নতুন রূপে

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৪, ১৯:৫৯
সুন্দর অভিনয় দিয়ে ইতোমধ্যে দর্শকের মনে স্থান করে নিয়েছেন লাক্সতারকা ইশানা। বিজ্ঞাপনে তার পারফর্মেন্স যেমন সাবলীল, তেমনি অভিনয়েও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাকে নিয়ে লিখেছেন অজেয় চৌধুরী ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত সততা, অধ্যবসায় ও অভিজ্ঞতাই ইশানাকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিয়েছে। তার মতে, লাক্স চ্যানেল আইয়ের প্লাটফর্ম তাকে অল্প সময়ে অনেক কিছু শিখতে সহায়তা করেছে, যা তাকে ভবিষ্যতের পথে সহায়তা করবে। মিডিয়ার প্রতি তার আগ্রহ ছিল শৈশব থেকেই। ওই সময় থেকেই মনের ভেতর লালন করতেন পারফর্মিং মিডিয়ায় কাজ করার। পরবর্তীতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন ঘটে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে। নিজের মেধা, যোগ্যতা দিয়ে শত শত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে চলে আসেন শীর্ষ পাঁচ-এ। ইশানার ভাষ্যে, ‘মিডিয়াতে আমার সঠিক কোনো প্ল্যান ছিল না আমার। আমি চেয়েছি যে মাধ্যমেই থাকি না কেন, আমি স্টাবলিস্ট হবো। তবে মিডিয়ায় আমার ভাবনা কখনও ছিল না। কিন্তু এখন আমি মিডিয়াতে স্টাবলিস্ট হতে চাই। আমি একজন ভালো পারফর্মার হতে চাই, সেটা মিডিয়ার যেকোনো মাধ্যমেই হোক না কেন।’ বিজ্ঞাপনে তার পারফর্মেন্স যেমন সাবলীল, তেমনি অভিনয়েও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার কাজের ঝুলিতে যোগ হয়েছে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী, প্যানাসনিক, সানসিল্ক, লাক্স। সেই সাথে ফ্যাশন হাউসসহ বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় বিভিন্ন পণ্যের মডেল হয়েছেন তিনি। মডেলিং ছাড়াও অভিনয় করেছেন বেশ কিছু মানসম্পন্ন নাটকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—দীপংকর দীপনের ‘মোকামতলা’, তন্ময় তানসেনের ‘ফিরিয়ে দিলাম পৃথিবী’, এ জেড ফিরোজের ‘মিস্টার ডিরেক্টর’ আলম আশরাফের শাহীনের ‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘নির্বাপিত’, কায়সার আহমেদের ‘অহংকার’ অম্লান বিশ্বাসের পরিচালনায় ‘নো প্রবলেম’, চয়নিকা চৌধুরীর ‘আকাশের নিচে মানুষ’, আলম আশরাফের ‘তাল বেতাল’, রহমতুল্লাহ তুহিনের পরিচালনায় ডেইলি সোপ ‘ক্ষণিকালয়’, এজাজ মুন্নার ‘জেনারেশ নেক্সট ডট’, শহিদুজ্জামান সেলিমের পরিচালনায় ‘ডিবি’, শফিকুল ইসলাম রিপনের ‘সুখে থাকলে ভূতে কিলায়’ প্রভৃতি। বর্তমানে প্রচার হচ্ছে তার বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক। প্রচারের অপেক্ষায় আছে আরও কয়েকটি নাটক। এরমধ্যে রয়েছে, অসীম গোমেজের পরিচালনায় ‘ডেড লাইন’, ইরানী বিশ্বাসের ‘মনের জানালা’, হাসান জাহাঙ্গীরের ‘কথা কাজে মিল নেই’, ইদ্রিস হায়দারের ‘সেকেন্ড ইনিংস’ ও ‘মানিকগঞ্জের বড়মিয়া’। এর মধ্যে ধারাবাহিক নাটক ‘ডেড লাইন’-এ ইশানা সিআইডি অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আর এই চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করতে তাকে মোটরসাইকেল চালানোসহ আরও অনেক কিছুই শিখতে হয়েছে। এ চরিত্র প্রসঙ্গে ইশানা বলেন, ‘এই চরিত্রের কাজ করতে গিয়ে আমি যেন নিজেকেই চিনতে পারিনি। এজন্য কষ্ট করেছি বলে নিজের কাছে চরিত্রটি অনেক ভালোলাগার। এ রকম চরিত্রে আগে কখনও অভিনয় করিনি বলেই এটার প্রতি আমার আলাদা এক ধরনের মমতা ছিল। আশা করছি দর্শকরা আমাকে এ রকম চরিত্রে দেখে আনন্দ পাবেন।’ এছাড়া শুটিং শেষ করলেন বেশ কয়েকটি এক খণ্ডের নাটকের কাজ। এগুলো হলো—‘নিজ গৃহে পরবাসী’, ‘তৈল ও জলীয় সমাচার’, ‘নির্বাক ভালোবাসা’, ‘আকাশনীলা’, ‘ভালোবেসে যেও’ ইত্যাদি। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইচ্ছে অবশ্যই আছে। ভালো গল্প ও পরিচালকের সাথে কাজ করার অফার পেলে সানন্দেই তা গ্রহণ করব। তবে এই মুহূর্তে চলচ্চিত্রে অভিনয় করছি না।’