কবির আত্মপক্ষ

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৪, ২০:১৭
মিথ্যেবাদী-তস্কর বলে যারা আমাকে টেনে কাঠগড়ায় নিয়ে এলো মাননীয় আদালত, আপনি বিচার করে নির্ধারণ করে দিন আমার দায়। আপনার বিচক্ষণতার প্রতি আমার শতভাগ আস্থা, আপনিই বলে দিন চাঁদের জোছনা নিয়ে আমি যে বেসাতি করেছি তা কতোটুকু ভুল? আমার আর্জি খুলে দেখুন, আমি প্রজাপতির ডানা থেকে কতোবার তুলে নিয়েছি বিমুগ্ধ রঙ, মেঘের আকাশ থেকে জল নিয়ে কতোদিন ভিজিয়েছি ঠোঁট, তারপর চুম্বনে উপভোগ করেছি শরীরী যৌবন, সবকিছু লেখা আছে সন-তারিখ দিয়ে, আমি মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে আকাশের গোলাঘর থেকে চুরি করিনি নীল, দিগন্তের গোধূলি স্বেচ্ছায় জমা রেখেছে তার মুহূর্তকাল, আমি কিছু বলার আগেই কোকিলের কুহু ডাক ঢুকে গেছে আমার দেরাজে, বসন্তের ফুলেল সৌরভ দরোজা ভেঙে ছড়িয়ে পড়েছে শয্যায়, জীবন্ত নারী-ভাস্কর্য মধ্যরাতে হুটহাট এসে আমাকে হরণ করে নিয়ে গেছে অগ্নিগঙ্গায়, মাননীয় আদালত, তবে আমি কেন তস্কর হবো? মিথ্যেবাদী হবো? আমার অতিরিক্ত এফিডেভিটে আমি বর্ণনা করেছি আমার ঠোঁট কীভাবে চিবুক থেকে সরে গেছে স্তনে, হাত কীভাবে খুঁজে পেয়েছে দেহের কারুকাজ, আর পরিত্যক্ত জমিতে বীজ বোনার আগে আমি কতো ঘণ্টা শ্রম ব্যয় করেছি নিবিড় পরিচর্যায়। আমিও তো মানুষ, আমারও তো শরীর আছে। তবুও কেন আমাকে অভিযুক্ত করে এই কাঠগড়ায় উঠিয়ে দেয়া হলো মাননীয় আদালত? একজন প্রেমিক কবির কী ক্ষমতা আছে যে মিথ্যেবাদী-তস্কর হয়?