দিনে ভ্যানে করে ফল বেচেন ইসমাইল। রাত কাটান গাড়িতে শুয়ে। মেসে থাকলে পনেরশ’ টাকা দিতে হয়। তাই এই ব্যবস্থা। কুড়িগ্রামের ইসমাইল ঢাকায় আসেন নিজের ভাগ্য গড়তে। আগে গ্রামে মুদি দোকান করতেন। পোষাতে না পেরে ঢাকায় চলে আসেন বেশি আয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার জন্য। এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি, তবে সংগ্রাম চলছে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের পাশে দেখা মেলে তার। প্রচণ্ড রোদে দাঁড়িয়ে আছেন ভ্যানসমেত। ভ্যানে আছে মৌসুমী নানা জাতের ফল। কাওরান বাজার বা সদরঘাটের কাছে ওয়াইজঘাট এলাকা থেকে তরমুজ, বেল, আনারস, বাঙ্গি, ডাব, কলাসহ বিভিন্ন ফল এনে এই এলাকায় তিনি বিক্রি করেন। অষ্টম শ্রেণী পাস ৩৫ বছরের যুবক ইসমাইল দিনে মুনাফা করেন ৩/৪শ’ টাকা।
তিনি জানালেন, ‘গ্রামের চেয়ে ভালো আছি। বাড়িতে স্ত্রী ছেলেমেয়েদের জন্য টাকা পাঠাই। দুই সন্তান স্কুলে যায়। সেই খরচও যোগান দিতে হয়। তবে এ জন্য ঢাকায় নিজে একটু কষ্ট করেই চলতে হয়। দিনে প্রচণ্ড গরমে কষ্ট যেমন, রাতটাও আরাম করতে পারি না। থাকার খরচ বাঁচানোর জন্য পরিচিতজনের গাড়িতে (মাইক্রোবাস) শুয়ে রাত কাটিয়ে দেই।’
ইসমাইল বলেন, মেসে থাকলে ১৫শ’ টাকা ভাড়া দিতে হয়। এই টাকা বাঁচানোর জন্য রাতে কয়েক ঘণ্টা গাড়িতে কাটিয়ে দেই। ভোর রাতের দিকে ভ্যান নিয়ে সদরঘাট বা কাওরান বাজারে মাল কিনতে যাই।
এই উদ্যমী যুবকের ইচ্ছা, কোন মার্কেটের ভেতরে একটি দোকান দেয়ার। কিন্তু ইচ্ছা পূরণের জন্য বড় পুঁজি দরকার। ওই পুঁজি যে তার নেই। তবে স্বপ্ন আছে, স্বপ্ন ধরে রাখতে চান তিনি। হয়তো একদিন সত্যিসত্যিই বড় ফল ব্যবসায়ী হবেন তিনি।
একই এলাকায় ফল বিক্রি করছেন গোপালগঞ্জের মাজেদ। বড় সংসারের খরচ যোগাতে গিয়ে বড় পুঁজি গড়ে তোলা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। এখনো ভ্যানে ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা তিনি। তিনি বললেন, ‘পুঁজি না থাকলে রুজি হয় না। নইলে এতদিনেও ভ্যানেই ফল বেচতে হয়!’ ঘাম মুছতে মুছতে আক্ষেপ করলেন এই জীবনযোদ্ধা।
ইসমাইল কিংবা মাজেদের মত সহস্র উদ্যোগী পাওয়া যাবে, যারা জীবিকার তাগিদে মৌসুমী ফল ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। পাড়ামহল্লায় ফল বিক্রি করে অর্জিত আয় দিয়েই চলে তাদের সংসার। কারো প্রতি কোন বিদ্বেষ নেই। ‘কপালে লেইখ্যা আনছি’ তাই এভাবেই দিন কাটাতে হচ্ছে মাজেদের মত সহস্র ইসমাইল কিংবা মাজেদের।
