শেয়ারবাজারে সূচকের পতন চলছেই। মাঝে কয়েকদিন ইস্তফা দিলেও গেল এক মাস ধরে দরপতনই ছিল বাজারের মূলধারা। সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমে গেছে। গত তিন কার্যদিবস ধরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে তিনশ’ কোটি টাকার নিচে। আর গতকাল বাজারে বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমলেও ফার্মাসিউটিক্যালস খাত ও সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলোর দরপতন হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের কোম্পানিগুলোর দর পতন হয়েছে ২ শতাংশ। আর সিমেন্ট খাতের দরপতন হয়েছে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ।
তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) ৫৩ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৪৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএস-৩০ সূচক ২৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৯৮ কোটি ৯৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৫৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২৮৯টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৭টির, কমেছে ১৮৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টি কোম্পানির শেয়ারের।
এদিকে ক্রমাগত দরপতনের প্রতিবাদে ডিএসই’র সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। দুপুরে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। দীর্ঘ এক মাসের অধিকাংশ সময় দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীরা এ বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভরত বিনিয়োগকারীরা নীতিনির্ধারণী মহলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দেন। বিনিয়োগকারীরা বলেন, বাজারে একটি গ্রুপ কারসাজি করছে। কিছু কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ানো হয়েছে অযথা। ফলে বাজারে সূচক বেড়ে যায়। আর এরপর গোটা বাজারেই দরপতনের চাপ দেখা দিয়েছে। এখন মৌল ভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোর দামও কমে গেছে। বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ভরসা পাচ্ছেন না। ফলে সূচক কমছেই। এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে তারা উল্লেখ করেন। এদিকে সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে কেন্দ ীয় ব্যাংকের নতুন পদক্ষেপকেও দায়ী করেছেন বিনিয়োগকারীরা।
