দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর ১ ও ২ আসন থেকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী শেখ আফিল উদ্দিন ও মনিরুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১১টায় নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে তারা এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন। শুনানির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ জানিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে আগামী রবিবার সিদ্ধান্ত জানাবে কমিশন।
গত ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনী এক মতবিনিময় সভায় শেখ আফিল উদ্দীন যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের ভোটকেন্দ্র দখল করে বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল ইসলামকে বিজয়ী করে আনন্দ মিছিল করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। ২ জানুয়ারি আফিল উদ্দিনের ওই বক্তব্যের সিডি সাংবাদিকদের হাতে পৌঁছায়। পরে আফিলের বক্তব্যের সিডি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়া হয়। এছাড়া নির্বাচনের দিন ঝিকরগাছা এবং চৌগাছায় ব্যালট ছিনতাই করে সিল মারার অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন কমিশন যশোর-১ (শার্শা) আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত শেখ আফিল উদ্দিন ও যশোর-২ আসন থেকে নির্বাচিত মনিরুল ইসলামকে আচরণবিধি লংঘনের দায়ে শোকজ করে। বেসরকারিভাবে বিজয়ী এই দুইপ্রার্থী নোটিশের জবাবের সঙ্গে কমিশনে নিজেদের পক্ষে শুনানির আবেদন করেন। একই সঙ্গে তারা আদালতেরও দ্বারস্থ হন। হাইকোর্ট আফিল ও মনিরুলকে কেন সংসদ সদস্য ঘোষণা করা হবে না মর্মে কমিশনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জবাব দিতে বলে। পরে আদলত দুই প্রার্থীর বিষয়টি কমিশনে মীমাংসা করার জন্য দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দেয়। আদালতের রায়ের কপি পাওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ওই দুই প্রার্থীর ব্যক্তিগত শুনানি করে কমিশন।
এদিকে শুনানি শেষে শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, তিনি আচরণ বিধি লংঘন করেছেন বলে মনে করেন না। তবু যদি আইনের দৃষ্টিতে অন্যায় হয়ে থাকে তা হলে যা হওয়ার তাই হবে। মনিরুল ইসলাম জানান, তারা কোনো আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেননি। তারপরও যদি অগোচরে কোনো অপরাধ ঘটে থাকে, সেজন্যে কমিশনের কাছে তারা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
