দেশের মাছ বাজার আমদানি করা মাছের দখলে চলে গেছে! বাজারে যে সকল দেশীয় মাছ দেখা যায় তার বিশাল অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রুই, চিতল, ইলিশ, টেংরা, বোয়াল, মাগুর, পাবদা, রূপচাঁদা, ছোট চিংড়িসহ নানা রকমের মাছ রয়েছে।
জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভিয়েতনাম, ওমান, পাকিস্তান, ভারত, মিয়ানমার, ইয়েমেন, উরুগুয়েসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব মাছ আমদানি করা হচ্ছে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আরো বহু প্রজাতির মাছ দেশে আমদানি করা হয়; যার অনেকগুলো সাধারণত বাজারে তেমন একটা দেখা যায় না। অনেক প্রজাতির মাছ বিলাসবহুল হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ অভিজাত এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বিদেশ থেকে যেসব মাছ আমদানি করা হয় তার ঘোষিত মূল্য অনেক কম দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আমদানিকারক সূত্রে জানা যায়, কাস্টমসের নিকট ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বাস্তবে আমদানি মূল্য ২/৩ গুণ বেশি। কাস্টমসের নিকট মূল্য কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেয়া হয় বলে জানা গেছে। আমদানি মাছের বাকি মূল্য সাধারণত হুন্ডির মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। দেশে মাছের অপর্যাপ্ততার কারণে প্রতিদিন মাছ আমদানি বাড়ছে এবং মাছ আমদানিকারকের সংখ্যাও অনেক ক্ষেত্রে বেড়ে চলেছে।
সূত্র জানায়, বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা মাছের একটা বিরাট অংশ আবার পুনঃরপ্তানিও হচ্ছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী আরব আমিরাত থেকে সবচেয়ে বেশি যে মাছ আমদানি হয় তার মধ্যে রয়েছে সাদ ফিস, চকোরি ফিস, রিবন ফিস, ব্লক ফ্রোজেন, হোয়াইট ফিস, সিলভার রূপচাঁদা, সমুদ্রের চিংড়ি, কুইন ফিস প্রভৃতি। এর মধ্যে সাদ ও চকোরি ফিস সাধারণত দেশে চন্দনা ইলিশ নামে বিক্রি হয়ে থাকে। ভারত থেকে যেসব মাছ আমদানি করা হয়, তার মধ্যে রয়েছে রুই, কাতল, চকোরি ফিস, কাওয়া ফিস, মউরি ফিস ও রূপচাঁদা।
মিয়ানমার থেকে আমদানি করা মাছের মধ্যে বেশি পরিমাণে আসে কাঁচা ইলিশ, হিমায়িত ইলিশ, রুই, কাতল ও বিভিন্ন ধরনের হিমায়িত মাছ। ওমান থেকে যে সব মাছ আমদানি হয় তার মধ্যে রয়েছে হিমায়িত সাদ ফিস, চকোরি ফিস ও কেট ফিস। পাকিস্তান থেকে বোয়াল, চিতল, কেট ফিস, পাবদা, সাদ ফিস, কাওয়া, টেংরা মাছ আমদানি করা হয়। উরুগুয়ে থেকে আমদানি করা মাছের মধ্যে রয়েছে সাদ ফিস, চকোরি ফিস, গিজার্ড সাদ, কাওয়া, চিতল, পাবদা, কেট ফিস ও রূপচাঁদা (সাদা ও কালো)। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা মাছের মধ্যে রয়েছে সাদ ফিস ও কেট ফিস।
