পারশে মাছের কৃত্রিম প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:১০
পারশে মাছের কৃত্রিম প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন করেছেন খুলনার পাইকগাছার বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের লোনাপানি কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। মাছের কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কেন্দ্রটির এটি দ্বিতীয় সাফল্য। এর আগে ২০০৬ সালে কেন্দ্রটি নোনা টেংরা মাছের কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছিল। মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে নিরলস গবেষণা এবং পূর্বেকার গবেষণার মাধ্যমে লব্ধ ধারণা ও জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে গত শীত মৌসুমে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পারশে মাছের পোনা উত্পাদন কৌশল উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়। পারশে মাছের প্রজনন স্বভাব অন্যান্য মাছের চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী। প্রাকৃতিক পরিবেশে এ মাছ অধিক লবণাক্ততার মধ্যে সমুদ্রে প্রজনন সম্পন্ন করে থাকে। এছাড়া পরিপক্ক পারশে অপ্রাণীভোজী হলেও ডিম হতে পোনা বের হওয়ার পর জীবন্ত অতি ক্ষুদ্র প্রাণী খেয়ে এরা বড় হয়ে ওঠে। তাই ডিম হতে পোনা তৈরির পূর্বে হ্যাচারিতে ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর চাষ এবং এসকল প্রাণীর খাদ্য হিসাবে এককোষী উদ্ভিদকণার চাষ করতে হয়। প্রসঙ্গত, পারশে লোনাপানি অঞ্চলের অতি সুস্বাদু, জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘চেলন সাবভিরিডিস’ (Chelon Subviridis)। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে এ মাছের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। সাধারণত অগভীর উপকূলীয় জলাশয়ে, খাড়ি অঞ্চলে এবং প্যারাবনের জলাশয়ে এ মাছ পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। বর্তমানে চাষিরা প্রাকৃতিক জলাশয় হতে পারশে মাছের পোনা সংগ্রহ করেন। অতীতে প্রাকৃতিক জলাশয়ে এবং চিংড়ি ঘেরে পারশে মাছ পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যেত; কিন্তু নির্বিচারে আহরণ ও পরিবেশগত কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ে এ মাছের প্রাপ্যতা ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। তাই চাহিদার কথা বিবেচনা করে এ মাছের কৃত্রিম প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, লোনাপানি কেন্দ্র পাইকগাছার মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস.বি সাহা বলেন, পারশে মাছের পোনা উত্পাদন পরবর্তী চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা সম্ভব হলে খুলনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের ঘেরগুলোতে চিংড়ি চাষের পাশাপাশি পারশে মাছ চাষ করা সম্ভব হবে। এদিকে উচ্চ গুণগতমানসম্পন্ন মাংস, অধিক তাপমাত্রা ও লবণ সহনশীলতা এবং অপ্রাণীভোজী স্বভাবের কারণে উপকূলীয় মত্স্য ঘেরগুলোতে এ মাছের চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে চাষিদের কাছেও বাড়ছে এ মাছের জনপ্রিয়তা।