ইউক্রেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ক্রিমিয়ার রাশিয়াতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ভোটাভুটি এবং অঞ্চলটির স্বাধীনতা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গেল কিছুদিন থেকেই বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তাপ বিরাজ করছে। মূলত ইউক্রেনের জাতীয় রাজনীতির টানাপোড়েন এবং এরই সূত্র ধরে রুশ অধ্যুষিত ক্রিমিয়ার রাশিয়ান ফেডারেশনে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েই এই উত্তাপের সূত্রপাত। আর এ নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের নানা যুক্তি, তর্ক ও আলোচনা যখন তুঙ্গে তখনই অভিনব এক কাণ্ড করে বসেছেন ইউক্রেনের ডনেট্স্ক নামের ভিন্ন আরেকটি শহর। রুশ অধ্যুষিত ক্রিমিয়ার অধিবাসীদের স্বাধীনতা ঘোষণা ও রাশিয়ার সাথে যোগদানের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানোর উপায় হিসেবে এবার এই শহরটি নিজেদেরকে গ্রেট ব্রিটেনের সাথে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের এই দাবির নেপথ্য কারণটি হলো, আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ওয়েলসের একজন শিল্পপতির হাত ধরেই গোড়াপত্তন হয়েছিল এই শহরটির। জন হগস নামের এই ব্যবসায়ী ১৮৬৯ সালে ডনেট্স্ক শহরে প্রথম একটি কয়লার খনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু করেন এবং এখানে একটি ইস্পাতের কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তখন এ অঞ্চল মূলত জার শাসিত রাশিয়ার আওতায় থাকলেও ডনেট্স্ক শহরটির অধিকাংশ সুযোগ সুবিধাই গড়ে উঠেছিল ওয়েলসের এই শিল্পপতির হাত ধরে। আর এই যুক্তিকে সামনে রেখেই এখন নিজেদেরকে গ্রেট ব্রিটেনের সাথে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ডনেটেস্কর অধিবাসীরা। প্রথম দিকে ক্রিমিয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে অনেকটা ঠাট্টাচ্ছলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে থাকলেও ক্রিমিয়া নিজেদেরকে স্বাধীন ঘোষণার পর ডনেটেস্কর এই দাবিটি অনেকটা প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে ছড়ানো টুইট বার্তায় বলা হয়েছে যে, ডনেট্স্ক একটি ব্রিটিশ শহর এবং এই শহরের অধিবাসীরা একটি বড় সময় ধরে যেমন রুশদের দ্বারা প্রতারিত হয়েছে তেমনি তাদেরকে প্রতারণা করেছে ইউক্রেনের লোকেরাও। আর তাই ডনেটেস্কর সবাই তাদের আজন্ম সঙ্গী গ্রেট ব্রিটেনের কাছে ফিরতে চায়। মজার বিষয় হলো, প্রতিবাদের অংশ হিসেবে রসিকতা করে করা হলেও একটি অনলাইন জরিপে ডনেটেস্কর ৬১ ভাগ অধিবাসী এই শহরটিকে গ্রেট ব্রিটেনের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রায় ১৬ ভাগ ভোটদাতা এই অঞ্চলটিকে স্বায়ত্তশাসন দিয়ে সেখানকার রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজির প্রচলনের কথা বলেছেন।
