উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ে গতি

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৪, ২৩:২৭
অর্থ বছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) উন্নয়ন সহযোগীরা বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে প্রায় ১৮২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার ছাড় করেছে। যা গত অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলার বেশি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, চলতি অর্থ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঋণ আকারে ১৫০ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং ৩১ কোটি ৯৭৭ লাখ ডলার ছাড় হয়েছে অনুদান সহায়তা হিসেবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অর্থ বছরের প্রথমদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হার পিছিয়ে পড়ায় বৈদেশিক সহায়তার ছাড়েও ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। তবে অর্থ ছাড়ে এগিয়ে থাকলেও নতুন প্রতিশ্রুতির পরিমাণ আগের সময়কালের তুলনায় কমেছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় হয়েছে মাত্র ২৮৪ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। গত অর্থ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি ছিল ৩৭৮ কোটি ডলার। ইআরডি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মার্চে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপানসহ বেশকিছু প্রতিশ্রুতি যুক্ত হয়েছে। ওইসব অর্থ যুক্ত হলে প্রতিশ্রুতির আকার অনেক বেড়ে যাবে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থ বছরের জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী সময়কালে এডিপি বাস্তবায়নে গতি বৃদ্ধি পায়, সেই সাথে গতি ফিরে পায় উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি ও অর্থ ছাড়ে। অর্থ বছরের আটমাসে অর্থ পরিশোধের পরিমাণ এবার কিছুটা কমেছে। বিগত অর্থ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে সুদ ও আসল মিলে উন্নয়ন সহযোগীদের অনুকূলে মোট ৮০ কোটি ৩১ লাখ ডলার পরিশোধ করা হলেও চলতি অর্থ বছরের একই সময় পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়েছে ৭৮ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসল হিসেবে ৬৪ কোটি ৪ লাখ এবং সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ১৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। ফলে পাওনা পরিশোধের পর বৈদেশিক ঋণের স্থিতি গত অর্থ বছরের তুলনায় বেড়েছে। আলোচ্য সময় পর্যন্ত বৈদেশিক সহায়তার সর্বোচ্চ ছাড় করেছে বিশ্ব ব্যাংক। এসময় সংস্থটি ৬৬ কোটি ৮৩ লাখ ডলার ছাড় করেছে। এরপরেই রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ছাড় করেছে ৩৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা (জাইকা) ছাড় করেছে ২২ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। চীন ২২ কোটি ৩৪ লাখ ডলার এবং ভারত ছাড় করেছে ৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার।