আগামীকাল ২৮ মার্চ সারাদেশে মুক্তি পাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘৭১-এর সংগ্রাম’। মনসুর আলীর চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও প্রযোজনায় এই ছবিতে অভিনয় করেছেন হলিউড, বলিউড ও বাংলাদেশের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। এই চলচ্চিত্রের নানা কথা নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন খালেদ আহমেদ
চলচ্চিত্র সাধারণ মানুষের কাছে খুব সহজে ইতিহাস বর্ণনা করতে পারে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যত চলচ্চিত্র আমরা দেখি তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডের লড়াই দেখতে পাই। কিন্তু সে যুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যদেরও অবদান ছিল। সে ইতিহাস আমরা পাই না। যারা পড়াশোনা করেন তারা জানতে পারেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে সেই ইতিহাস পৌঁছায় না। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ইংল্যান্ড ও হলিউডের দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতেই মনসুর আলী নির্মাণ করেছেন ‘৭১-এর সংগ্রাম’। চলচ্চিত্রের গল্পে দেখা যাবে, একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি নাগরিক, যিনি ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর পর প্রথম কোনো সাংবাদিকের সামনে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করেছেন। এই ছবিতে ব্রিটিশ নাগরিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভারতের জননন্দিত অভিনেতা অনুপম খের এবং সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় ইতালিয়ান নায়িকা আজিয়া আরজেনটো। এই ছবির শতকরা ৯০ ভাগ শুটিং হয়েছে বাংলাদেশের সিলেট ও ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে এবং বাকিটা লন্ডনে। মনসুর আলীর এটি প্রথম চলচ্চিত্র হলেও তার প্রস্তুতি কিন্তু বিশাল। মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র বলেই এই স্বাধীনতার মাসে বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে চলচ্চিত্রটি। আগামী ২৮ মার্চ থেকে সারাদেশের সিনেমা হলগুলোতে মুক্তি পাবে ছবিটি। আর আগামী জুন মাসে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনে। এই চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, ‘এই ছবি নিয়ে আমার প্রত্যাশা হলো—সবাই সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটি দেখুক। কেননা এই ছবিতে নতুন কিছু ভাবনা যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও হলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এই ছবিতে অভিনয় করেছেন। যা সবার কাছে ভালো লাগবে আশা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ঈদের দিনেও এই ছবির শুটিং করেছি। আসলে সত্যি বলতে কি, আমি টাকার জন্য ফিল্মটি নির্মাণ করিনি। মাতৃভূমিকে ভালোবেসে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের দর্শকের সামনে তুলে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছি। আমার এ চলচ্চিত্রে ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা অনুপম খেরকে নিয়েছি। হলিউডের ‘ট্রিপল এক্স’ চলচ্চিত্রটি জনপ্রিয় ইতালিয়ান নায়িকা আজিয়া আরজেনটো এবং বাংলাদেশের মডেল ও অভিনেত্রী রুহি ও শক্তিমান অভিনেতা আরমান পারভেজ মুরাদ, অনন্ত হীরাকে নিয়েছি। যাতে বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেই শুধু নয়, ভারত ও হলিউডের দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে পারি।’
বাংলাদেশের মানুষের কাছে অপরিচিত এক নাম হলেও মনসুর আলী ইংল্যান্ডে এরইমধ্যে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান করে নিয়েছেন। ২০১৪ সালে ব্রিটেনের ‘হাউস অব পার্লামেন্ট’, ‘পাওয়ার অ্যান্ড ইন্সপিরেশন’ হিসেবে ১০০ জন তরুণ ব্যক্তিত্বের মধ্যে মনসুর আলীকেও নির্বাচন করেছেন। মনসুর আলী গত ৭ বছর ধরে সারাবিশ্বে নির্মিত শর্টফিল্মের ওপরে শ্রেষ্ঠ শর্টফিল্মকে ‘লাইমলাইট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার দিয়ে আসছেন। পুরস্কার হিসেবে দিচ্ছেন ১০ হাজার পাউন্ড। এ ধরনের উদ্যোগের জন্য ব্রিটিশরাজ পরিবারের প্রিন্স চার্লস মনসুর আলীর সঙ্গে দেখা করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
