কেয়ামতের বিস্ময়কর আলামতসমূহ

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৪, ২০:০৪
কুফর অজ্ঞতা আর কুপ্রথার সয়লাব বিস্তার লাভের সাথে সাথে আল্লাহতায়ালা তাঁর আরও নিদর্শন পৃথিবীবাসীকে প্রত্যক্ষ করাবেন। সেইসব নিদর্শনের মাঝে অন্যতম একটি হল পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তের একটি এবং পশ্চিম প্রান্তের একটি স্থান ধসে পড়া।’ এই ভূমি ধসের ফলে তাকদীর অস্বীকারকারীরা ধ্বংস হয়ে যাবে। এছাড়া এ সময়েই পৃথিবীবাসী এক বিশাল ধোঁয়ার কুন্ডলী প্রত্যক্ষ করতে পারবে। এই ধোঁয়ার কুন্ডলী ক্রমশ:সমগ্র বিশ্বকে গ্রাস করে ফেলবে। ধোঁয়ার তীব্রতায় মানবকুল অতিষ্ঠ হয়ে পড়বে। সকলের মাঝে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করতে থাকবে। ফলে মুসলমানরা স্থূল বুদ্ধিসম্পন্ন, অনুভূতিশূন্য, ব্যুত্পত্তিহীন হয়ে পড়বে। ঠাণ্ডা বা সর্দিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তারা একেবারে দুর্বল ও ক্ষীণ হয়ে যাবে। কিন্তু কাফের এবং মুনাফেকরা এই ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে কেউ একদিন, কেউ দুইদিন, আবার কেউ তিনদিন অচেতন থেকে পুনরায় চৈতন্য ফিরে পাবে। চল্লিশ দিন পর্যন্ত এই ধোঁয়া সমগ্র পৃথিবীকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে রাখবে। এরপর ধীরে ধীরে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে (বুখারী, মুসলিম)। ধোঁয়ার আচ্ছাদন কেটে যাওয়ার পর জিলহজ্ব মাসের নয় তারিখ দিবাগত রাতটি খুব দীর্ঘতর হবে। রাতের দীর্ঘতা দেখে মুসাফিররা আতংকগ্রস্ত, শিশু বাচ্চারা নিদ্রা থেকে জাগ্রত, পশুপাখিরা আহারের জন্য ছটফট করবে, সর্বোপরি সারা দুনিয়ার মানবকুল ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে জোরে জোরে কান্নাকাটি শুরু করে দেবে। তারা মুখে ‘তওবা-তওবা’ শব্দ উচ্চারণ করতে থাকবে। হতাশা এবং নিরাশাগ্রস্ত মানুষ দিনের আলোর জন্য অস্থির হয়ে পড়বে। এমনি হতাশা ও নিরাশার মাঝে প্রায় তিন-চার রাতের মত দীর্ঘ হওয়ার পর চন্দ্রগ্রহণের ন্যায় সূর্য একেবারে ক্ষীণ ও সামান্য রৌশনীসহ পশ্চিমাকাশে উদিত হবে। এই অবস্থা দেখে সমস্ত মানুষ আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী হবে এবং মুখেও তা স্বীকার করতে থাকবে। কিন্তু ঐ সময় আর তাদের এই বিশ্বাস স্বীকারের কোন মূল্যই থাকবে না। তওবার দরজা তখন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর থেকে সূর্য আবার পূর্বদিক থেকে তার পূর্ণ উজ্জ্বলতা ও আলোকরশ্মি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদিত হতে থাকবে (আবু দাউদ, তিরমিজি)। পশ্চিমাকাশে সূর্য উদয়ের পরের দিন মানুষ এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনায় লিপ্ত থাকবে। এরই মাঝে কাবা শরীফের পূর্বপার্শ্বে অবস্থিত ‘সাফা’ পর্বত এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ফেটে খান খান হয়ে যাবে। আর এর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে এক অদ্ভুত প্রজাতির প্রাণী। দুনিয়ার সাতটি প্রাণীর বিভিন্ন অংগ-প্রত্যঙ্গের সাথে এই অদ্ভুত প্রাণীর সাদৃশ্য থাকবে। সেই অদ্ভুত প্রাণীর মুখাবয়ব হবে মানুষের মত। আর পা হবে উটের মত। গর্দান বা ঘাড় হবে ঘোড়ার গর্দানের ন্যায়। লেজ থাকবে গরুর লেজের মত। নিতম্ব হবে ঠিক হরিণের নিতম্বের মত। হাত বানরের হাতের সাদৃশ্যপূর্ণ হবে। আর শিং থাকবে সর্বমোট ১২টি। অত্যন্ত পরিমার্জিত হবে তার ভাষা। তার এক হাতে থাকবে হযরত মূসা (আ.)-এর লাঠি। অপর হাতে থাকবে হযরত সুলাইমান (আ.)-এর আংটি। সে প্রচণ্ড দ্রুতগতিতে এবং তীব্রবেগে গোটা পৃথিবী পরিভ্রমণ করবে। কোন মানব সন্তানের পক্ষে তার অনুসরণ করা সম্ভব হবে না। আর কেউ পালিয়ে গিয়েও তার হাত থেকে নিস্তার পাবে না। প্রত্যেক ব্যক্তিকে সে একটি বিশেষ চিহ্ন লাগিয়ে দিবে। ঈমানদার ব্যক্তিদের কপালে হযরত মূসা (আ.)-এর লাঠি দ্বারা একটি নূরানী চিহ্ন’ অঙ্কিত করে দিবে। এই চিহ্নের কারণে ঐ ব্যক্তির চেহারা আলোকজ্জ্বল হয়ে উঠবে। আর অবিশ্বাসী ব্যক্তির গর্দান বা নাকে হযরত সুলাইমান (আ.)-এর আংটি দ্বারা ‘কালো মোহর’ লাগিয়ে দেবে। এই মোহরের কারণে তার চেহারা বিষণ্নতা ও অনুজ্জ্বলতায় অন্ধকারাচ্ছন্ন মনে হবে। এমন কি একই দস্তরখানে চার-পাঁচজন খেতে বসলে কে ঈমানদার আর কে ঈমানহীন, তা সহজেই পার্থক্য করা যাবে। এই প্রাণীটির নাম হল—‘দাব্বাতুল আর্দ’। ঈমানদার ও ঈমানহীনদের এই চিহ্ন লাগানোর কাজ শেষ হলে হঠাত্ করেই সে উধাও হয়ে যাবে (মুসলিম)। পশ্চিমাকাশে সূর্য উদয় এবং দাব্বাতুল আরেদর আত্মপ্রকাশ থেকে হযরত ইস্রাফীলের শিঙ্গা ফুঁকা পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান হবে একশত বিশ বত্সর। দাব্বাতুল আর্দ উধাও হয়ে যাওয়ার পর দক্ষিণ দিক থেকে অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রবাহিত হবে। যাকে দখিনা বায়ু হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে (তেরমিযী)। কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার সর্বপ্রথম নিদর্শন বা আলামত হল—মানুষ তিন-চার বত্সর পর্যন্ত অলসতার মাঝে কাটিয়ে দেবে। দুনিয়ার প্রাচুর্য ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে। ব্যক্তিস্বার্থ মানুষের মাঝে চরম আকার ধারণ করবে। সম্পদের লোভে মানুষ অন্ধ হয়ে যাবে। এমন এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে মুহররম মাসের দশ তারিখে শুক্রবার মানুষ সকাল সকাল স্ব-স্ব কর্মস্থলে বের হয়ে পড়বে। (১) হঠাত্ ক্ষীণ স্বরে এক দীর্ঘ আওয়াজ মানুষের কানে ভেসে আসবে। এই আওয়াজই হল হযরত ইস্রাফীলের শিঙ্গার আওয়াজ। বিশ্বের সব স্থান থেকে এই আওয়াজ একই ধরনের শোনা যাবে। সকল মানুষ হতচকিত হয়ে বুঝার চেষ্টা করবে এ কিসের আওয়াজ? কোত্থেকে আসছে এ আওয়াজ? মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্রমে ক্রমেই এই আওয়াজ বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সময় যতই গড়াতে থাকবে আওয়াজ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে বজ্রের ন্যায় বিকট আকার ধারণ করবে। লেখক :সাংবাদিক, e-mail : [email protected]