ভয়াল একাত্তর

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৪, ২০:১৬
বাবার পেছন পেছন হাঁটছিলাম। দুপাশে পাকা ধানক্ষেত। বড় বড় ফড়িং উড়ছে। মাঠের বাতাসে মৌ মৌ মিষ্টি গন্ধ। পাশের ক্ষেতে এক জোড়া চখা-চখি উড়ছে। পাখি দুটো এক জায়গায় ঘুরে ঘুরে উড়ছে আর চেঁচাচ্ছে। আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম। আমার মনে হলো ওরা যেন কাঁদছে। বুকফাটা চিত্কারে প্রতিবাদ করছে। যেখানে পাখি দুটো উড়ছে, আমি ধান গাছ বিলি কেটে সেদিকে গেলাম। আমাকে দেখে পাখি দুটো একটুও ভয় পেল না, বরং তাদের কান্না যেন আরও বেশি মর্মস্পশী। ক্ষেতের মাঝে জর্মনি কচুর বড়-সড় একটা ঢিবি। সেখানেই পাখি দুটো উড়ছে। আমি কাছে যেতেই দেখি একটা বিশাল গুঁইসাপ। গপ গপ করে পাখির নীল নীল ডিমগুলো গিলছে। তার চোয়ালের পাশ দিয়ে হলুদ কুসুম গড়িয়ে পড়ছে। আমাকে দেখে গুঁই তার চেহারাটা ফুলিয়ে রাগ দেখাল। তারপর ফোঁস ফোঁস করে আমাকে ভয় দেখাতে দেখাতে সড়ে পড়ল। চখা-চখি কাঁদতে কাঁদতে বাসায় নেমে আসে। কিন্তু তাদের একটি ডিমও নেই। এই মৌসুমে তারা আর সন্তান পাবে না। হয়তো এই বেদনাদায়ক অবস্থা তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না। ওরা কাঁদছেই। ওদের কষ্ট দেখে আমারও কান্না আসছিল। বিষয়টা বাবাকে বললে, ইনি একটু হেসে বললেন, জীবনটা এই রকমই; একজনকে মেরে আরেকজন...। দূরের গ্রাম থেকে অনেকগুলো যুবক কাতার বেঁধে চিত্কার করে করে আসছে : জেলের তালা ভাঙবো, শেখ মুজিবকে আনবো। তকতকে উজ্জ্বল, উত্তেজিত সেই তরুণেরা আল-বাতর ডিঙিয়ে ছোট্ট গোপাট পাড়ি দিয়ে পাশের গ্রামে ঢুকে যায়। আমি বিমূঢ়ের মতো তাদের দিকে তাকিয়ে থাকি। একদিন বাবা অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হলেন। আমার যেন কী হারিয়ে গেল। কিছুই ভালো লাগে না। বাবার কথা বললেই মা মন খারাপ করে। একদিন শেষরাতে মা আমাকে টেনে তুললেন : জামা পড়ে নে, ঢাকায় যাবো। মুহূর্তে আমার ঘুম পালিয়ে গেল। বাবাকে দেখতে পাব আর তার সাথে ঢাকাও দেখা হবে। স্বপ্নের এক শহর। ঢাকার কথা কেউ বললে আমার কেমন জানি আজব আজব লাগে। কল্পনারও সীমা আছে; আমার কছে ঢাকা যে সেই সীমার বাহিরে! ট্রেনের জানলা দিয়ে মা দেখালেন : এই দেখ কমলাপুর ইস্টিশান। বিশাল একটা সাদা পাখি ডানা ঝাপটা দিয়ে নীল আকাশে উড়তে চাইছে! ইট-কাঠের ছোট ছোট ঘর-বাড়ি। মাঝে-মাঝে দুই-একটা তিন-চারতলা দালান। রাস্তায় দশ-কুড়িটা রিকশা। হঠাত্ দুই-একটা মোটর গাড়ি। আজব চিড়িয়া। চোখের পাতি মারতে ভুলে গেছি। অতীতে শোনা সব রূপকথাই এই ঢাকা শহরের কাছে পান্তাভাত হয়ে গেছে। আমি যেন শ্বাস ফেলতেই ভুলে যাই। শহরে অজস্র পতিত জমি। মাঝে-মাঝে কাঁটা-ঝোঁপ-জংলা। অসংখ্য আমাজামকাঁঠালের নিবিড় বন। সবুজ আর সবুজ। হঠাত্ শহরের নীরবতা ভেঙে দানবের মতো বেরিয়ে এলো একটা ট্রাক। পেছনে বাঁধা নুহের কিস্তির মতো চাকাওয়ালা কাঠের একটা বিশাল নৌকা। নৌকায় বুঝি চড়ে বসেছে শহরের সমস্ত আদম। তারা গলা ফাটিয়ে চিত্কার করছে : নৌকা মার্কায় দিলে ভোট ভবিষ্যতে হবে সুখ। বড়শি দিয়ে নদীতে মাছ ধরছিলাম। পেছন থেকে কে একজন ডাক দিয়ে বলল : তর বাবা নাই। তাড়াতাড়ি বাড়ি আয়। আমি ছিপ আর দুটো টেংরা মাছ নিয়ে বাড়িতে গেলাম। দূর থেকে মায়ের বুকফাটা কান্না শুনছি। চোরের মতো আমার মাথা নুয়ে পড়েছে অনেক আগেই। টেংরা মাছ দুটো আর ছিপটা যে কোথায় রাখি? একজন আমাকে ধরে বাবার কাছে নিয়ে গেল। তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমি বাবাকে না-দেখে এক দৌড়ে বেরিয়ে এলাম। সোজা মাঠের বড় জাম গাছটায় গিয়ে চড়ে বসি। পৃথিবীটা কত বড়! তিন মাইল দূরের রেলপথ আর রেলস্টেশন যেন হাতের কাছের জিনিস। একটা ট্রেন সাপের মতো এঁকেবেঁকে যাচ্ছে। সারাটা দিন গাছে বসে ভাবলাম : এখন আমাকে কে সাথে নিয়ে গিয়ে কীর্তন শোনাবে। আমি কার সাথে আখড়ায় যাব, গফুর বাদশা, কাজলরেখা আর রূপবানের পালাগান শুনতে। বড় ভাইকে আমি ভয় পাই। সে শুধু মারে। যতই পড়ি আরও পড়তে বলে। তাকে ফাঁকি দিয়ে কত দিন বাবা আমাকে আখড়ায় নিয়ে গেছে কীর্তন শোনাতে। ঘরের চেয়ে এখন বাইরে সময় কাটাতে আমার বেশি ভালোলাগে। ঘরে আসলেই দেখি মায়ের চোখে জল। আমার শরীর কেন জানি হিম হয়ে আসে। কোনো কিছুতেই আনন্দ পাই না। তাই বাড়ির চেয়ে নদীরপাড়, বিলপাড় আর পালপাড়া অনেক স্বস্তির। খুব দ্রুত যেন আমার চারপাশ বদলে যাচ্ছে। গ্রামের মানুষ আউশ ধান আর পাটের বীজ বপনে মগ্ন। কিন্তু আমি দেখছিলাম অন্য জিনিস। কর্ম ব্যাস্ততার মাঝেও মানুষের মনে, আচরণে কেমন যেন একটা ভয় দানা বাঁধছে। কী যেন একটা রাহুর মতো হা-করে এগিয়ে আসছে। সন্ধা হলেই বাড়ির যুবা-বুড়ো সবাই রেডিও চালু করে গম্ভীর হয়ে শোনে। শীত শেষ। গাছে গাছে নতুন পাতার কুঁড়ি ফুটতে শুরু করেছে। এক বিকালে আমরা বৌচি খেলছিলাম। দেখলাম গ্রামের সড়ক ধরে অচেনা মানুষের কাফেলা। ঢাকার শহরে যেন মড়ক লেগেছে; এমনি আতঙ্কে মানুষ-জন গ্রামের দিকে ছুটে আসছে। সবখানে মানুষের মুখে দেশের কঠিন অবস্থার কথা। প্রতিদিন শহরত্যাগী মানুষের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। সাথে ছোট ছোট দলে ইপিয়ারের লোকজন। কারও গায়ে খাকি পোশাক, হাতে রাইফেল। পাড়ার তরুণরা ইপিয়ারের লোক পেলেই আটক করে : তোমরা অস্ত্র নিয়ে পালাচ্ছ কেন? লোকগুলো বোবার মতো তাকিয়ে থাকে। সহজে মুখে কথা ফোটে না। ভয়ে কবুতরের মতো কেঁপে-কেঁপে বলে : এই নেন রাইফেল, আফনেরাই লড়াই করেন। ঢাকা এখন কারবালার ময়দান। পাঞ্জাবিরা বাঙালি ইপিয়ারদেরে মাইরা সাফ করছে। এক বিকালে আমরা চষা জমিনে ঘুড়ি উড়াচ্ছিলাম। পুব দিকে টানা ঘু্রম-ঘু্রম শব্দে আমরা সবাই ভড়কে গেলাম। সেদিকে রেল সড়ক। ট্রেন গেলে, কয়েকটা গ্রামের ফোক্কর দিয়ে আবছা দেখা যায়। ঘু্রম-ঘু্রম শব্দটা ক্রমশ বাড়ছেই। ভয়-বিহ্বলতা কাটিয়ে আমরা পুবের নীলিম আকাশ, গ্রামের কালচে-বিষণ্ন রেখার দিকে তাকালাম। সবই ঠিক-ঠাক। তবু কোত্থেকে হাজার দানবের হুঙ্কার ভেসে আসছে! সেই যান্ত্রিক উন্মাদনার ভাষার সাথে তখনও আমরা অপরিচিত। একটু পরেই টের পেলাম, রেল-রাস্তার দিক থেকে শব্দগুলো আসছে। ওই দিকের লোকালয় থেকে ততক্ষণে শত-শত আদমেরা যেন উড়ে আসছে আমাদের গ্রামের দিকে। তাদের মরণ-চিত্কারে সুচিক্কন বিকালের চকচকে দিগন্ত-রেখা তছনছ হয়ে যায়। শিক্ষিত-বড়দের মুখ থেকে জানা গেল : পাকিস্তানি সেনারা দেশ দখল করে এগিয়ে যাচ্ছে উত্তরের জেলা শহরের দিকে। সূর্যের বিধুূর মুখটা পশ্চিমে ডুবে গেলে, আবহমান বাংলার শীতল গ্রামগুলো বিচ্ছিরি এক অন্ধকারে তলিয়ে যায়। খেটে-খাওয়া ক্লান্ত মানুষেরা ভয়ার্ত চোখে ফিরে যায় আপন-আপন ডেরায়। বিভিন্ন স্টেশনে, সেতু-কালভার্ডে পাকিস্তানি সেনারা কিছু কিছু সৈন্য রেখে যায়। যারা একটু পর পর অবিরাম গুলি বর্ষণ করে ভেঙে-পড়া বোবা গ্রামগুলোতে কলেরার মতো আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তী দিনগুলো যেন শুরু হয় জল্লাদের ইস্তেহার দিয়ে। কোনো পরিবারের লোকজন হয়তো খেতে বসেছে, হঠাত্ অসংখ্য মানুষের আর্তনাদ, গুলির শব্দ আর ছোটাছুটিতে পাশের গায়ে তাণ্ডব শুরু হয়ে গেল : দেখা-দেখি এদিকেও চিত্কার ওঠে; পালাও পালাও। ভেড়ার পালের মতো জ্ঞানশূন্য অসহায় মানুষেরা পাতের ভাত ফেলে ছুটতে শুরু করে। একটু পরেই খবর আসে : লাশ ফেলে, বাড়ি পুড়িয়ে, গরু ও নারী নিয়ে পাক-সেনারা রেল-সেতুর বাংকারে ফিরে গেছে। হুলুস্থূল, ছোটাছুটি, গুলিতে এফোঁড়ওফোঁড় তড়তাজা লাশ, মুহূর্তে ভস্ম-হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের অঙ্গার দেখে-দেখে বাংলার কোমলপ্রাণ মানুষগুলো ভয়ানকভাবে বদলে যায়! দূরে কোথাও হঠাত্ জ্বলে ওঠা দাউদাউ বাড়িটির দিকে একটু তাকিয়ে, পরক্ষণেই পানশে মুখটা ঘুরিয়ে নেয়। যেকোনো জীবন্ত সর্বনাশ এখন আর তাদের রক্তকে আলোড়িত করে না। কৃষক তার নাঙল-কোদাল ছুঁয়েও দেখে না। নিজের চাষের জমিটা অবলীলায় পতিত পড়ে থাকে। তাদের ভেতরের নিরাসক্ত বৈরাগ্যটি কিন্তু বেশি দিন টেকে না। তরুণেরা গ্রাম থেকে দলে দলে হাওয়া হয়ে যেতে থাকে। মারাত্মক প্রশিক্ষণের জন্য পাড়ি দেয় ভারতে। বয়স নির্বিশেষে কিছু ক্ষুদ্র-মনের মানুষ মেতে ওঠে জঘন্য আদিমতায়। ব্যক্তিগত রেশারেশির জের ধরে শুরু হয় খুন-ডাকাতি-ধর্ষণ। রেল সেতুর বাংকার থেকে গুলির শব্দ না-এলে এখন মানুষের শরীর নিশপিশ করে। এলএমজির তেরতেরানি না-শুনলে রাতের ঘুমটা তাদের জমে ওঠে না। এক দানবীয় উত্তেজনায় বাংলার প্রতিটি মুহূর্ত যেন জ্বলতে থাকে। বেঁচে আছি এরচে’ আর বেশি কী? মারো-কাটো-খাও। পুকুরের মাছ, হাঁস-মুরগি, ছাগল-ভেড়া শেষ হলে কৃষক তার পুত্রের চে’ প্রিয় হালের বলদটি ধরে আনে। সবাই মিলে জবাই কর। খাও। কাল-তো বেঁচে না-ও থাকতে পারি। আজরাইল কোন ছার? বাংকারের নাদুসনুদুস রাজাকারের রাইফেলটাই তো...। রাত হলে অঘ্রানের লক্ষ্মীর মতো পিল-পিল পায়ে গ্রামে এখন মুক্তিযোদ্ধারা হাঁটে। মা আমার কান্না ভুলে গেছে। চারপাশে এত বর্বরতা, মৃত্যু আর বেওয়া-বিধবার হাহাকার, তাতে নিজের একান্ত কান্নাটুকু নিজের কাছেই যেন বেমানান লাগে। বিকালের ম্লান আলোয় চৌকাঠে দাঁড়িয়ে মা আমাদেরকে ডেকে নিয়ে ঘরে তোলে। মায়ের আলুনি চেহারা আর কণ্ঠের বিষাদে আমার হূদয়টা দুমড়ে ওঠে। ঘরের ঝাপসা গুমোটে মা আমাদের পাখির ছানার মতন বুকে নিয়ে বসে থাকে। অজানা কষ্টে আমার দুচোখ জলে ভরে আসে। ইচ্ছা করে ছুটে গিয়ে মাঠের জামগাছটার মগডালে চড়ে বসি। কোনো কোনো দিন গভীর রাতে কারা যেন বড় ভাইকে ডেকে তোলে। ফিসফিস করে কথা বলে। ভাই ঘরে এসে চিড়া-মুড়ির টিন আর গুড়ের দলা নিয়ে ফিরে যায়। মায়ের চোখ দুটো অপার স্নেহে ছলছল করে। টুপ করে বিছানা ছেড়ে ভাত রাঁধতে বসে যায়। পাশের ঘরে ফিসফিস করে আলাপ চলছে। আমি টিনের ছেদা দিয়ে দেখি : কয়েকজন বিধ্বস্ত চেহারার ক্ষুধার্ত তরুণ। পাশে রাইফেল রেখে হাত না-ধুয়েই গপগপ করে খাবার গিলছে। তাদের ঝলঝলে চোখের আগুন পেটের আগুনকেও যেন হার মানায়। ততদিনে নদী দিয়ে লাশ আসতে শুরু করেছে। প্রথম প্রথম গুনাগুন্তি। আমরা খবর পেয়ে নদীর দিকে ছুটি। অর্ধগলা লাশের চারপাশে ছোট মাছের ঝাঁক। খুলিহীন মস্তকে বসে কাকেরা কা-কা আমোদে আত্মহারা। এসব দেখে বয়স্ক মানুষের চোখের আলোটুকুও দপ করে নিভে যায়। চারপাশে আগুন, গুলি, লাশ, ধর্ষণ; এরই মাঝে স্রেফ বেঁচে থাকার ভরসায় ডুবন্ত মানুষেরা শূন্য বুক হাতড়ে-হাতড়ে বাড়ি ফেরে। দিন কয় বাদেই অল্প-অল্প লাশের চমক তলিয়ে যায় অসংখ্য মৃতদেহের উপচে-পড়া স্রোতে। অনুভূতিশূন্য এক আদিম নেশায় কর্মহীন মানুষেরা নদীপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। বিড়ি টানে, নিচুগলায় আলাপ করে। রুপার গহনায় হীরে-মানিকের বুটির মতো পাকিস্তানি সেনাদেরও দু-একটি করে লাশ আসতে শুরু করলে মানুষ আনন্দ-উত্তেজনায় কলরব করে ওঠে। কেউ-কেউ বাঁশের লম্বা লগি নিয়ে নদীতে নেমে যায়। অন্ধ আক্রোশে, বিজাতীয় ঘেন্নায় পাকিস্তানির কামড়ে ধরা খাকি পোশাকটাকেই খুঁচাতে থাকে। পাড় থেকে একজন বুড়ো চেঁচিয়ে ওঠে : নডির পুতের মুখটা উল্ডায়া দেখছা মার বুহের দুধ খাছিন কি-না। একদিন দুপুরে, সর্বস্বান্ত চেহারার এক মাঝবয়েসি পুরুষ নদীর বাঁক ধরে হেঁটে আসে। তার সমান্তরালে নদীতেও একটা লাশ স্রোতের ঘা খেয়ে-খেয়ে ভেসে আসছে। পাড় থেকে নুয়ে-পড়া একটা বাঁশে এসে লাশটা আটকে যায়। পারের মানুষটি দাঁড়িয়ে পড়ে। একটু যেন ভাবে। তার দুচোখে নরকের আগুন। লোকটা নদীতে বুক সমান জলে নেমে যায়। লাশটার পা ধরে টেনে পাড়ে নিয়ে আসে। মুখটা উল্টিয়ে শনাক্ত করে। চিনতে পেরে পাগলের মতো হাসে আর বলে : কই যাইবা চান, আমি তোমার লগে-লগে। পায়ের একটা জুতু দিয়ে লাশটার মুখে উন্মাদের মতো পেটাতে শুরু করে। মানুষটা লাশটার মুখে খালি পিটায় আর চিত্কার দিয়ে বলে : আমার মেয়ে কই, আমেনার মা কই? খুব রাজাকার অইছচ...না? লোকটা পকেট থেকে একটা চাকু বের করে। বাজের মতো খাবলা দিয়ে রাজাকারের লিঙ্গটা কেটে এনে ওর মরা মুখে ঢুকিয়ে দেয়। অনেক পরে জল-কাদায় মাখামাখি মানুষটা নদী থেকে উঠে আসে। মাথার ওপর অনন্ত নীলে ছাওয়া বিধাতার এক খণ্ড আকাশ। মানুষটা সেই দিকে থুথু ছিটাতে-ছিটাতে চিত্কার দিয়ে বলে : খোদা... খোদারে..., তুই না কোরানে কইছচ দুনিয়াডা খুব ইনসাফের।