আগামী পাঁচ বছরের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আগামী (২০১৪-১৫) অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ করছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, সরকার কতোদিন থাকবে সেটা কোনো বিষয় নয়, প্রথম বাজেটেই তুলে ধরা হবে সরকারের ‘ভিশন’। গতকাল সচিবালয়ে থিঙ্কট্যাংকদের সাথে প্রথম প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় থাকলে এটা বিনিয়োগের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগ নীতিমালা রয়েছে। আর বিভিন্ন কারণে মিড-টার্ম ইলেকশন তো হতেই পারে। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনীতির সবচেয়ে দুর্বল দিক হচ্ছে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে শ্লথগতি। গত ৫ বছরে বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধির হার হচ্ছে মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশ। এখানে একটি বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে।
বৈঠকে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস), পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ও ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ গ্রুপ (ডিআরজি)-এর বিভিন্ন গবেষক ও অর্থনীতিবিদ অংশ নেন। অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হবে নীতি কাঠামোর বিষয়ে। প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো ও বেসরকারি খাতের আস্থা অর্জনেও বিশেষ জোর দেয়া হবে।
তিনি বলেন, চলতি বছর রাজস্ব প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী বাজেটে এটা ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। আর রাজস্ব আদায় বাড়লে ব্যয়ও প্রায় ৫ শতাংশ বাড়বে। অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেকে এ রকম পরামর্শ দিচ্ছেন যে, যেহেতু প্রচুর অলস অর্থ আছে, তাই বাজেট ঘাটতি বাড়লে ক্ষতি নেই। কিন্তু আমি এর সম্পূর্ণ বিরোধী। বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের বেশি রাখার কোনো ইচ্ছেই আমার নেই।
বাজেটের আকার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকারের ওপর নির্ভর করে আগামী বাজেটের আকার চূড়ান্ত করা হবে। সংশোধিত বাজেটের আকার ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। আগামী বাজেটের আকার আড়াই লাখ কোটি টাকা হতে পারে, তবে এটা চূড়ান্ত নয়।
আগামীতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হবে। এটা তারা নিজেরাই খরচ করতে পারবে। তবে এটা কবে থেকে কার্যকর করা হবে সেটা বলা সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রশ্নের জাবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে ৭টি বিভাগীয় জেলায় জেলা বাজেট ঘোষণা করা হবে। তবে কোনো বরাদ্দ থাকছে না। পরবর্তী (২০১৫-১৬) বছর থেকে বরাদ্দ দেয়া হবে।
আইনগত পদক্ষেপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন’ সংসদের আগামী অধিবেশনে পাস হতে পারে। এছাড়া প্রত্যক্ষ কর আইনের একটি খসড়া করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটি চূড়ান্ত করা হবে। তবে কোন বছর থেকে এটা কার্যকর করা হবে সেটা এখনো ঠিক করা হয়নি।
ব্যাংকিং খাত সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরো কর্তৃত্ব রয়েছে। তারা শুধু ব্যাংকের পরিচালকদের চাকরিচ্যুত করতে পারে না। কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অব্যাহতি দেয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তারা যেসব প্রস্তাব দিয়েছেন এরমধ্যে ইউনিয়ন কাউন্সিলে বাজেট বরাদ্দ, ভূমি ব্যবহারে পরিকল্পনা প্রণয়ন, কৃষি জমির স্বল্পতা ও সেচ সমস্যার সমাধানে কৃষি বহুমুখীকরণ এবং হাইব্রিডের পরামর্শ রয়েছে। এছাড়া পিপিপি, ব্যাংকিং সিস্টেম ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা, রফতানিকারকদের নগদ সহায়তা কমিয়ে আনা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
বৈঠকে অর্থনীতিবিদরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বিষয়টির সাথে একমত পোষণ করেন।
