বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্কের বড় ক্ষেত্র হলো বাণিজ্য। ১৬ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশ একটি বৃহত্ ও বর্ধনশীল বাজার। তবে দুই দেশের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য ভারতের বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। যে কারণে গত অর্থ বছরে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ৪৪তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারতের অল ইন্ডিয়া রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে পঙ্কজ শরণ এ কথা বলেন। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছাড়াও দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের নানা ইস্যুতে কথা বলেন তিনি।
দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব বিষয়ে পঙ্কজ শরণ বলেন, ভারতই বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিলো। বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা একটি সমন্বিত ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে তুলেছি। তিনি বলেন, দুই দেশের মাঝে চার হাজার কিলোমিটারের চেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই সীমান্তের পারে বসবাসকারী জনসংখ্যাও অনেক। শুধু ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের বিবেচনায় নয়, বরং এ অঞ্চলের উন্নয়নের বিবেচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক গড়ে তুলেছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে ভারত। এই অর্থ বাংলাদেশের রেল ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুত্ খাতেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে অনেক ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মিল ও সম্পর্কের বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয় ভারতের অনেক জায়গায় বাংলা ভাষার ব্যবহার হচ্ছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামের মতো লেখকেরা বাংলা সাহিত্য, চিন্তা, দর্শনকে সমৃদ্ধ করেছেন। দুই দেশের জন্য এসব সাহিত্য, সংস্কৃতি অনেক বড় সম্পদ। বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, সঙ্গীতকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে দুই দেশের চেষ্টা করতে হবে।
