তরুণ গায়িকা আসর মাতিয়ে চলছেন বেশ কয়েক বছর ধরেই। হঠাত্ করেই সবার নজর পড়ল তার উপর, একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এসে নজরকাড়া পারফর্মেন্স দিয়ে মুগ্ধতার আলো ছড়ালেন তিনি। আজ অবধি সেই আলো তার ভক্ত-শ্রোতাদের মোহিত করে রেখেছে। মেক্সিকান এই তরুণ গায়িকার সফলতার গল্পটি জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
খুব ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রজন্মের জনপ্রিয় গায়িকা ডেমি লোভাটো। সম্প্রতি তিনি সাইন করেছেন ওয়ার্ল্ড ট্যুরের জন্য। সেখানে তিনি তার সব বিখ্যাত গানগুলো পরিবেশন করবেন। সেই সাথে তিনি তার নতুন অ্যালবামের ঘোষণাও দিয়েছেন। ২০১০ সালে তিনি কিছু টেলিভিশন সিরিজের জন্য বেশ কিছু সাউন্ডট্র্যাক নিয়ে কাজ করেন। পরের বছরগুলো তার জন্য খুব একটা সুখের ছিল না।
সংগ্রামী জীবনের পথ পেরিয়ে ২০১১ সালে এসে তার তৃতীয় অ্যালবাম মুক্তি পায়। ‘আনব্রোকেন’ নামে তার এই অ্যালবামটি বেশ ভালোই সাড়া ফেলে। এর ভেতর থেকে ‘স্কাইস্ক্র্যাপার’ গানটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। গত বছর তার একটি গান মুক্তি পেয়েছে ‘হার্ট অ্যাটাক’ নামে। সেটাও বেশ
ভালো ব্যবসা করেছে।
ডেমেট্রিয়া ডিভোনি লোভার্টো একাধারে একজন গায়িকা, লিরিসিস্ট এবং অভিনেত্রী হিসেবে জনপ্রিয়। ছোটবেলা থেকেই গান ও অভিনয় নিয়ে মেতে থাকলেও এই জগতে তার পথচলার শুরু হয় ২০০৮ সাল থেকে। ‘ক্যাম্প রক’ নামের একটি টেলিভিশন সিরিজ থেকে শুরু করেন তার অভিনয়ের ক্যারিয়ার। এরপর তার সংগীত প্রতিভার কথা জানতে পেরে হলিউড রেকর্ডস তাকে প্রস্তাব দেয় তাদের সাথে অ্যালবামের কাজ করার জন্য। ওই বছরই তিনি স্টুডিওর সাথে চুক্তি করেন। সেই বছরই ‘ডোন্ট ফরগেট ইন সেপ্টেম্বর’ নামের একটি অ্যালবাম বের করেন তিনি। আমেরিকান রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি থেকে তার এই অ্যালবামটিকে গোল্ড হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পরের বছর আরও একটি টিভি সিরিয়ালে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। সেই সাথে ‘হেয়ার উই গো অ্যাগেইন’ নামের দ্বিতীয় অ্যালবাম মুক্তি পায়। মুক্তির সাথে সাথেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে সেটা। শুধু তাই নয়, সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইউএস বিলবোর্ডের টপ ২০০ অ্যালবামের মধ্যে জায়গা করে নেয় সেটি।
নিউ মেক্সিকোর আলবুকুয়েরি শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ডেমি লোভার্টোর। ২০ আগস্ট জন্ম নেওয়া ডেমিকে দেখে তার বাবার এক বন্ধু বলেছিলেন, ‘মেয়ে বড় হয়ে নাম করবে।’ পরবর্তীতে দেখা গেল এমনটাই হয়েছে। বাবা-মা কখনও তাদের মেয়েকে কোনো কাজে বাধা দেননি। ডেমি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই বন্ধুদের সাথে গান নিয়ে মেতে থাকত। বড় বোন ডালাস ছিলেন এক নামকরা অভিনেত্রী। তার ২০ বছর বয়স থেকেই তিনি পরিবার থেকে আলাদা থাকতেন। ডেমি মাঝে মাঝে তার সাথে দেখা করতে যেতেন। টেক্সাসের বাতাসে বড় হওয়া লোভার্টো স্বপ্ন দেখতেন একসময় অনেক বড় গায়িকা হবেন। শ্রোতা মাতিয়ে সবার হূদয়ে জায়গা করে নেওয়ার ইচ্ছে তার সবসময়েরই। স্বপ্নের পথে হাঁটতে গিয়ে পাশে পেয়েছিলেন সেলিনা গোমেজকে। তারা দুজন অনেক ভালো বন্ধু ছিলেন। ছিলেন বলাটা একটু ভুল হবে, কারণ এখনও তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধনটা রয়ে গেছে। যদিও কাজের ব্যস্তার ফাঁদে দুজনেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাদের দুজনের পরিচয়টা হয় খুব অল্প বয়সেই। ‘বার্নি অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ টেলিভিশন সিরিজে গিটার বাজানোর কাজ পেয়েছিলেন তিনি। সেখানে গিয়ে পরিচয় হয় তাদের দুজনের। সেখান থেকে তারা একসাথে নাচের ক্লাস ও অভিনয়ের ক্লাসে যেতেন। দুজনের অনেক কিছুতেই মিল থাকায় তাদের বন্ধুত্ব অনেক গাঢ় হয়ে যায় খুব সহজেই। এরপর হঠাত্ করেই তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। তার পরিবার থেকে তাকে হোমস্কুলিংয়ের জন্য বলা হয়। বাইরে পড়ার সুযোগ না থাকায় তাকে শেষ পর্যন্ত হোমস্কুলিং গ্রহণ করতে হয়। এপ্রিলের ২০০৯ সালে হোমস্কুলিং থেকে ডেমি হাই স্কুল ডিপ্লোমা শেষ করেন।
