হংকংয়ের বিপক্ষে হারের পর যতোটা মুষড়ে পড়েছিল বাংলাদেশ, সেখান থেকে তারা অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে—অন্তত তেমন দাবি করছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তিনি বলছেন, বাংলাদেশ নির্ভার হয়েই আজ থেকে সুপার টেনের খেলা শুরু করবে। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, বাংলাদেশের হারানোর কিছু নেই।
আর এই নির্ভার চিন্তা থেকেই সাফল্য আশা করছেন মুশফিক। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তার কথোপকথন—
হংকংয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত ওই হারের পর কতোটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে দল?
আমরা হংকংয়ের সঙ্গে হয়তো এর আগে হারিনি। কিন্তু এর আগেও অনেক বাজে সময়কে পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এশিয়া কাপে আমরা আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারার পর জিততে না পারলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে যেভাবে ব্যাট করেছি সেখান থেকে আমরা অনেক আত্মবিশ্বাস নিতে পারি।
সুপার টেনের ঢাকায় কয়েকটা ম্যাচ হয়ে গেল। এখানে কী আগে ব্যাট করা উচিত, নাকি চেজ করা উচিত?
এখানে উইকেটটা একটু ভিন্ন। প্রথমে ব্যাটিং করলে একটু কঠিন হয়ে যায়। দেখা যায় যে, শুরুতে বল সুইং করে, টার্নও করে। পরে আবার অনেক সময় ডিউ ফ্যাক্টরটা চলে আসে। কালকের উইকেটটা দেখলে আরো ভালোভাবে বোঝা যাবে কি হবে। আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপে লক্ষ্য সেট করা একটু কঠিন হবে।
২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শুরু করেছিলেন। সেই স্মৃতি কী অনুপ্রেরণা হবে?
অবশ্যই। ওদের সঙ্গে অনেক সুইট মেমোরি আছে আবার অনেক বাজে মেমোরিও হয়তো আছে। এগুলো থাকবেই। তবে আমরা বর্তমান অবস্থা নিয়েই ভাবছি। নিজেদের নিয়ে চিন্তা একটু বেশি করছি।
এই গ্রুপে সমীকরণটা জটিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে। ফলে ছোট দল বলে বাংলাদেশের বিপক্ষে রান রেট বাড়িয়ে নেয়ার একটা চিন্তা কাজ করতে পারে। এটাকে কিভাবে দেখছেন?
আমার মনে হয় না, ছোট-বড় দল হিসেবে কেউ দেখে। টি-টোয়েন্টিতে সবারই সম্ভাবনা থাকে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে চারটি ম্যাচেই ভালো ক্রিকেট খেলার। রান রেটের ব্যাপারটা কেউ যদি সেভাবে জেতার চেষ্টা করে সেটা মাঠেই দেখা যাবে।
সাকিব বলেছিলেন, আমাদের সেরকম ম্যাচ উইনার নেই। এই অভাব কী আপনিও বোধ করেন?
গেইল বা বিরাট কোহলির মতো কেউ হয়তো আমাদের নেই। তবে ছোট ছোট কম্বিনেশনের মধ্য দিয়ে আমরা এতোদিন যেভাবে খেলে এসেছি, তাই করতে হবে। একক উইনার না থাকলে অনেককে দায়িত্ব নিতে হয়।
দলের জন্য আপনার বার্তাটা কী?
ম্যাসেজ একটাই, আমাদের হারানোর কিছু নাই। আমরা যেন আমাদের দুইশ’ ভাগটা দিয়ে চেষ্টা করি। অপনেন্টকে যেন ফিল করাতে পারি আমরা এখানে আসছি খেলতে, ওদের হার্ড টাইম দিতে। আমরা যদি এটা করতে পারি তাহলে চার ম্যাচের কয়েকটাতেই জেতার সামর্থ্য আমাদের রয়েছে।
বাড়তি স্পিনার খেলানোর চিন্তা আছে?
এমনিতে দুইজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার খেলে। সঙ্গে কয়েকজন অলরাউন্ডার তো থাকেই। উইকেট দেখে সিদ্ধান্ত নেব। একটু সহায়তা থাকলে কেন নয়। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো স্পিনে একটু দুর্বল। ওরা বিগ শট খেলতে পছন্দ করে, হয়তো ওভাবে স্ট্রাইক রোটেট করে না।
আপনার দলের প্রধান স্পিনার আউট অব ফর্ম। এটা কী দুশ্চিন্তার ব্যাপার?
একটু তো চিন্তার বিষয়। উইকেট একটু মন্থর আর টার্নিং আপনি আশা করবেন স্পিন একটু হবেই। আপনার স্পিনাররা ভালো বল করবে আর উইকেট নেবে। হয়তো সে (রাজ্জাক) একটু অফ ফর্মে আছে। তবে দুয়েকটা ম্যাচ একটু এদিক সেদিক হতে পারে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে একজন ম্যাচে একজন বোলার ৪ ওভারে ৩০/৪০ রান দিতে পারে। গেইলদের বিপক্ষে বল করার একটা অন্যরকম চ্যালেঞ্জও আছে। এর আগে স্পিনাররা তাকে বল করেছে, সফলও হয়েছে। কালও সুযোগ আছে। শুধু স্পিনাররা নয়, পুরো দলই আমরা সেভাবে প্রস্তুত।
