজেলার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৪৬টি, বিএনপি ৫২টি, জামায়াত ইসলামী ৮টি এবং অন্যান্য ৯টি। ২৯১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ পায় ৮৮টি, বিএনপি ৮৪, জামায়াত ৭৯ এবং অন্যান্য ৪০টি। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৯৬টি, বিএনপি ১৩৪, জামায়াত ২৫টি এবং ৩৬টি। এর আগে দুই ধাপের ২১৩টি উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৬১টি, বিএনপি ৬৫টি, জামায়াতে ইসলামী ৫৭টি এবং অন্যান্য ৩০টি। এর মধ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ও পরে অনুষ্ঠিত ৯৮টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভাইস চেয়ারম্যান পেয়েছিল ২৬টি, বিএনপি পেয়েছিল ৩৩টি, জামায়াত ইসলামী ২৩টি এবং অন্যান্যরা ১৬টি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ও পরবর্তী স্থগিত কেন্দ্রসহ অনুষ্ঠিত ১১৫টি উপজেলার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩৫টি, বিএনপি ৩২টি, জামায়াত ইসলামী ৩৪টি এবং অন্যান্য ১৪টি। ২১৩টির মধ্যে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ৬৯টি, বিএনপি ৯৫, জামায়াত ২০ ও অন্যান্য ২৯টি। এর মধ্যে প্রথম ধাপে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ৩৩টি, বিএনপি ৩৫, জামায়াত ১০ ও অন্যান্য ২০টি পেয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে আওয়ামী লীগ ৩৬, বিএনপি ৬০, জামায়াত ১০ ও অন্যান্য ৯টি।