মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়ে ডুবে যাওয়ার ঘোষণায় সমালোচনার ঝড় বইছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক সোমবার তার ঘোষণায় বলেছিলেন, নিখোঁজ বিমানটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাংশে ধ্বংস হয়েছে। কৃত্রিম উপগ্রহের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে এ রকমই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিমানের আরোহীদের কেউ বেঁচে নেই। তবে ভারত মহাসাগর থেকে বিমানের কোন ধ্বংসাবশেষ এখনও পাওয়া যায়নি।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর নিখোঁজ বিমান যাত্রীদের আত্মীয়স্বজনরা বেইজিংয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষকে ‘খুনি’ বলে অভিহিত করেন।
গত ৭ মার্চ শুক্রবার দিবাগত রাত স্থানীয় সময় ১২ টা ৪১ মিনিটে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৩৭০ নিখোঁজ হয়। বিমানটিতে ১৪ টি দেশের ২৩৯ জন যাত্রী ও বিমানকর্মী ছিলেন। বিমানের সবচেয়ে বেশি ১৫৩ জন আরোহী ছিলেন চীনের।
চীনের উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী মালয়েশিয়ার কাছে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহের সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-উপাত্ত চেয়েছেন। সোমবার মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ বিমানের আরোহীদের স্বজনদের টেলিফোনে, সরাসরি ও মোবাইল ফোন এসএমএসের মাধ্যমে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ফ্লাইট-৩৭০ বিধ্বস্থ হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আরোহীদের কেউ বেঁচে নেই। মালয়েশিয়ার এ ধরণের বার্তা পাঠানোরও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির মালয়েশিয়ার রাজনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্রিজেট ওয়েলস বলেন, কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য ভাল ছিল। তবে খবর প্রকাশের উপায় আরো ভাল হতে পারত। অনলাইনেই নাজিব রাজাকের ঘোষণা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার শিকারদের প্রতি শোক বার্তাও জানানো হচ্ছে।
চীনে স্বজনদের বিক্ষোভ: চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে মালয়েশিয়া দূতাবাসের সামনে মঙ্গলবার নিখোঁজ বিমানের যাত্রীদের পরিবারের বিক্ষুব্ধ সদস্যরা বিক্ষোভ করেছে। পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। নিখোঁজ বিমানের আরোহীদের ভাগ্যে কি ঘটেছিল সেব্যাপারে আরো খোলাসা করার দাবিতে তারা এই বিক্ষোভ করে।
আরো অনেক শুভানুধ্যায়ীর অংশগ্রহনে নিখোঁজ বিমানের যাত্রীদের পরিবারের প্রায় দুইশ’ সদস্য বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় ‘মালয়েশিয়ার সরকারকে হত্যাকারী’ হিসেবে অভিহিত করে শ্লোগান দেয়। তারা শ্লোগান দেয়, ‘আমাদের আত্নীয়স্বজনদের আমরা ফিরে পেতে চাই।’ বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন দূতাবাসের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দিলে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়। এসময় বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডসহ দূতাবাসের সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা মালয়েশিয়া দূতাবাসের দিকে পানির বোতল ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। মালয়েশিয়া যে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিমানটি হারিয়ে যাওয়ার উপসংহার টেনেছে সে তথ্যগুলো দেখতে চেয়েছে চীন। বিমানের ২৩৯ জন আরোহীর মধ্যে কেবল চীনেরই ১৫৩ জন যাত্রী ছিল। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
