কুসুম নামের মেয়েটি...

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৪, ১৯:৫৯
কুসুম সিকদার। যে নামের সাথে সবসময়ই যুক্ত থাকে সফলতা। তার জীবনের বেশির ভাগ কাজই সফলতার মুখ দেখেছে। আসলে তিনি জানেন কীভাবে ভালো কাজের মাধ্যমে সফলতাকে হাতের মুঠোয় নিতে হয়। পর পর দুটি চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে আলোড়ন তুলেছেন। বর্তমানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং নিয়ে। এই গুণী অভিনেত্রীকে নিয়ে এবারের মূল ফিচার। লিখেছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবে দর্শকদের কাছে কুসুম সিকদারের জনপ্রিয়তার কমতি নেই। ছোটবেলায় তিনি ভেবেছিলেন, গান নিয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দেবেন। কিন্তু ২০০২ সালে লাক্স ফটো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ায় পর তার সেই ভাবনা পাল্টে যায়। এর আগে একই বছর সাউন্ডটেক থেকে তিনি গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। অ্যালবামের নাম ‘জীবনে যত চাওয়া’। এরপর তার আরও কয়েকটি মিশ্র অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। তবে একসময়ের গায়িকা এখন পুরোদস্তুর অভিনেত্রী। চরিত্রের ভেতর ঢুকে তাকে বের করে আনার ক্ষেত্রে যে দক্ষতা তিনি দেখিয়েছেন, তাতে দর্শকদের পছন্দের তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশি সময় লাগেনি। অভিনয়টাকে তিনি শিল্প হিসেবেই দেখেন। তার ভাষ্যে, ‘অভিনয়টা সাধারণ কোনো কাজ নয়। এটি একটি শিল্প। আর এই শিল্প তিলে তিলে গড়ে তোলে অভিনয়শিল্পীরাই। তাই শিল্পের মান রক্ষায় অভিনয়শিল্পীদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হয়। মাত্রাতিরিক্ত শুটিং ব্যস্ততা কাজের মান খারাপ করে দেয় কি না প্রসঙ্গে কুসুম বলেন, ‘কিছুটা তো করেই। তবে এর বেশির ভাগটাই নির্ভর করে শিল্পীর ওপর। শিল্পী কীভাবে তার ব্যস্ততাকে সমন্বয় করে তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। যারা অনেক ব্যস্ত হয়েও সঠিক সমন্বয়টা করতে পারে তাদের অভিনীত নাটকগুলোর মান অতটা নিচে নামে না যতটা বলা হয়। আমি চেষ্টা করি সমন্বয় করে চলার। কতটা সফল তা দর্শকরাই বলতে পারবে।’ ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তিনি নিজের একটা দর্শন মেনে পথ চলছেন। আর তা হলো অনেক বেশি কাজ করার চেয়ে একটু কম কাজ করবেন। সংখ্যার চেয়ে তিনি কাজের মানের দিকে বেশি নজর দেন। এর ফলে কাজ নিয়ে কখনও তার মাঝে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। তার ভাষ্যে, ‘আমি কখনও এমনটি চাইনি যে, আমাকে অনেক অনেক নাটকে অভিনয় করতে হবে, সবসময় টিভিপর্দায় নিজেকে দেখতে হবে—এই ভাবনা আমাকে কখনও তাড়া করেনি। আমি আসলে নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে।’ লাক্স ফটোসুন্দরী হওয়ার পর কুসুমের প্রথম অভিনীত নাটক হলো ‘বিয়ের আংটি’। এরপর অভিনয় করেন বেশকিছু মানসম্পন্ন নাটকে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ঘাটের কথা’, ‘নৌকাডুবি’, ‘মেঘবালকের গল্প’, ‘অন্ধকারের ফুল’, ‘জলপরী’, ‘জ্যোত্স্নাকাল’, ‘হাতের রেখা কথা বলে’, ‘জহুর আলী জহুরী’, ‘মনকরা’, ‘বাঘপুতুল’, ‘উত্তরাধিকার’, ‘পণ্ডিতের মেলা’, ‘একই শহরে’, ‘ইকারুসের ডানা’, ‘যোগাযোগ’, ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’, ‘গোধূলি বেলায়’ প্রভৃতি। লাক্স তারকা হিসেবে বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ করে জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো বিজ্ঞাপনচিত্রে আপনাকে দেখা যাচ্ছে না কেন? উত্তরে কুসুম বলেন, ‘আমি আসলে নতুন কিছু খুঁজি। আর এ কারণে বিজ্ঞাপনচিত্রে আমার কাজ করাটা কম হয়। গতানুগতিক কাজ আমার একদম পছন্দ নয়। যেমন কিছুদিন আগে একটি কাপড় কাচা সাবানের বিজ্ঞাপনের অফার পেয়েছিলাম। তো কনসেপ্টটা আমার কাছে ভালো লাগেনি বলে তা গ্রহণ করিনি।’ কুসুম তার ক্যারিয়ারের গ্রাফটা মানসম্পন কাজের মাধ্যমে ঠিকই উপরের দিকে নিয়ে গেছেন। নাটক কিংবা চলচ্চিত্র দুই মাধ্যমেই এখন ব্যস্ত। নিজের প্রথম চলচ্চিত্র ‘গহীনে শব্দ’ বেশ প্রশংসা কুড়ায়। খালিদ মাহমুদ মিঠুর পরিচালনায় ‘গহীনে শব্দ’ ইতোমধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ার পাম স্প্রিং চলচ্চিত্র উত্সবে প্রদর্শিত হয়েছে। বাংলাদেশে রেইনবো চলচ্চিত্র উত্সবে সমালোচক বিভাগে এটি সেরা চলচ্চিত্রেরও পুরস্কার পেয়েছে। বর্তমানে কুসুম অভিনীত কয়েকটি ধারাবাহিক নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। কুসুম সিকদারের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘লালটিপ’ মুক্তি পায় ২০১২ সালে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেটের ইমপ্রেস টেলিফিল্মের এই ছবিটি পরিচালনা করেন স্বপন আহমেদ। এই ছবিতে কুসুম সিকদার নিধি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কুসুমের বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন ইমন। এটি বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত একটি চলচ্চিত্র। দ্বিতীয় ছবি ‘লাল টিপ’ও কুসুমকে সফলতার ভেলায় ভাসিয়ে নিয়েছে। অন্যদের মতো কুসুমও তার পরবর্তী প্রজন্মকে নিয়ে ভাবেন। নতুন প্রজন্মকে পরামর্শ দেওয়ার প্রসঙ্গটি তার সামনে তুলে ধরতেই তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, অভিনয়, মডেলিং বা অন্য কোনো কাজ—যে যেই কাজই করুক না কেন, প্রথমেই কাজটাকে খুব বেশি ভালোবাসতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে হয়তো পরিবার থেকে সামান্য বাধা আসতে পারে। তা সুন্দরভাবে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে কাজের সাফল্যের মাধ্যমে। আমি মনে করি, প্রত্যেকটি মানুষেরই পরিশ্রমের নির্দিষ্ট একটা বয়স থাকে, ওই সময়টা ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেকে নিয়ে যেতে হবে স্বপ্নের জায়গায়।’ আরও কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকে। এগুলো হলো, হিমু আকরামের পরিচালনায় ‘নজিরবিহীন নজর আলী’, সাজ্জাদ সুমনের ‘৯৯ পাতলা খান লেন’, মিজানুর রহমান লাবুর ‘বাতিঘর’, হাসিবুর রহমান সবুজের ‘ইজি স্যলিউশন’ প্রভৃতি। এর মধ্যে ‘নজিরবিহীন নজর আলী’ নাটকে দর্শকরা কুসুমকে বুলা চরিত্রে দেখতে পাবেন। এই নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে কুসুম সিকদার বলেন, ‘এখানে আমি কলেজপড়ুয়া একজন শহরের মেয়ে। আমি গ্রাম থেকে আসা দুরসম্পর্কের ফুপাতো ভাই নজর আলীর প্রেমে পড়ি। আর এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান। সব মিলিয়ে নাটকের গল্পটা বেশ মজার। আমার ভালো লেগেছে এই চরিত্রে অভিনয় করে। আশা করি দর্শকরা এই নাটকের মাধ্যমে আমাকে নতুন রুপে দেখতে পাবেন। আর আগামী মাস থেকে আরটিভিতে এই ধারাবাহিকটি প্রচার শুরু হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হিমু আকরামের সাথে এটাই আমার প্রথম কাজ। তিনি একজন গুণী নির্মাতা। তাই প্রথম বার তার সাথে কাজ করলেও তিনি অনেক সহযোগিতা করেছেন।’ বর্তমানে তিনি তৃতীয় ছবিতে অভিনয়ের জন্য অপেক্ষায় আছেন। তার ভাষ্যে, ‘আমি সবসময় ভালো গল্প, ভালো পরিচালক এবং কাজ করা অনুকূল পরিবেশ থাকলেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’ প্রথম নাটক কুসুম সিকদার অভিনীত প্রথম টিভি নাটক হলো ‘বিয়ের আংটি’। এই নাটকে সুন্দর অভিনয়ের জন্য তিনি আলোচনায় আসেন। এরপর একে একে অভিনয় করেন বেশকিছু মানসম্পন্ন নাটকে। সেই সাথে কুসুম অভিনীত দুটি চলচ্চিত্র সফলতা পায়।