বিদেশ ছেড়ে দেশে ফিরে নিজেই খুঁজলেন নিজের কাজ। চাকরি না করে নিজস্ব কিছু করা যায় কি না সেই চিন্তায় শুরু করলেন ছোট্ট ব্যবসা। নিজে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ জানেন। দুই লাখ টাকা দিয়ে চালু করলেন একটি ওয়ার্কশপ। বললেন, আগের চেয়ে বেশ আছি। চল্লিশোর্ধ্ব মোখলেসুর রহমান এখন মগবাজারের রেল লাইনের পাশে ওয়ার্ল্ড টেক নামে একটি ওয়েল্ডিং দোকানের মালিক। বাড়ি রাজধানীর অদূরে দোহারে। সেখানেই তার পরিবার। দুই মেয়ে দোহারে পড়াশোনা করে। তিনি থাকেন বাড্ডায়। যা আয় হয় তা দিয়ে চলে সংসার। আলমারি, গ্রিল, গেইট, শার্টার, স্টিলের দরজা-জানালা আর সিঁড়ির রেলিংসহ হরেক রকমের কাজ হয় মোখলেসের কারখানায়। দুই জন স্থায়ী কর্মচারী ছাড়াও আরো চার জন অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করে তার দোকানে। জানালেন, তিন বছর সৌদি আরবে ওয়েল্ডিং-য়ের কাজ করেছেন। বিদেশ থেকে দেশে এসে ছোট পরিসরে শুরু করেন এই ওয়েল্ডিংয়ের দোকান। নিজের পরিশ্রম আর একাগ্রততায় পুঁজি বাড়িয়ে পাশে আরেকটি দোকান নিয়েছেন। খুব বড় দোকান বা বেশি পুঁজির না হলেও নিজের সন্তুষ্টির কথা জানালেন স্বাচ্ছন্দ্যে।
বললেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঠিক থাকলে ব্যবসা ভাল হয়। গত বছরের শেষটায় রাজনৈতিক অস্থিরতায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। বলতে গেলে কাজ বন্ধই ছিল। ওই সময় প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একাপর্যায়ে দোকান স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়ার উপক্রম হলেও কষ্ট করে ধরে রেখেছিলেন। বললেন, একটা দোকান ছাড়লে আরেকটি পাওয়াও মুশকিল। ভাড়া বাড়েছে, দোকান মালিকের অগ্রিমও বেড়েছে। আবার সুবিধাজনক জায়গায় পাওয়া যায় কি না সেটাও অনিশ্চিত। তাই কষ্ট হয়েছে, তবু দোকান ছাড়িনি। এখন হরতাল-অবরোধ না থাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা শহরের সর্বত্রই এই ব্যবসা সহজে চোখে পড়ে। সবাই কাজ করে খাচ্ছে। তবে পরিকল্পিত হলে ভাল হতো বলে মনে করেন মোখলেসুর রহমান। তার মতে, ঢাকা শহরের প্রায় সব জায়গায় অলি-গলিতে অপরিকল্পিতভাবে এই ধরনের দোকান গড়ে উঠেছে। যা নগরীর সৌন্দর্যহানি কিংবা দূষণে সহায়তা করছে। তারমতে, এই ব্যবসায়ে শৃঙ্খলা আনা দরকার এবং একটি পরিকল্পিত শিল্প এলাকা গড়ে তোলা দরকার।
এসব কারখানায় কর্মসংস্থানও হচ্ছে। প্রতিটি দোকানে ২/৩ জন করে গড়ে কর্মচারী কাজ করে। এমনি একজন সেলিম। কাজ করেন মোখলেসের দোকানে। বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে। জানালেন, নির্ভরশীল পরিবার তার আয় দিয়েই চলে। বেতনের বাইরে ওভারটাইমও পাওয়া যায়। বেশি ওভারটাইম করলে আয় বেশি হয়। বেতন আর ওভারটাইম মিলিয়ে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। পাশেই ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করে শাহীন। প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় আছে তার; কিন্তু আরো বেশি কিছু করা দরকার। তার স্বপ্ন নিজেই একদিন মালিক হবে; কিন্তু অর্থাভাবে হয়তো সেটি এই মুহূর্তে সম্ভব হবে না। তবু অদম্য তরুণ শাহীন বলে, নিজের কাজ নিজে করবো। অন্যদের কাজের ব্যবস্থা করবো। নইলে দেশের উন্নতি হবে না।
