শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে শত-শত সদস্যের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সঞ্চয় নিচ্ছে আদর্শ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ কাল্ব নামে একটি সংগঠন। জানা যায় ১৯৯৫ সালে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি সমবায় সমিতি থেকে নিবন্ধন (নং-০৬ ও ৫২০) নিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। ব্যাংকের নিয়মে সাধারণ একাউন্ট, ৫ বছরে দ্বিগুণ আমানত বিভিন্ন মেয়াদে আদর্শ ডিপোজিট পেনশন স্কীম, আদার্শ সেভিং প্লাস, স্টার সেভিংস, মেয়াদী জামানত প্রকল্প, মাইক্রো সেভিংস, শিশু-কিশোর সঞ্চয় প্রকল্পসহ ১০টি বিশেষ প্রকল্পের অজুহাতে আকর্ষণীয় লাভের অফার দিয়ে সদস্য ভর্তির মাধ্যমে এসব অর্থ নেয়া হচ্ছে। সূত্র জানায়, গত ১৬ বছরে ওই সংগঠনটি ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সঞ্চয় আদায় করে। নিয়ম অনুযায়ী কোন প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু এ সংগঠনের ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। ঝিনাইগাতী উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, এ সংগঠনে যেসব কর্মকাণ্ড হচ্ছে তা সমবায় নিয়ম বহির্ভূত। ব্যাংকিং নিয়মে এ সংগঠনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারী। সমবায় নিয়মে এ সংগঠনের সকল অর্থের মালিক সদস্যরা হলেও পরিচালকমন্ডলীর কতিপয় সদস্য এ অর্থ যথেচ্ছা ব্যবহার করে আসছেন। দেশে ডেসটিনি ও হলমার্ক কেলেঙ্কারী যখন তুঙ্গে ঠিক সে সময় ঝিনাইগাতীতে আদর্শ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ ম্যানেজারসহ কয়েকজনের নামের একাউন্টে জমা করা হচ্ছে। ম্যানেজার আব্দুল হামিদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা যে নিয়মে এটি পরিচালনা করে আসছি তা ব্যাংকিং নিয়মে নয়। সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নেয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
