গল্প নয় সত্যি

ইচ্ছা থাকলে...

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৪, ২০:২৮
ইচ্ছাশক্তি দিয়ে মানুষ যে কত অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে সেটা যুগে যুগে অনেকেই নানা ভাবে করে দেখিয়েছেন। আর মানুষের ইচ্ছাশক্তির এই জয়ের অনবদ্য আরেকটি দৃষ্টান্তই গেল ক’বছর ধরে স্থাপন করে আসছেন কানাডার উত্তর-পশ্চিম ক্যালগেরির অধিবাসী ওয়েন চ্যাপম্যান। এক দুর্ঘটনায় দু’হাতের দশটি আঙ্গুল হারানোর পরও গাড়ির টায়ারের একটি দোকানে দিব্যি কাজ করে আসা চ্যাপম্যান সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আলবার্টার ডার্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ ত্রিশ তালিকায় স্থান করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে। যেখানে ডার্ট এর মতো খেলায় হাতের আঙ্গুল দিয়ে সঠিক ভাবে তীর বা ডার্ট ধরে সেটিকে নির্ভুল নিশানায় ছুঁড়ে মারাটাই সবচেয়ে জরুরি সেখানে আঙ্গুল না থাকার প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেই শহরের বাঘা বাঘা অনেক খেলোয়াড়কে পিছে ফেলেছেন চ্যাপম্যান। শুধু তাই নয় হাতের আঙ্গুল না থাকার পাশাপাশি এক চোখে না দেখতে পাওয়ার প্রতিবন্ধকতাও চ্যাপম্যানকে মোকাবেলা করতে হয় প্রতিনিয়তই। ডার্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্য পাওয়ার পর আলোচনায় আসা চ্যাপম্যান স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে জানান, আজ থেকে প্রায় বারো বছর আগে উত্তর কানাডায় একটি কাজে থাকার সময় অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা ‘ফ্রস্টবাইট’ এ তার হাতের আঙুলগুলো কর্মক্ষমতা হারায় এবং সে সময় তার জীবন বাঁচাতেই ডাক্তাররা আঙুলগুলোর সামনের বেশির ভাগ অংশ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। এতে কিছুদিনের জন্য তার জীবন থমকে গেলেও নিজের প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি দিয়ে ঠিকই সকল প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে সক্ষম হন তিনি। এমনকি একসময় হাতের আঙুল থাকা অবস্থায় যে টায়ারের দোকানে কাজ করতেন আঙুল হারানোর পরও কিছুটা বিরতি দিয়ে সেই দোকানে কাজ চালিয়ে গেছেন চ্যাপম্যান। শুধু তাই নয়, সবকিছু নিয়ে রসিকতা করতে ভালোবাসা চ্যাপম্যান আঙুলবিহীন অবস্থায় কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন বলেও মত দেন। অন্যদিকে নিজের ডার্ট খেলা নিয়ে তার মত হলো, সবার কাছে তার ডার্ট ধরার ভঙ্গিটি একটু অচেনা হলেও অন্য সবাই যেমন হাতের আঙুল দিয়ে ডার্টটিকে ছুড়ে মারেন সেখানে তিনি সেটিকে অনেকটা হাওয়ায় ভাসিয়ে দিয়ে সহজেই গন্তব্যে পাঠাতে পারেন। তবে মুখে চ্যাপম্যান বিষয়টিকে যত সহজই বলেন না কেন, নতুন দর্শক থেকে শুরু করে চ্যাপম্যানের দীর্ঘদিনের বন্ধুরাও বিষয়টিকে এখনও বিস্ময়কর বলেই অভিহিত করেন।