মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও স্বর্ণের বড় ধরনের অবৈধ চালান ধরা পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তল্লাশি চালিয়ে ১০৫ কেজি ওজনের ৯০২টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেন শুল্ক কর্মকর্তারা। আটক সোনার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪৫ কোটি টাকা। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হওয়া এ যাবত্কালের সবচেয়ে বড় স্বর্ণের চালান এটি। স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত সন্দেহে বিমানের ৭ বাংলাদেশি যাত্রীসহ ১০ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে শুল্ক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে পতেঙ্গা থানা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গত রাতে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন উদ্ধারকৃত সোনার পরিমাণ ১০৫ কেজি নয়, ১০৭ কেজি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, নাহিদ তালুকদার নামে আটক এক যাত্রীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২ কেজি ওজনের ১৮টি স্বর্ণের বার এক শুল্ক কর্মকর্তার টেবিলের ড্রয়ার থেকে তারা উদ্ধার করেছেন। এছাড়া বিমান থেকে ৯০২ টি নয়, ৯০৫ স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, সব মিলিয়ে ৯২৩টি স্বর্ণের বার গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখার ভল্টে জমা দেয়া হয়েছে। তবে শুল্ক কর্মকর্তার টেবিলের ড্রয়ার থেকে ১৮টি স্বর্ণের বার আটকের ব্যাপারে শুল্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি এ বিমানবন্দরে ২৩ কোটি টাকা মূল্যমানের ৪৯ কেজি ওজনের ৪৩৪টি স্বর্ণের বার আটকের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার কিছুদিন পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তিন যাত্রীর মানিব্যাগ থেকে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম শুল্ক বিভাগের সহকারী কমিশনার মশিউর রহমান মণ্ডল গতকাল ইত্তেফাককে জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুবাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর নিয়মিত তল্লাশি চালিয়ে শুল্ক কর্মকর্তারা বিমানের কয়েকটি সিটের নিচ থেকে এসব স্বর্ণের বার উদ্ধার করেন। এসব সিটে যে যাত্রীরা ছিলেন তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- শফিক ইসলাম, মনসুর ইসলাম, নাহিদ তালুকদার, পিয়ারুল ইসলাম, ইমতিয়াজ খান, ইয়াকুব ও মহীনউদ্দিন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে ওই শুল্ক কর্মকর্তা জানান। আইনি ব্যবস্থা নিতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ৩ যাত্রী মো. রহিম সিকদার, মো. হাসান মাহমুদ ও মো. ফয়সালকে সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সমপ্রতি অবৈধভাবে স্বর্ণ আমদানির হিড়িক পড়েছে। গত বছর এই বিমানবন্দরে ৮০ কেজি ৪৯০ গ্রাম অবৈধ স্বর্ণ ধরা পড়ে। এ বছর গতকাল পর্যন্ত অবৈধ স্বর্ণ ধরা পড়েছে প্রায় ১৭০ কেজি।
শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে দফায় দফায় অবৈধ পথে স্বর্ণ আমদানির ঘটনা ঘটলেও তা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে হাতেগোনা কয়েকজন চুনোপুটি আটক হলেও রাঘব বোয়ালরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। অবৈধ এসব স্বর্ণের একটি বড় অংশ বাংলাদেশ হয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে যাওয়ার অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি আজ পর্যন্ত খতিয়ে দেখা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন।
