‘ঝুঁকি নিয়ে চুরি করি মজা লোটে নেতারা!’

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৬
ভাল কাজ শিখিনি। শিখেছি চুরি, ছিনতাই আর খুন খারাবি। তবে এ কাজ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা জড়িতরাই ভাল বুঝতে পারবে। তবে দুঃখ একটাই টাকার জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করি, আর মজা লোটে নেতারা। এসব নেতাদের কারণে আমাদেরকে অনেক সময় বড় ধরনের কাজ (খুন খারাবি) করতে হয়। আমরা ধরা পড়ি। নেতারা ধরা পড়ে না। তাদেরকে কেউ স্পর্শ করতে সাহস পায় না। তারা সব সময় থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এরা নিজেদেরকে ভাল মানুষ বলে সবার কাছে জাহির করে। - পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রামে দুই বন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত গ্রেফতারকৃত চার আসামি। এরা হচ্ছে জাহাঙ্গীর ওরফে ছোটন, শাহ আলম, সাদ্দাম হোসেন ওরফে বাছা মিয়া ও শাহেদ। তাদের মধ্যে তিনজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা দলবল নিয়ে ১৫ মার্চ রাতে হত্যা করে কলেজ ছাত্র কামরুল হাসান (১৮) ও তার বন্ধু গার্মেন্টস কর্মী ফোরকান উদ্দিনকে। পরে লাশ ফেলে রাখে খুলশী থানাধীন ২ নম্বর গেইটস্থ কবরস্থান সংলগ্ন নির্মাণাধীন ভবনের সেপটি ট্যাংকে। পরের দিন ১৬ মার্চ খুলশী থানা পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি বাবুল আক্তার জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর ওরফে ছোটন ঘটনার পরের দিন পাঁচলাইশ থানা পুলিশের এক গাড়ি চালককে (পূর্ব পরিচিত) ট্যাংকে লাশ থাকার কথা জানায়। ঐ চালক সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি খুলশী থানা পুলিশকে জানায়। এরপর উদ্ধার করা হয় দু’জনের লাশ। পরবর্তীতে পুলিশ গ্রেফতার করে জাহাঙ্গীরকে। আর তার দেয়া তথ্য মতে গ্রেফতার করা হয় অপর তিনজনকে। গ্রেফতারকৃতরা সবাই পেশাদার অপরাধী। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তাদের মত বেশ কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে চট্টগ্রামে। তবে এদের বেশি দৌরাত্ম খুলশীর ২ নম্বর গেইট ও ষোলশহর এলাকায়। এরা গাড়ি থেকে মালামাল নামানোসহ চুরি, ছিনতাইয়ের কাছে লিপ্ত। তাদেরকে পুলিশে ধরিয়ে দেবার ভয় দেখিয়ে অনেকেই তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অংকের টাকা আদায় করে থাকে। এদের অনেকের রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলশী থানার সাব-ইন্সপেক্টর রাসেল মিয়া জানান, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, নিহত ফোরকান ও কামরুল তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিত। আর এ নিয়ে তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। এ বিরোধের জের ধরেই কামরুল ও ফোরকানকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তারা হত্যা করে। হত্যার সঙ্গে জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শাহ আলম, শাহেদ ও বাছা মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। অপরদিকে জাহাঙ্গীরকে ৫ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে। চার আসামি বর্তমানে চট্টগ্রাম কারাগারে রয়েছে। এডিসি বাবুল আক্তার আরও জানান, গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীরের বাড়ি নেয়াখালির সেনবাগে। বাছা মিয়ার বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে, শাহেদের ফটিক ছড়িতে, শাহ আলমের বাড়ি খাগড়াছড়ির মহলছড়ি। তারা সবাই ভাসমান। ছোটখাট চুরি ছিনতাই দিয়ে তাদের জীবন শুরু। আঠারো থেকে ছাব্বিশ বছরের মধ্যে সবার বয়স। পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছে বেশ কয়েকবার। কথিত নেতাদের (যারা চাঁদা নেয়) বদলৌতে তারা দ্রুত জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার ফিরে এসেছে অপরাধ জগতে। গ্রেফতারকৃতরা বলেছে, তারা ভাল হতে চাইলেও ভাল হবার কোন পথ তাদের খোলা নেই। তাদেরকে সবাই ব্যবহার করে। পুলিশের এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও বলেন, কথিত ঐসব নেতাকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। সেপটি ট্যাংক থেকে দুই বন্ধুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও খুনীদের গ্রেফতারে খুলশী পাঁচলাইশ থানা পুলিশের পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই সন্তোষ কুমার চাকমা, এসআই আফতাব হোসেনের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করে সিএমপি পুলিশ। এ বিশেষ টিম ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর, লক্ষ্মীপুর ও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করে।