পরিবেশ দূষণ, এগার কারখানাকে জরিমানা

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৪, ২১:৩৩
পরিবেশ দূষণের দায়ে এগারটি কারখানাকে নয় কোটি তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো: আলমগীর সোমবার পর্যন্ত গত দুইদিনে কারখানাগুলোর মালিক/প্রতিনিধিদের পরিবেশ অধিদপ্তর, সদর দপ্তর, ঢাকায় তলব করে শুনানি শেষে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতিসাধনের জন্য এ জরিমানা করেন। জানা যায়, অপরিশোধিত তরল বর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই বাইপাসের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী তুরাগ নদীতে ফেলে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন করার অপরাধে সাভার উপজেলাধীন ঢাকা ইপিজেড এলাকায় অবস্থিত জং শাইন টেক্সটাইল মিলসকে সোমবার ১ কোটি ৬০ লাখ, রিং সাইন টেক্সটাইল মিলসকে ১ কোটি ৬০ লাখ, কুং কেং টেক্সটাইল (বিডি) কোং লিঃ -কে ৩৮ লাখ, মেসার্স গ্রামীণ নিট ওয়্যারকে ২০ লাখ , কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলসকে ৫ লাখ এবং মেসার্স শাহ শাহ ডেনিমকে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সূত্র জানায়, পরিদর্শন টিম প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান করে আটটি কারখানাকে দূষণের জন্য শনাক্ত করে। এর মধ্যে ছয়টি কারখানাকে জরিমানা করা হয়। বাকি দুই কারখানার শুনানি পরে অনুষ্ঠিত হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট) জানান, ইপিজেডের ভেতরে কারখানাসমূহের পরিবেশসম্মতভাবে পরিচালনা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বেপজা কর্তৃপক্ষের হলেও তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন না। বেপজার জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করেন। ভবিষ্যতে তিনি আরো সতর্ক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এদিকে একই অপরাধের দায়ে রবিবার নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি ওয়াশিং কারখানার মালিক/প্রতিনিধিদের পরিবেশ অধিদপ্তর, সদর দপ্তর, ঢাকায় তলব করে শুনানি শেষে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করেন পরিচালক। জানা যায় ,কারখানাগুলো, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং ইটিপি নির্মাণ ছাড়াই অপরিশোধিত তরল বর্জ্য পরিশোধন না করে তা পার্শ্ববর্তী শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন করে আসছিল। এর মধ্যে ফতুল্লা উপজেলাধীন ইসদাইর ও ভোলাইল এলাকায় অবস্থিত মজুমদার ওয়াশিং প্লান্টকে ১ লাখ, উজ্জল ওয়াশিংকে ১ লাখ, সুমনা ওয়াশিংকে ১ লাখ, লোকনাথ আর. আর. ওয়াশিংকে ৭৫ হাজার টাকা। পরিচালক জানান, ইটিপিবিহীনভাবে পরিচালিত কারখানাসমূহের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শুনানিতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে উপস্থিত মালিক/প্রতিনিধিরা অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করেন।