মালয়েশিয়ার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া বিমানটি হারিয়ে গেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেছেন, বিমানের যাত্রীদের আর কেউ বেঁচে নেই তারা এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। যাত্রীদের স্বজনরা প্রতিদিন মালয়েশিয়ার সরকারকে বিমানের যাত্রীদের সন্ধান দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, চাপমুক্ত হবার জন্যই তারা বিমানটি হারিয়ে গেছে বলে ঘোষণা দিলেন। খবর বিবিসি ও এএফপির।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজেক বলেছেন, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে তারা মনে করছেন নিখোঁজ মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স ফ্লাইই এমএইচ৩৭০ ভারত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। যাত্রীদের বেঁচে থাকার আর কোন সম্ভাবনা নেই বলে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তিনি মিডিয়ার কাছে আহ্বান জানান, যাত্রীদের এবং ক্রদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান জানাতে।
মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ এমএইচ৩৭০ বিমানের যাত্রীদের পরিবারের সদস্যদের কাছে একটি এসএমএস পাঠিয়েছে। সেই এসএমএস-এ বলা হয়েছে, দেশের কর্তৃপক্ষকে কোন সন্দেহ ছাড়া মেনে নিতে হচ্ছে, বিমানটি চিরতরে ‘হারিয়ে গেছে’, এবং যাত্রীদের কেউ আর জীবিত নেই। উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৮ তারিখে এমএইচ৩৭০ কুয়ালা লামপুর থেকে চীনের রাজধানী বেইজিং যাবার পথে নিখোঁজ হয়।
এদিকে, কুয়ালালামপুর থেকে সিউলগামী মালয়েশিয়া বিমানের আরো একটি ফ্লাইট গতকাল সোমবার ভোরে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে দিক পরিবর্তন করে হংকংয়ে অবতরণ করে। মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের সন্ধানে যখন কোন কুলকিনারাই পাওয়া যাচ্ছে না ঠিক সেই মুহূর্তে এ খবর দেশটির বিমান সংস্থার জন্য নতুন একটা ধাক্কা। মালয়েশিয়া বিমানের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইট এমএইচ-০৬৬ সিউলের পরিবর্তে হংকংয়ে অবতরণ করে। তবে কিধরণের বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল তা জানানো হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিমানটি ‘নিরাপদে’ হংকংয়ে অবতরণ করে এবং ২৭১ জন যাত্রীর সবাইকে অন্যান্য বিমানে সরিয়ে নেয়া হয়। রোববার মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় রাত ১১ টা ৩৭ মিনিটে বিমানটি কুয়ালালামপুর ত্যাগ করে এবং সোমবার দ. কোরিয়ার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে সিউলের ইনচিওন বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। কিন্তু দিক পরিবর্তন করে হংকংয়ে অবতরণের কারণে ওই বিমানে করে ইনচিওন থেকে কুয়ালালামপুরগামী ফ্লাইট বাতিল করে যাত্রীদের অন্যান্য বিমানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
